প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বার বার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অফিসিয়াল ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সংসদীয় কমিটির অন্য সম্মানিত সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কেবল উড়োজাহাজের ত্রুটির বিষয় নিয়েই নয়, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিভিন্ন উড়োজাহাজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত নানা অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়গুলো নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা, সরকারি অর্থের যেকোনো ধরনের অপচয় রোধ করা, দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো দ্রুত দূরীকরণ এবং জমে থাকা নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদও দিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এ সময় উত্থাপিত বিভিন্ন নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে ঠিক মোট কত টাকা সফলভাবে আদায় করা হয়েছে, কত টাকা এখনো সম্পূর্ণ অনাদায়ী রয়েছে এবং এর সাথে জড়িত ঠিক কতজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয় কমিটির পক্ষ থেকে। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ একটি সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্থাপনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, উত্থাপিত এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য পরবর্তী বৈঠকে অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে। এজন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংসদীয় কমিটির এই তদারকি ও কঠোর অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে বার বার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অফিসিয়াল ব্যাখ্যা চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সংসদীয় কমিটির অন্য সম্মানিত সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কেবল উড়োজাহাজের ত্রুটির বিষয় নিয়েই নয়, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিভিন্ন উড়োজাহাজ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত নানা অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়গুলো নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা, সরকারি অর্থের যেকোনো ধরনের অপচয় রোধ করা, দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো দ্রুত দূরীকরণ এবং জমে থাকা নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদও দিয়েছেন কমিটির সভাপতি।
কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এ সময় উত্থাপিত বিভিন্ন নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে ঠিক মোট কত টাকা সফলভাবে আদায় করা হয়েছে, কত টাকা এখনো সম্পূর্ণ অনাদায়ী রয়েছে এবং এর সাথে জড়িত ঠিক কতজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয় কমিটির পক্ষ থেকে। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ একটি সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দ্রুত সময়ের মধ্যে উপস্থাপনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, উত্থাপিত এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য পরবর্তী বৈঠকে অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে। এজন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংসদীয় কমিটির এই তদারকি ও কঠোর অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন