সংবাদ

দিল্লি তোলপাড়, চুরাশির দাঙ্গা টেনে কংগ্রেসকে তোপ নাড্ডার!


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

দিল্লি তোলপাড়, চুরাশির দাঙ্গা টেনে কংগ্রেসকে তোপ নাড্ডার!
রাহুলের সমাবেশ ঘিরে তোলপাড় দিল্লি

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা, অন্যদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা বিজেপির। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মৃতি থেকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি—একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা।

রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচি। হুডখোলা গাড়িতে চড়ে সমাবেশে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিরোধী জোট।

সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন জে পি নাড্ডা। তার অভিযোগ, গণতন্ত্র রক্ষার নামে বিরোধীরা দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা এবং দিল্লিতে অশান্তির পরিবেশ তৈরিই এই সমাবেশের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি শক্তির মদতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সভাপতি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।

সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়েও কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন নাড্ডা। ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর শিখ সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দিনটি দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণ করার দিন। অথচ কংগ্রেস সেই দিনেই রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে। তাঁর অভিযোগ, শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষতকে আরও উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৪ সালের দাঙ্গার জন্য কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবার এখনও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করে নাড্ডা বলেন, ভারত কোনও ‘কলা প্রজাতন্ত্র’ নয়, যেখানে ইচ্ছামতো দাঙ্গা বাধিয়ে বা অগ্নিসংযোগ করে সরকার বদলের চেষ্টা করা যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মিথ্যা প্রচার, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা। তবে এগুলি বিজেপি সভাপতির রাজনৈতিক অভিযোগ, যার জবাব দিতে পারে বিরোধী শিবির।

উৎসবের মরশুমে দিল্লির ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়েও সরব হন নাড্ডা। তাঁর দাবি, ধনতেরস, দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে দিল্লির ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার ও হকারদের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাবেশের কারণে যান চলাচল ও বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসা ব্যাহত হতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে আগেও সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নাড্ডার বক্তব্য, আগের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবারের সমাবেশের জেরে সেই ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এই অঙ্ক ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে, চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব নয়।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সমাবেশের দিন দিল্লির কনট প্লেসে বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির জন্য বিরোধীদের সমাবেশকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেই দাবি কংগ্রেস নেতার।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সমাবেশের দিন, উদ্দেশ্য এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি নিয়ে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ এখন শুধু নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় রাজনীতির বড় সংঘাতের মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


দিল্লি তোলপাড়, চুরাশির দাঙ্গা টেনে কংগ্রেসকে তোপ নাড্ডার!

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা, অন্যদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা বিজেপির। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মৃতি থেকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি—একাধিক ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা।

রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচি। হুডখোলা গাড়িতে চড়ে সমাবেশে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিরোধী জোট।

সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন জে পি নাড্ডা। তার অভিযোগ, গণতন্ত্র রক্ষার নামে বিরোধীরা দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা, দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা এবং দিল্লিতে অশান্তির পরিবেশ তৈরিই এই সমাবেশের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি শক্তির মদতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সভাপতি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।

সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়েও কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন নাড্ডা। ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর শিখ সম্প্রদায়ের ওপর ভয়াবহ হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দিনটি দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণ করার দিন। অথচ কংগ্রেস সেই দিনেই রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেছে। তাঁর অভিযোগ, শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষতকে আরও উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ১৯৮৪ সালের দাঙ্গার জন্য কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবার এখনও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করে নাড্ডা বলেন, ভারত কোনও ‘কলা প্রজাতন্ত্র’ নয়, যেখানে ইচ্ছামতো দাঙ্গা বাধিয়ে বা অগ্নিসংযোগ করে সরকার বদলের চেষ্টা করা যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য মিথ্যা প্রচার, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করা। তবে এগুলি বিজেপি সভাপতির রাজনৈতিক অভিযোগ, যার জবাব দিতে পারে বিরোধী শিবির।

উৎসবের মরশুমে দিল্লির ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়েও সরব হন নাড্ডা। তাঁর দাবি, ধনতেরস, দীপাবলি ও ছটপুজোর আগে দিল্লির ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার ও হকারদের কাছে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাবেশের কারণে যান চলাচল ও বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসা ব্যাহত হতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে আগেও সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নাড্ডার বক্তব্য, আগের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবারের সমাবেশের জেরে সেই ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এই অঙ্ক ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে, চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব নয়।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সমাবেশের দিন দিল্লির কনট প্লেসে বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করিয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির জন্য বিরোধীদের সমাবেশকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেই দাবি কংগ্রেস নেতার।

সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সমাবেশের দিন, উদ্দেশ্য এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি নিয়ে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ এখন শুধু নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় রাজনীতির বড় সংঘাতের মঞ্চ হয়ে উঠেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত