সংবাদ

বন্ধ হচ্ছে প্যাসিফিক জিন্স, ‘কাঁদছেন’ ৫ হাজার শ্রমিক


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

বন্ধ হচ্ছে প্যাসিফিক জিন্স, ‘কাঁদছেন’ ৫ হাজার শ্রমিক
১৯৯৪ সালে শিল্পপতি এম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম কারখানা ‘প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। বুয়েট ও চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় আগামী ৩ নভেম্বর থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে হঠাৎ এমন ঘোষণায় কারখানায় কর্মরত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে কারখানা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর তা পুনঃপরীক্ষা করায় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞরা শ্রমিকদের জীবন ও কারখানার মালামালের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটি ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কারখানাটি ভেঙে ফেলার এবং কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘আর হয়তো কোনোদিন দেখা হবে না আমাদের!’ তবে এর আগে কারখানা বন্ধের খবরটিকে ‘গুজব’ ও ‘মিথ্যা তথ্য’ বলে  গণমাধ্যমে দাবি করেছিলেন প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেছিলেন, একটি কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এদিকে, কারখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন বন্ধ হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনি ও পাওনা সব হক পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সকল পাওনা পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অন্য কোনো কারখানায় স্থানান্তর না করে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯৪ সালে শিল্পপতি এম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, যা ছিল প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ থেকে প্রথম জিনস রপ্তানির নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এই গ্রুপের হাত ধরেই দেশের জিনস রপ্তানি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য আসে। 

বর্তমানে গ্রুপটির রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই জিনস প্যান্ট। বিশ্বের প্রায় ৪৪টি দেশে তাদের পোশাক রপ্তানি হয়, যার মধ্যে জাপানের বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিক্লো’ তাদের অন্যতম বড় ক্রেতা।

সাড়ে তিন বছর ধরে এই কারখানায় কর্মরত কর্মচারী মুহাম্মদ হাসিব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত দিন চাকরি করার পর হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এমন একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পাঁচ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেওয়া এই অনিশ্চয়তা পুরো তৈরি পোশাক খাতের জন্যই এক বড় উদ্বেগের বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


বন্ধ হচ্ছে প্যাসিফিক জিন্স, ‘কাঁদছেন’ ৫ হাজার শ্রমিক

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম কারখানা ‘প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। বুয়েট ও চুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় আগামী ৩ নভেম্বর থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে হঠাৎ এমন ঘোষণায় কারখানায় কর্মরত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে কারখানা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর তা পুনঃপরীক্ষা করায় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞরা শ্রমিকদের জীবন ও কারখানার মালামালের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটি ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কারখানাটি ভেঙে ফেলার এবং কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কারখানা বন্ধের খবরে শ্রমিকরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘আর হয়তো কোনোদিন দেখা হবে না আমাদের!’ তবে এর আগে কারখানা বন্ধের খবরটিকে ‘গুজব’ ও ‘মিথ্যা তথ্য’ বলে  গণমাধ্যমে দাবি করেছিলেন প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেছিলেন, একটি কুচক্রী মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

এদিকে, কারখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন বন্ধ হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনি ও পাওনা সব হক পরিশোধ করা হবে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সকল পাওনা পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অন্য কোনো কারখানায় স্থানান্তর না করে সরাসরি ছাঁটাই করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৯৯৪ সালে শিল্পপতি এম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড, যা ছিল প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ থেকে প্রথম জিনস রপ্তানির নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এই গ্রুপের হাত ধরেই দেশের জিনস রপ্তানি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য আসে। 

বর্তমানে গ্রুপটির রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই জিনস প্যান্ট। বিশ্বের প্রায় ৪৪টি দেশে তাদের পোশাক রপ্তানি হয়, যার মধ্যে জাপানের বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিক্লো’ তাদের অন্যতম বড় ক্রেতা।

সাড়ে তিন বছর ধরে এই কারখানায় কর্মরত কর্মচারী মুহাম্মদ হাসিব আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত দিন চাকরি করার পর হঠাৎ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এমন একটি শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পাঁচ হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেওয়া এই অনিশ্চয়তা পুরো তৈরি পোশাক খাতের জন্যই এক বড় উদ্বেগের বিষয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত