সংবাদ

রাজ থেকে পাঠান, শাহরুখের ফ্যাশনে বদলেছে সময়ের ভাষা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

রাজ থেকে পাঠান, শাহরুখের ফ্যাশনে বদলেছে সময়ের ভাষা
ছবিঃ সংগৃহীত

বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের পরিচয় শুধু অভিনয় কিংবা জনপ্রিয় সংলাপে সীমাবদ্ধ নয়। পর্দায় তাঁর উপস্থিতির পাশাপাশি পোশাক ও ব্যক্তিগত স্টাইলও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। কখনো চামড়ার জ্যাকেট, কখনো ক্যাজুয়াল সোয়েটশার্ট, আবার কখনো পরিশীলিত স্যুটে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে তাঁকে। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে বদলেছে তাঁর ফ্যাশনও। আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের পোশাকের পছন্দে।

২ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া শাহরুখ খান আজ ৬১ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক বড় পর্দা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আয়োজন পর্যন্ত তাঁর কয়েকটি আলোচিত স্টাইল।

রাজের চামড়ার জ্যাকেট, তরুণদের ফ্যাশনে নতুন ধারা

শাহরুখের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনায় প্রথমেই আসে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘ডিডিএলজে’ সিনেমার রাজ চরিত্র। বাদামি চামড়ার জ্যাকেট, ডেনিম, বেসবল ক্যাপ ও টি-শার্টের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল তাঁর সহজ অথচ আকর্ষণীয় লুক। পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে দেশীয় আবেগের মিশ্রণ চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।

সিনেমাটি মুক্তির পর রাজের পোশাক তরুণদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ‘জোশ’ সিনেমাতেও চামড়ার জ্যাকেটের ভিন্ন ব্যবহার দেখা যায়। কালো ভেস্ট ও ছেঁড়া জিনসের সঙ্গে বাইকার-অনুপ্রাণিত বাদামি জ্যাকেট পর্দায় শাহরুখের রুক্ষ ও ক্যাজুয়াল উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে।

‘ডন’-এর লুকে আভিজাত্য ও রহস্য

‘ডন’ সিনেমায় শাহরুখের পোশাকে ছিল ভিন্ন ধরনের আভিজাত্য। লম্বা ট্রেঞ্চ কোট, চামড়ার গ্লাভস ও কালো স্যুট তাঁর চরিত্রকে দিয়েছিল দৃঢ় ও রহস্যময় উপস্থিতি। পোশাকের এই সংযত ব্যবহারেও কীভাবে ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা যায়, তার উদাহরণ হয়ে ওঠে সিনেমাটির লুক।

এ ছাড়া লম্বা চুল ও কমলা রঙের কারাগারের পোশাকেও দেখা গেছে তাঁকে। পর্দার বাইরেও চামড়ার জ্যাকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সাধারণ যাতায়াতেও এই পোশাকে দেখা গেছে অভিনেতাকে।

‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ও নব্বইয়ের দশকের ক্যাজুয়াল লুক

চামড়ার জ্যাকেটের বাইরে শাহরুখের আরেকটি স্মরণীয় ফ্যাশন পরিচয় তৈরি হয় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায়। রাহুল চরিত্রে তাঁর পরনে ছিল ‘GAP’ লেখা সোয়েটশার্ট, পেনড্যান্ট ও একদিকে কাত করে পরা বেসবল ক্যাপ।

নব্বইয়ের দশকের কিশোরদের কাছে এই পোশাক ছিল আকর্ষণের বিষয়। পরিচালক করণ জোহর ও পোশাক পরিকল্পনাকারী মনীশ মালহোত্রার সমন্বয়ে তৈরি এই লুক শাহরুখকে সে সময়ের ফ্যাশন আইকন হিসেবে আরও পরিচিত করে তোলে। তবে পোশাকের পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিও এই স্টাইলকে জনপ্রিয় করে।

স্যুট, ট্রেঞ্চ কোট থেকে লিনেনের স্বচ্ছন্দতা

নতুন শতাব্দীতে শাহরুখের ফ্যাশনে আসে আরও পরিশীলিত পরিবর্তন। ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমায় ফিটেড ব্লেজার, ট্রেঞ্চ কোট এবং কালো টার্টলনেকের মতো পোশাকে দেখা যায় তাঁকে। এসব পোশাকে পশ্চিমা ফ্যাশনের সঙ্গে রুচিশীল ও মার্জিত উপস্থিতির সমন্বয় ছিল।

অন্যদিকে ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ সিনেমায় লিনেনের পোশাক, শান্ত রঙ ও সাধারণ সাজে হাজির হন শাহরুখ। এই লুক ছিল অনেক বেশি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ। চরিত্রের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পোশাকের সামঞ্জস্যও নজর কেড়েছিল।

‘পাঠান’-এ বয়সকে পাশ কাটানো স্টাইল

২০২৩ সালে ‘পাঠান’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরার সময় শাহরুখের ফ্যাশনেও দেখা যায় নতুন মাত্রা। লম্বা চুলের স্টাইলের সঙ্গে কমব্যাট বুট, ছেঁড়া কার্গো প্যান্ট ও হাতাকাটা চামড়ার জ্যাকেটে হাজির হন তিনি।

এই সাজে পুরোনো ‘ডন’ লুকের কিছুটা ছাপ থাকলেও উপস্থাপনায় ছিল আধুনিক অ্যাকশন হিরোর আবহ। বয়স বাড়লেও পোশাকের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য ধরে রাখার বিষয়টি তাঁর এই উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়।

মেট গালায় ভারতীয় ও পশ্চিমা ফ্যাশনের মিশেল

সিনেমার বাইরে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনেও নজর কেড়েছেন শাহরুখ। ২০২৫ সালে মেট গালায় তাঁর উপস্থিতি ছিল আলোচিত। ভারতীয় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির তৈরি পোশাকে ভারতীয় ও পশ্চিমা ড্যান্ডি স্টাইলের সমন্বয় দেখা যায়।

পোশাকের সঙ্গে গলায় ছিল একাধিক স্তরের চেইন এবং শাহরুখের পরিচিত ‘কে’ লেখা পেনড্যান্ট। পুরো সাজে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতির পাশাপাশি ভারতীয় ফ্যাশনের পরিচয়ও তুলে ধরা হয়।

চামড়ার জ্যাকেট পরা রাজ থেকে শুরু করে ‘ডন’-এর আভিজাত্য, রাহুলের ক্যাজুয়াল পোশাক কিংবা মেট গালার বিশেষ সাজ - প্রতিটি পর্যায়েই নিজের উপস্থিতিকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন শাহরুখ খান। তাঁর ফ্যাশনের এই পরিবর্তন শুধু পর্দার চরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সময়ের সঙ্গে তা হয়ে উঠেছে ভক্ত ও ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহের অংশ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


রাজ থেকে পাঠান, শাহরুখের ফ্যাশনে বদলেছে সময়ের ভাষা

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের পরিচয় শুধু অভিনয় কিংবা জনপ্রিয় সংলাপে সীমাবদ্ধ নয়। পর্দায় তাঁর উপস্থিতির পাশাপাশি পোশাক ও ব্যক্তিগত স্টাইলও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। কখনো চামড়ার জ্যাকেট, কখনো ক্যাজুয়াল সোয়েটশার্ট, আবার কখনো পরিশীলিত স্যুটে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে তাঁকে। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে বদলেছে তাঁর ফ্যাশনও। আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের পোশাকের পছন্দে।

২ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া শাহরুখ খান আজ ৬১ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক বড় পর্দা থেকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আয়োজন পর্যন্ত তাঁর কয়েকটি আলোচিত স্টাইল।

রাজের চামড়ার জ্যাকেট, তরুণদের ফ্যাশনে নতুন ধারা

শাহরুখের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনায় প্রথমেই আসে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ বা ‘ডিডিএলজে’ সিনেমার রাজ চরিত্র। বাদামি চামড়ার জ্যাকেট, ডেনিম, বেসবল ক্যাপ ও টি-শার্টের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল তাঁর সহজ অথচ আকর্ষণীয় লুক। পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে দেশীয় আবেগের মিশ্রণ চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।

সিনেমাটি মুক্তির পর রাজের পোশাক তরুণদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ‘জোশ’ সিনেমাতেও চামড়ার জ্যাকেটের ভিন্ন ব্যবহার দেখা যায়। কালো ভেস্ট ও ছেঁড়া জিনসের সঙ্গে বাইকার-অনুপ্রাণিত বাদামি জ্যাকেট পর্দায় শাহরুখের রুক্ষ ও ক্যাজুয়াল উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে।

‘ডন’-এর লুকে আভিজাত্য ও রহস্য

‘ডন’ সিনেমায় শাহরুখের পোশাকে ছিল ভিন্ন ধরনের আভিজাত্য। লম্বা ট্রেঞ্চ কোট, চামড়ার গ্লাভস ও কালো স্যুট তাঁর চরিত্রকে দিয়েছিল দৃঢ় ও রহস্যময় উপস্থিতি। পোশাকের এই সংযত ব্যবহারেও কীভাবে ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা যায়, তার উদাহরণ হয়ে ওঠে সিনেমাটির লুক।

এ ছাড়া লম্বা চুল ও কমলা রঙের কারাগারের পোশাকেও দেখা গেছে তাঁকে। পর্দার বাইরেও চামড়ার জ্যাকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সাধারণ যাতায়াতেও এই পোশাকে দেখা গেছে অভিনেতাকে।

‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ও নব্বইয়ের দশকের ক্যাজুয়াল লুক

চামড়ার জ্যাকেটের বাইরে শাহরুখের আরেকটি স্মরণীয় ফ্যাশন পরিচয় তৈরি হয় ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমায়। রাহুল চরিত্রে তাঁর পরনে ছিল ‘GAP’ লেখা সোয়েটশার্ট, পেনড্যান্ট ও একদিকে কাত করে পরা বেসবল ক্যাপ।

নব্বইয়ের দশকের কিশোরদের কাছে এই পোশাক ছিল আকর্ষণের বিষয়। পরিচালক করণ জোহর ও পোশাক পরিকল্পনাকারী মনীশ মালহোত্রার সমন্বয়ে তৈরি এই লুক শাহরুখকে সে সময়ের ফ্যাশন আইকন হিসেবে আরও পরিচিত করে তোলে। তবে পোশাকের পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিও এই স্টাইলকে জনপ্রিয় করে।

স্যুট, ট্রেঞ্চ কোট থেকে লিনেনের স্বচ্ছন্দতা

নতুন শতাব্দীতে শাহরুখের ফ্যাশনে আসে আরও পরিশীলিত পরিবর্তন। ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমায় ফিটেড ব্লেজার, ট্রেঞ্চ কোট এবং কালো টার্টলনেকের মতো পোশাকে দেখা যায় তাঁকে। এসব পোশাকে পশ্চিমা ফ্যাশনের সঙ্গে রুচিশীল ও মার্জিত উপস্থিতির সমন্বয় ছিল।

অন্যদিকে ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ সিনেমায় লিনেনের পোশাক, শান্ত রঙ ও সাধারণ সাজে হাজির হন শাহরুখ। এই লুক ছিল অনেক বেশি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ। চরিত্রের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পোশাকের সামঞ্জস্যও নজর কেড়েছিল।

‘পাঠান’-এ বয়সকে পাশ কাটানো স্টাইল

২০২৩ সালে ‘পাঠান’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরার সময় শাহরুখের ফ্যাশনেও দেখা যায় নতুন মাত্রা। লম্বা চুলের স্টাইলের সঙ্গে কমব্যাট বুট, ছেঁড়া কার্গো প্যান্ট ও হাতাকাটা চামড়ার জ্যাকেটে হাজির হন তিনি।

এই সাজে পুরোনো ‘ডন’ লুকের কিছুটা ছাপ থাকলেও উপস্থাপনায় ছিল আধুনিক অ্যাকশন হিরোর আবহ। বয়স বাড়লেও পোশাকের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য ধরে রাখার বিষয়টি তাঁর এই উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়।

মেট গালায় ভারতীয় ও পশ্চিমা ফ্যাশনের মিশেল

সিনেমার বাইরে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনেও নজর কেড়েছেন শাহরুখ। ২০২৫ সালে মেট গালায় তাঁর উপস্থিতি ছিল আলোচিত। ভারতীয় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জির তৈরি পোশাকে ভারতীয় ও পশ্চিমা ড্যান্ডি স্টাইলের সমন্বয় দেখা যায়।

পোশাকের সঙ্গে গলায় ছিল একাধিক স্তরের চেইন এবং শাহরুখের পরিচিত ‘কে’ লেখা পেনড্যান্ট। পুরো সাজে আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতির পাশাপাশি ভারতীয় ফ্যাশনের পরিচয়ও তুলে ধরা হয়।

চামড়ার জ্যাকেট পরা রাজ থেকে শুরু করে ‘ডন’-এর আভিজাত্য, রাহুলের ক্যাজুয়াল পোশাক কিংবা মেট গালার বিশেষ সাজ - প্রতিটি পর্যায়েই নিজের উপস্থিতিকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন শাহরুখ খান। তাঁর ফ্যাশনের এই পরিবর্তন শুধু পর্দার চরিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সময়ের সঙ্গে তা হয়ে উঠেছে ভক্ত ও ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহের অংশ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত