সংবাদ

শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-ভাঙচুর: আসামি চার হাজার, গ্রেপ্তার ৩০


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-ভাঙচুর: আসামি চার হাজার, গ্রেপ্তার ৩০
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে চলা তীব্র শ্রমিক আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসব চাঞ্চল্যকর মামলায় অজ্ঞাত ও চিহ্নিত প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে শিল্প পুলিশ দুটি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) একটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, "এসব মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত কয়েকদিন ধরে চলা এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত সোমবার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরিস্থিতি আরও বিস্তারিত জানিয়ে পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। কোনাবাড়ীতে অবস্থিত একটি পুলিশ বক্সে এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজিত জনতা অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর চালায়।

এর আগে গত রবিবার সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে ওই প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

টানা কয়েকদিনের এই তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের ফলে গাজীপুরের ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাজীপুর এবং রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-ভাঙচুর: আসামি চার হাজার, গ্রেপ্তার ৩০

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে চলা তীব্র শ্রমিক আন্দোলনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসব চাঞ্চল্যকর মামলায় অজ্ঞাত ও চিহ্নিত প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে শিল্প পুলিশ দুটি এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) একটি মামলা দায়ের করেছে।

মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, "এসব মামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত কয়েকদিন ধরে চলা এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত সোমবার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুর, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি ও সালনা এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরিস্থিতি আরও বিস্তারিত জানিয়ে পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। কোনাবাড়ীতে অবস্থিত একটি পুলিশ বক্সে এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজিত জনতা অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর চালায়।

এর আগে গত রবিবার সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে ওই প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

টানা কয়েকদিনের এই তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের ফলে গাজীপুরের ব্যস্ততম ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাজীপুর এবং রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত