ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ট্রাকভাড়া নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা না থাকায় দরকষাকষির ওপর ভিত্তি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে। তার ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের চড়া দাম এবং বিভিন্ন সড়ক ও সেতুর টোলের কারণে পরিবহন ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি রুটভেদে ট্রাকভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন পাথর ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াত করে। এত বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো ভাড়া কাঠামো বা নিয়ম না থাকায় অরাজকতা থামছেই না। আমদানিকারকদের অভিযোগ, একই গন্তব্যে একেক সময় একেক রকম ভাড়া দিতে হচ্ছে। কখনো কৃত্রিম ট্রাক সংকট, আবার কখনো জ্বালানি খরচের অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির জন্য শুধু চালক বা মালিকদের দায়ী করতে রাজি নন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ট্রাকচালক কবির হোসেন ও শরীফুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল, টায়ার, মবিল ও খাবার খরচের পাশাপাশি সেতু ও মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল দিয়ে আগের ভাড়ায় ট্রিপ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক সময় ন্যায্য ভাড়া না পেয়ে লোকসানেও গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
ট্রাকমালিক শফিকুল ইসলাম জানান, গাড়ির চড়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে গাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন এবং চালকেরাও পেশা বদল করছেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, 'পরিবহন খরচ বেশি হলে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবেই অন্য বন্দরে চলে যান। ভোমরায় যাতায়াত ব্যয় বেশি হতে থাকলে এ বন্দরের সামগ্রিক আমদানি বাণিজ্য ধসে পড়বে।'
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, পরিবহন ব্যয়ের এমন অনিশ্চয়তা বন্দরের প্রতিযোগী সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ সাতক্ষীরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেন বলেন, পণ্যবাহী ট্রাকের সুনির্দিষ্ট ভাড়া কাঠামো তৈরির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই সরকারি পর্যায়ে বাস্তবসম্মত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ট্রাকভাড়া নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা না থাকায় দরকষাকষির ওপর ভিত্তি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকানো হচ্ছে। তার ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের চড়া দাম এবং বিভিন্ন সড়ক ও সেতুর টোলের কারণে পরিবহন ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সম্প্রতি রুটভেদে ট্রাকভাড়া বেড়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন পাথর ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক দেশের নানা প্রান্তে যাতায়াত করে। এত বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো ভাড়া কাঠামো বা নিয়ম না থাকায় অরাজকতা থামছেই না। আমদানিকারকদের অভিযোগ, একই গন্তব্যে একেক সময় একেক রকম ভাড়া দিতে হচ্ছে। কখনো কৃত্রিম ট্রাক সংকট, আবার কখনো জ্বালানি খরচের অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই ভাড়া বৃদ্ধির জন্য শুধু চালক বা মালিকদের দায়ী করতে রাজি নন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। ট্রাকচালক কবির হোসেন ও শরীফুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল, টায়ার, মবিল ও খাবার খরচের পাশাপাশি সেতু ও মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল দিয়ে আগের ভাড়ায় ট্রিপ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক সময় ন্যায্য ভাড়া না পেয়ে লোকসানেও গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
ট্রাকমালিক শফিকুল ইসলাম জানান, গাড়ির চড়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে গাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন এবং চালকেরাও পেশা বদল করছেন।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, 'পরিবহন খরচ বেশি হলে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবেই অন্য বন্দরে চলে যান। ভোমরায় যাতায়াত ব্যয় বেশি হতে থাকলে এ বন্দরের সামগ্রিক আমদানি বাণিজ্য ধসে পড়বে।'
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, পরিবহন ব্যয়ের এমন অনিশ্চয়তা বন্দরের প্রতিযোগী সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ সাতক্ষীরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেন বলেন, পণ্যবাহী ট্রাকের সুনির্দিষ্ট ভাড়া কাঠামো তৈরির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুতই সরকারি পর্যায়ে বাস্তবসম্মত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন