সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বাদাঘাট ইউনিয়নে ওয়াটার পাইপলাইন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের প্রধান সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর কাজের সিডিউল অমান্য করার অভিযোগ এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাদাঘাট গ্রামের বাসিন্দা আমির শাহ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ট্যাংকে নিম্নমানের (২ নম্বর) ইট, বালি ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী ৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে পুরো পাইপলাইন স্থাপন করার কথা থাকলেও কেবল অল্প কিছু অংশে তা দেওয়া হয়েছে; বাকি পুরো লাইনেই ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ ও ২ ইঞ্চির পাইপ।
প্রকল্পের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পাইপলাইন স্থাপনের সময় গর্তের ভেতরে পাইপের নিচে ৬ ইঞ্চি এবং উপরে ৬ ইঞ্চি ফিল্টার বালি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। মাটি খুঁড়েই তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাইপ পুঁতে ফেলা হচ্ছে। এতে টেকসই সুবিধা পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে অনিয়ম বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী সঠিক ও টেকসই কাজ বাস্তবায়ন করা না হলে ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০০টি পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ মেয়াদের এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ করছে 'আদেল এন্টারপ্রাইজ'।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আদেল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মিজান বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। সিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। অনেক গর্তেই স্বাভাবিকভাবে বালি থাকায় অতিরিক্ত বালি দিতে হয়নি। স্থানীয়দের কিছু অসংগত দাবি না মানায় মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
তাহিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন জানান, কাজের শিডিউল অমান্য করা হলে বা কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অধীনে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের বাদাঘাট ইউনিয়নে ওয়াটার পাইপলাইন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারের প্রধান সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই কর্মসূচির আয়োজন করেন।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর কাজের সিডিউল অমান্য করার অভিযোগ এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাদাঘাট গ্রামের বাসিন্দা আমির শাহ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণাধীন ট্যাংকে নিম্নমানের (২ নম্বর) ইট, বালি ও পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী ৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে পুরো পাইপলাইন স্থাপন করার কথা থাকলেও কেবল অল্প কিছু অংশে তা দেওয়া হয়েছে; বাকি পুরো লাইনেই ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ ও ২ ইঞ্চির পাইপ।
প্রকল্পের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পাইপলাইন স্থাপনের সময় গর্তের ভেতরে পাইপের নিচে ৬ ইঞ্চি এবং উপরে ৬ ইঞ্চি ফিল্টার বালি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা মানেনি। মাটি খুঁড়েই তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাইপ পুঁতে ফেলা হচ্ছে। এতে টেকসই সুবিধা পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে অনিয়ম বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী সঠিক ও টেকসই কাজ বাস্তবায়ন করা না হলে ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০০টি পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ মেয়াদের এ প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ করছে 'আদেল এন্টারপ্রাইজ'।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আদেল এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মিজান বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না। সিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। অনেক গর্তেই স্বাভাবিকভাবে বালি থাকায় অতিরিক্ত বালি দিতে হয়নি। স্থানীয়দের কিছু অসংগত দাবি না মানায় মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’
তাহিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন জানান, কাজের শিডিউল অমান্য করা হলে বা কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন