সংবাদ

জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি!


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি!
‘জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন’, রামলীলা ময়দান থেকে রাহুলের হুঁশিয়ারি! ‘ভোট চুরি’ নিয়ে উত্তাল INDIA জোট

দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়াল INDIA জোট।  রোববার (১ নভেম্বর) ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে বিরোধী নেতাদের উপস্থিতিতে কার্যত রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠল রামলীলা ময়দান। নির্বাচনে কারচুপি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে অখিলেশ যাদব—প্রত্যেকের বক্তব্যেই উঠে এল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।

সমাবেশের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন-সহ একাধিক নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’ হয়েছে। রাহুলের দাবি, এই ভোট চুরি শুধুমাত্র নির্বাচনী অনিয়ম নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার সমান। তিনি বলেন, “আইনের ভাষায় একে বিরলতম অপরাধ বলা হয়। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।” যদিও নির্বাচনে কারচুপি এবং EVM নিয়ে তার এই অভিযোগের প্রমাণ তিনি সমাবেশে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি।

এদিন রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তাঁর সরাসরি হুঁশিয়ারি। কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের সাহায্য ছাড়া নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।

রাহুলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। তাঁর কথায়, এই আন্দোলন দেশের যুবসমাজ, মহিলা, কৃষক ও শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, “ভারতের কণ্ঠস্বর বলছে, আমরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না, সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। বাংলায় SIR প্রক্রিয়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “জ্ঞানেশ, কবে অদৃশ্য হবে?” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, SIR নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে এবার দিল্লির মঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, বিজেপি চুরি করা জনাদেশের ভিত্তিতে ক্ষমতায় রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন থামবে না বলেও ঘোষণা করেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রামলীলা ময়দানকে গণতন্ত্রের ‘হলদিঘাটির যুদ্ধক্ষেত্র’ বলে উল্লেখ করেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই লড়াই যেন এক নতুন মহাভারত।

মেহবুবা মুফতিসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিরোধী ঐক্যের ছবিও সামনে আসে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন এই সমাবেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একদিকে SIR নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছে INDIA জোট। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশে বিরোধীদের ঐক্যের ছবি স্পষ্ট হলেও, তাদের অভিযোগের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি!

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়াল INDIA জোট।  রোববার (১ নভেম্বর) ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে বিরোধী নেতাদের উপস্থিতিতে কার্যত রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠল রামলীলা ময়দান। নির্বাচনে কারচুপি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে অখিলেশ যাদব—প্রত্যেকের বক্তব্যেই উঠে এল নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।

সমাবেশের মঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন-সহ একাধিক নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’ হয়েছে। রাহুলের দাবি, এই ভোট চুরি শুধুমাত্র নির্বাচনী অনিয়ম নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার সমান। তিনি বলেন, “আইনের ভাষায় একে বিরলতম অপরাধ বলা হয়। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।” যদিও নির্বাচনে কারচুপি এবং EVM নিয়ে তার এই অভিযোগের প্রমাণ তিনি সমাবেশে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি।

এদিন রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তাঁর সরাসরি হুঁশিয়ারি। কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশ কুমার জেলে যাবেন।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের সাহায্য ছাড়া নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।

রাহুলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। তাঁর কথায়, এই আন্দোলন দেশের যুবসমাজ, মহিলা, কৃষক ও শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, “ভারতের কণ্ঠস্বর বলছে, আমরা গণতন্ত্রকে শেষ হতে দেব না, সংবিধানকে ধ্বংস হতে দেব না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। বাংলায় SIR প্রক্রিয়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “জ্ঞানেশ, কবে অদৃশ্য হবে?” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, SIR নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে এবার দিল্লির মঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, বিজেপি চুরি করা জনাদেশের ভিত্তিতে ক্ষমতায় রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীদের আন্দোলন থামবে না বলেও ঘোষণা করেন তিনি। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রামলীলা ময়দানকে গণতন্ত্রের ‘হলদিঘাটির যুদ্ধক্ষেত্র’ বলে উল্লেখ করেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই লড়াই যেন এক নতুন মহাভারত।

মেহবুবা মুফতিসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিরোধী ঐক্যের ছবিও সামনে আসে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন এই সমাবেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একদিকে SIR নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন—এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছে INDIA জোট। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশে বিরোধীদের ঐক্যের ছবি স্পষ্ট হলেও, তাদের অভিযোগের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত