নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে ৮ দফা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের অর্থ সচিবালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এর ফলে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এবং ভবিষ্যতে যারা এই ধরনের পদে নিয়োগ পাবেন, সবার ক্ষেত্রেই এই ৮টি সিদ্ধান্ত সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। নতুন নিয়মের আওতায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চলমান চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ: ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের পূর্বে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাঁদের চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুসারে ১ জুলাই থেকে তাদের বেতন কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে উল্লেখ থাকা প্রযোজ্য ভাতাদি দেওয়া হবে। তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) বিধান এর আওতাভুক্ত থাকবে না।
২. নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ: ১ জুলাইয়ের পরে যারা নতুন করে চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাঁদের অবসরের অব্যবহিত পূর্বে পাওয়া মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে প্রযোজ্য বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন কার্যকর হতে পারে।
৩. পেনশন বাদ না দেওয়ার বিধান: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নির্ধারিত বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নির্ধারিত মোট গ্রস পেনশন (কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক) এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, তা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না।
৪. ইনক্রিমেন্ট ও অতিরিক্ত অবসর সুবিধা নেই: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির মেয়াদের জন্য কোনো ধরনের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন প্রদান করা হবে না।
৫. অবসরপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিদের শর্ত আলাদা নির্ধারণ: যেসব ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন, তাঁদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করবে।
৬. আগের অসংগতিপূর্ণ আদেশ বাতিল: নতুন এই প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পূর্ববর্তী সব আদেশ, স্মারক বা নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।
৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর থাকবে: প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা সম্পর্কে যা-ই বলা হোক না কেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে সময়ে যেসকল আদেশ জারি করবে, তা-ও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
৮. পূর্বের প্রজ্ঞাপন বাতিল ও কার্যকারিতা: অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা আগের প্রজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণ বাতিল করে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হলো। নতুন এই প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
/

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণে ৮ দফা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের অর্থ সচিবালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। নতুন এই সিদ্ধান্ত গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এর ফলে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া এবং ভবিষ্যতে যারা এই ধরনের পদে নিয়োগ পাবেন, সবার ক্ষেত্রেই এই ৮টি সিদ্ধান্ত সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। নতুন নিয়মের আওতায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. চলমান চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ: ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের পূর্বে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ১ জুলাইয়ের পরও বহাল রয়েছে, তাঁদের চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুসারে ১ জুলাই থেকে তাদের বেতন কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে উল্লেখ থাকা প্রযোজ্য ভাতাদি দেওয়া হবে। তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির (ইনক্রিমেন্ট) বিধান এর আওতাভুক্ত থাকবে না।
২. নতুন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ: ১ জুলাইয়ের পরে যারা নতুন করে চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাঁদের অবসরের অব্যবহিত পূর্বে পাওয়া মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে প্রযোজ্য বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ করা বেতন কার্যকর হতে পারে।
৩. পেনশন বাদ না দেওয়ার বিধান: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নির্ধারিত বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নির্ধারিত মোট গ্রস পেনশন (কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক) এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, তা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না।
৪. ইনক্রিমেন্ট ও অতিরিক্ত অবসর সুবিধা নেই: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির মেয়াদের জন্য কোনো ধরনের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন প্রদান করা হবে না।
৫. অবসরপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তিদের শর্ত আলাদা নির্ধারণ: যেসব ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন, তাঁদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করবে।
৬. আগের অসংগতিপূর্ণ আদেশ বাতিল: নতুন এই প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পূর্ববর্তী সব আদেশ, স্মারক বা নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।
৭. পরবর্তী সরকারি আদেশ কার্যকর থাকবে: প্রজ্ঞাপনে বেতন-ভাতা সম্পর্কে যা-ই বলা হোক না কেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রদেয় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে সময়ে যেসকল আদেশ জারি করবে, তা-ও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
৮. পূর্বের প্রজ্ঞাপন বাতিল ও কার্যকারিতা: অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা আগের প্রজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণ বাতিল করে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হলো। নতুন এই প্রজ্ঞাপনটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
/

আপনার মতামত লিখুন