বিনিয়োগের নামে অভিনব ও অদ্ভুত এক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে ইউরোপের দেশ নরওয়েতে। মানুষকে সোনা কিনে তা বনের নির্দিষ্ট কোনো নির্জন জায়গায় রেখে আসার আজব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যে, এভাবে সোনা রাখলে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর দাম বাড়লে দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যাবে। তবে সেই মিষ্টি আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকেই বনাঞ্চলে সোনা রেখে আসার পর সেটির আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। নরওয়ের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংগঠন এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনব জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষকে তীব্র সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
নরওয়ের আর্থিক পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন ফিনান্স নরওয়ে জানিয়েছে, এই অদ্ভুত প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সাধারণ ব্যাংক গ্রাহক তাদের কষ্টের সঞ্চিত সোনা ও অর্থ চিরতরে হারিয়েছেন। সাধারণত আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে মানুষকে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হলেও এই চক্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে। প্রথমে সাধারণ মানুষকে বহুমুখী লাভের লোভ দেখিয়ে সোনা কিনতে রাজি করানো হয় এবং পরবর্তীতে সেই সোনা কোনো বনের নির্জন স্থানে লুকিয়ে রেখে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফিনান্স নরওয়ের প্রতারণা প্রতিরোধ কার্যক্রমের পরিচালক গ্রি নেরগার্ড সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের অভিনব প্রতারণার প্রথম ঘটনাগুলো গত বসন্তে প্রকাশ্যে আসে। এরপর রাজধানী অসলো এবং এর আশপাশের শহরগুলোর পাশাপাশি দেশটির পশ্চিম উপকূলের বিখ্যাত বার্গেন শহরেও একই কায়দায় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই চক্রটি ঠিক কত টাকার সোনা হাতিয়ে নিয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মূল্যবান সোনা কিনে নিজের জিম্মায় রাখার বদলে অচেনা কারও নির্দেশে নির্জন বনে তা ফেলে আসার এই প্রবণতা নরওয়ের আর্থিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
শুধু এই সোনা কেলেঙ্কারিই নয়, নরওয়েতে সব মিলিয়ে আর্থিক জালিয়াতির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফিনান্স নরওয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরই দেশটির ব্যাংক ও তাদের সাধারণ গ্রাহকরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে মোট ৯৬ কোটি ২০ লাখ ক্রোনার হারিয়েছেন, যার মার্কিন মুদ্রায় আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ডলার। তবে ব্যাংকগুলোও বসে নেই; প্রতারণা রোধে তারা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, গত বছর জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৩৫০ কোটি ক্রোনারের বেশি অর্থ ব্যাংকগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে ফিনান্স নরওয়ে এবং দেশটির প্রধান ব্যাংকগুলো যৌথভাবে ‘নো ওয়ে—ইউ ওয়ান্ট ফুল মি’ নামক একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে।
এর মাধ্যমে যে কাউকে যেকোনো অস্বাভাবিক আর্থিক প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত কোনো ব্যক্তির লোভনীয় বিনিয়োগের প্রস্তাবে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা মোটেও উচিত নয়। সোনা বা যেকোনো মূল্যবান সম্পদ কেনার পর অচেনা কারও কুপরামর্শে তা নির্জন স্থানে ফেলে না রেখে বরং নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিনিয়োগের নামে অভিনব ও অদ্ভুত এক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে ইউরোপের দেশ নরওয়েতে। মানুষকে সোনা কিনে তা বনের নির্দিষ্ট কোনো নির্জন জায়গায় রেখে আসার আজব পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যে, এভাবে সোনা রাখলে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে এর দাম বাড়লে দ্বিগুণ লাভ পাওয়া যাবে। তবে সেই মিষ্টি আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকেই বনাঞ্চলে সোনা রেখে আসার পর সেটির আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। নরওয়ের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংগঠন এই চাঞ্চল্যকর ও অভিনব জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষকে তীব্র সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
নরওয়ের আর্থিক পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন ফিনান্স নরওয়ে জানিয়েছে, এই অদ্ভুত প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সাধারণ ব্যাংক গ্রাহক তাদের কষ্টের সঞ্চিত সোনা ও অর্থ চিরতরে হারিয়েছেন। সাধারণত আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে মানুষকে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হলেও এই চক্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে। প্রথমে সাধারণ মানুষকে বহুমুখী লাভের লোভ দেখিয়ে সোনা কিনতে রাজি করানো হয় এবং পরবর্তীতে সেই সোনা কোনো বনের নির্জন স্থানে লুকিয়ে রেখে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফিনান্স নরওয়ের প্রতারণা প্রতিরোধ কার্যক্রমের পরিচালক গ্রি নেরগার্ড সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের অভিনব প্রতারণার প্রথম ঘটনাগুলো গত বসন্তে প্রকাশ্যে আসে। এরপর রাজধানী অসলো এবং এর আশপাশের শহরগুলোর পাশাপাশি দেশটির পশ্চিম উপকূলের বিখ্যাত বার্গেন শহরেও একই কায়দায় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই চক্রটি ঠিক কত টাকার সোনা হাতিয়ে নিয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে মূল্যবান সোনা কিনে নিজের জিম্মায় রাখার বদলে অচেনা কারও নির্দেশে নির্জন বনে তা ফেলে আসার এই প্রবণতা নরওয়ের আর্থিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
শুধু এই সোনা কেলেঙ্কারিই নয়, নরওয়েতে সব মিলিয়ে আর্থিক জালিয়াতির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফিনান্স নরওয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত বছরই দেশটির ব্যাংক ও তাদের সাধারণ গ্রাহকরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে মোট ৯৬ কোটি ২০ লাখ ক্রোনার হারিয়েছেন, যার মার্কিন মুদ্রায় আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ডলার। তবে ব্যাংকগুলোও বসে নেই; প্রতারণা রোধে তারা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, গত বছর জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৩৫০ কোটি ক্রোনারের বেশি অর্থ ব্যাংকগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে ফিনান্স নরওয়ে এবং দেশটির প্রধান ব্যাংকগুলো যৌথভাবে ‘নো ওয়ে—ইউ ওয়ান্ট ফুল মি’ নামক একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে।
এর মাধ্যমে যে কাউকে যেকোনো অস্বাভাবিক আর্থিক প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত কোনো ব্যক্তির লোভনীয় বিনিয়োগের প্রস্তাবে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা মোটেও উচিত নয়। সোনা বা যেকোনো মূল্যবান সম্পদ কেনার পর অচেনা কারও কুপরামর্শে তা নির্জন স্থানে ফেলে না রেখে বরং নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন