সংবাদ

“পোশাক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড দ্রুত কাজ শুরু করবে”


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

“পোশাক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড দ্রুত কাজ শুরু করবে”

  • শ্রমিক স্বার্থ ও শিল্পের স্থায়িত্ব দুটোই গুরুত্বের সাথে দেখছে সরকার
  • সড়কের অরাজকতায় শ্রমিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে বলে স্পষ্ট আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শিল্প ও দেশের অর্থনীতির সুরক্ষায় শ্রমিকদের তাৎক্ষণিকভাবে কাজে ফিরে যাওয়ার এবং সড়ক-মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে পোশাক খাতের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা পৃথক দুই দফায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন, “শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল সকালে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হতে পারতো, না হলেও খুব শিগগির বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

শ্রমিকদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালিকপক্ষ নাম দিলেও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরশু রাতে তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকালই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে কোনো সময়ক্ষেপণ করা হয়নি।”

শিল্পমালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্য ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে, যেন উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত না হয়। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ যেন বেশি সংরক্ষিত হয়, সে চেষ্টা সরকার করবে।”

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সর্বদা একটি সুস্পষ্ট শিল্পবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের জন্যই সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

আন্দোলনের কৌশল ও সড়কের সহিংসতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দাবি জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানো হয়।”

তিনি আরও নিশ্চিত করেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে সহিংস আন্দোলন করা ব্যক্তিদের সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত কয়েক দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের ক্ষতি ও স্বার্থহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

গ্রেপ্তারদের মুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি সরকার দেখবে। এছাড়া আন্দোলন ও সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিশেষে সবাইকে কাজে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি জোরালোভাবে বলেন, “আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাবো, উৎপাদনে ফিরে যাবো, ঘরে ফিরে যাবো, কর্মস্থলে ফিরে যাবো। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প পরিচালিত হয়। মালিকের পুঁজি ও শ্রমিকের শ্রমের সমন্বয়েই শিল্প গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই শিল্প চালু রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশে বেকারত্বের হার যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য মিল-কারখানা চালু রাখা জরুরি।”

বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


“পোশাক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি বোর্ড দ্রুত কাজ শুরু করবে”

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

  • শ্রমিক স্বার্থ ও শিল্পের স্থায়িত্ব দুটোই গুরুত্বের সাথে দেখছে সরকার
  • সড়কের অরাজকতায় শ্রমিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে বলে স্পষ্ট আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শিল্প ও দেশের অর্থনীতির সুরক্ষায় শ্রমিকদের তাৎক্ষণিকভাবে কাজে ফিরে যাওয়ার এবং সড়ক-মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে পোশাক খাতের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা পৃথক দুই দফায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন, “শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল সকালে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হতে পারতো, না হলেও খুব শিগগির বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

শ্রমিকদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মালিকপক্ষ নাম দিলেও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরশু রাতে তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকালই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে কোনো সময়ক্ষেপণ করা হয়নি।”

শিল্পমালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্য ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে, যেন উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত না হয়। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ যেন বেশি সংরক্ষিত হয়, সে চেষ্টা সরকার করবে।”

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সর্বদা একটি সুস্পষ্ট শিল্পবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের জন্যই সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

আন্দোলনের কৌশল ও সড়কের সহিংসতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দাবি জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানো হয়।”

তিনি আরও নিশ্চিত করেন, “সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে সহিংস আন্দোলন করা ব্যক্তিদের সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত কয়েক দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের ক্ষতি ও স্বার্থহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

গ্রেপ্তারদের মুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি সরকার দেখবে। এছাড়া আন্দোলন ও সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিশেষে সবাইকে কাজে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি জোরালোভাবে বলেন, “আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাবো, উৎপাদনে ফিরে যাবো, ঘরে ফিরে যাবো, কর্মস্থলে ফিরে যাবো। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প পরিচালিত হয়। মালিকের পুঁজি ও শ্রমিকের শ্রমের সমন্বয়েই শিল্প গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই শিল্প চালু রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশে বেকারত্বের হার যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য মিল-কারখানা চালু রাখা জরুরি।”

বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত