দেশের যেকোনো জরুরি সংকট, জঙ্গিবাদ ও অঘটন মোকাবেলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) বিশ্বমানের ও কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এপিবিএনের উত্তরাস্থ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে খাগড়াছড়ির ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে কোন কোন বিশেষ কৌশলে ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ৪০ জন বাছাই কমান্ডো সদস্যকে নিয়ে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এপিবিএনের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সার্বিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বহুগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কমান্ডো কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্বে প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলটির পেশাগত দক্ষতা আধুনিক মানের করে গড়ে তোলা। প্রশিক্ষিত এই কমান্ডো সদস্যরা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ফিল্ডসহ সব কেপিআই এলাকার নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ বলেন, "সংকটময় পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় একটি দক্ষ, শৃঙ্খলবদ্ধ ও যেকোনো অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত দল হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
পরিদর্শনকালে এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহজাহানসহ বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়ক ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডিআইজিদের মতে, "কমান্ডো প্রশিক্ষণ শেষে কমান্ডোরা দেশে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিরোধে যা দরকার সবই করবেন।"
উচ্চতর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের যেকোনো বড় সংকট মোকাবেলার কৌশল শেখানো হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ের উঁচু ভবন বা এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে রশি বেয়ে নেমে যাওয়া, পা বাঁধা অবস্থায় উঁচু স্থান থেকে নিচে নেমে আসা, সন্ত্রাসী বা নাশকতামূলক পরিস্থিতিতে ঘরে ঢুকে জিম্মি উদ্ধার এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য হাতে-কলমে কড়া প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও শত্রুর মোকাবিলায় গোলাগুলির বাস্তব মহড়া, বোমার উপস্থিতি নিষ্ক্রিয়করণ ও অপহরণের পর মুক্তিপণ চাওয়া চক্রকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষকেরা এপিবিএনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পর দেশে এ ধরনের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে নানাবিধ সীমাবদ্ধতায় তা থমকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এপিবিএনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সাধারণ থানা পুলিশের যে সকল ঝুঁকি নিতে বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হয়, সেখানে ছুটে যাবে এপিবিএনের এই বিশেষায়িত টিম। হলি আর্টিজানের মতো বড় সন্ত্রাসী হামলা, জঙ্গিবাদ ও যেকোনো ধরনের নাশকতা দমনে এ বাহিনীকে আধুনিক ভারী অস্ত্র ও উপযুক্ত লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করলে তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শীর্ষ ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
দেশের যেকোনো জরুরি সংকট, জঙ্গিবাদ ও অঘটন মোকাবেলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) বিশ্বমানের ও কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি এপিবিএনের উত্তরাস্থ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে খাগড়াছড়ির ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে কোন কোন বিশেষ কৌশলে ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ৪০ জন বাছাই কমান্ডো সদস্যকে নিয়ে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এপিবিএনের ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সার্বিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বহুগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কমান্ডো কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্বে প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলটির পেশাগত দক্ষতা আধুনিক মানের করে গড়ে তোলা। প্রশিক্ষিত এই কমান্ডো সদস্যরা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ফিল্ডসহ সব কেপিআই এলাকার নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ বলেন, "সংকটময় পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় একটি দক্ষ, শৃঙ্খলবদ্ধ ও যেকোনো অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত দল হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
পরিদর্শনকালে এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহজাহানসহ বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়ক ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডিআইজিদের মতে, "কমান্ডো প্রশিক্ষণ শেষে কমান্ডোরা দেশে যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিরোধে যা দরকার সবই করবেন।"
উচ্চতর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের যেকোনো বড় সংকট মোকাবেলার কৌশল শেখানো হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ের উঁচু ভবন বা এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে রশি বেয়ে নেমে যাওয়া, পা বাঁধা অবস্থায় উঁচু স্থান থেকে নিচে নেমে আসা, সন্ত্রাসী বা নাশকতামূলক পরিস্থিতিতে ঘরে ঢুকে জিম্মি উদ্ধার এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য হাতে-কলমে কড়া প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও শত্রুর মোকাবিলায় গোলাগুলির বাস্তব মহড়া, বোমার উপস্থিতি নিষ্ক্রিয়করণ ও অপহরণের পর মুক্তিপণ চাওয়া চক্রকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে বিশ্বমানের প্রশিক্ষকেরা এপিবিএনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার পর দেশে এ ধরনের কমান্ডো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে নানাবিধ সীমাবদ্ধতায় তা থমকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এপিবিএনকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সাধারণ থানা পুলিশের যে সকল ঝুঁকি নিতে বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হয়, সেখানে ছুটে যাবে এপিবিএনের এই বিশেষায়িত টিম। হলি আর্টিজানের মতো বড় সন্ত্রাসী হামলা, জঙ্গিবাদ ও যেকোনো ধরনের নাশকতা দমনে এ বাহিনীকে আধুনিক ভারী অস্ত্র ও উপযুক্ত লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করলে তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শীর্ষ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন