বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বয়স একষট্টি বছর হলেও তার শরীরের গঠন, পেশির সুদৃঢ় গড়ন আর রূপালী পর্দায় জাদুকরী উপস্থিতি আজও তরুণদের দারুণভাবে টেক্কা দেয়। সম্প্রতি বহুল আলোচিত ‘কিং’ সিনেমার ‘তু মিল জায়ে’ গানে তার নজরকাড়া পেশিবহুল শরীর এবং অত্যন্ত স্টাইলিশ লুক দেখে দেশ বিদেশের ভক্তরা পুরোপুরি মুগ্ধ হয়েছেন।
বিশেষ করে খালি গায়ের একটি দৃশ্যে তার সুগঠিত সিক্স প্যাক অ্যাবস এবং ফিটনেস সবার নজর কেড়েছে। তবে ব্যস্ততম শুটিং শিডিউল, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘদিনের সুদীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের মধ্যেও এই মহা-তারকা কীভাবে নিজেকে এমন চমৎকার ফিট রেখেছেন এবং তার প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেই বা কী থাকে, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই।
শাহরুখ খানের ফিট থাকার এই রহস্য খুব বেশি জটিল কোনো ডায়েট বা ব্যয়বহুল কোনো ফিটনেস পরিকল্পনা নয়। বরং তার নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই তার সুঠাম দেহের মূল ভিত্তি। অনেক তারকা যেখানে বিভিন্ন কঠোর ডায়েট চার্ট কঠোরভাবে মেনে চলেন, সেখানে শাহরুখের দৈনন্দিন খাবারের তালিকা বেশ সাধারণ ও সহজলভ্য।
এ প্রসঙ্গে এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি সাধারণত দিনে মাত্র দুই বেলা ভারী খাবার খেয়ে থাকেন। মূলত দুপুর ও রাতের বেলাতেই তিনি খাবার গ্রহণ করেন এবং এর মাঝের সময়ে অন্য কিছু খাওয়ার অভ্যাস তার নেই বললেই চলে।
তার এই স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের তালিকায় নিয়মিতভাবে স্প্রাউটস বা অঙ্কুরিত বীজ, গ্রিলড চিকেন, ব্রকলি এবং অল্প পরিমাণে ডাল থাকে। দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে এই খাবারগুলোই তার নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় অবিকৃত রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহরুখ জানান যে, তিনি কোনো বিশেষ বা কষ্টসাধ্য ডায়েট অনুসরণ করেন না, বরং স্বাভাবিক ও হালকা খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি তার পছন্দের সব খাবার থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রাখেন।
সুস্বাদু বিরিয়ানি, গরম রুটি, পরোটা, খাঁটি ঘি কিংবা মিষ্টি লাচ্ছির মতো খাবারও তিনি বেশ আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন। অর্থাৎ প্রতিদিনের খাবারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখলেও মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের লোভনীয় খাবার খেতে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন না।
অন্যদিকে শাহরুখ খানের অদ্ভুত ঘুমের সময়সূচি অনেকের কাছেই বেশ অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। সাধারণত তিনি প্রতিদিন ভোর ৫টার দিকে ঘুমাতে যান। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে একবার বলেছিলেন, হলিউড তারকা মার্ক ওয়াহলবার্গ যখন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠেন, ঠিক সেই সময়ে তিনি ঘুমাতে যান। তবে এত দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার পরও তিনি তার নিয়মিত শরীরচর্চার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেন না। শুটিংয়ের দীর্ঘ কাজ শেষে অনেক সময় গভীর রাতে অর্থাৎ প্রায় রাত ২টার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। এরপর ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই তিনি নিয়মিত নিয়ম মেনে ব্যায়াম সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ কাজের প্রচণ্ড চাপ কিংবা রাতের গভীর সময়; কোনো কিছুই তার শরীরচর্চার অভ্যাসে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তিনি নিয়মিত অনুশীলন এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, শাহরুখ খানের এই ফিটনেস রুটিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার চরম ধারাবাহিকতা। তার খাবারের তালিকা যেমন খুব বেশি জটিল নয়, ঠিক তেমনি শরীরচর্চার জন্যও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেন না। বরং কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুকৌশলে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একষট্টি বছর বয়সেও তার এই চমৎকার শারীরিক গঠন এবং অসামান্য কর্মক্ষমতা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্তদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এই ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস কিংবা রাতের ব্যায়ামের রুটিন সবার শরীরের জন্য সমান উপযোগী নাও হতে পারে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই খাবার ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।
শাহরুখ খানের বর্ণাঢ্য জীবনযাপন থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে শুধু কঠোর ডায়েট নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ভালো অভ্যাসগুলো ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বয়স একষট্টি বছর হলেও তার শরীরের গঠন, পেশির সুদৃঢ় গড়ন আর রূপালী পর্দায় জাদুকরী উপস্থিতি আজও তরুণদের দারুণভাবে টেক্কা দেয়। সম্প্রতি বহুল আলোচিত ‘কিং’ সিনেমার ‘তু মিল জায়ে’ গানে তার নজরকাড়া পেশিবহুল শরীর এবং অত্যন্ত স্টাইলিশ লুক দেখে দেশ বিদেশের ভক্তরা পুরোপুরি মুগ্ধ হয়েছেন।
বিশেষ করে খালি গায়ের একটি দৃশ্যে তার সুগঠিত সিক্স প্যাক অ্যাবস এবং ফিটনেস সবার নজর কেড়েছে। তবে ব্যস্ততম শুটিং শিডিউল, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘদিনের সুদীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের মধ্যেও এই মহা-তারকা কীভাবে নিজেকে এমন চমৎকার ফিট রেখেছেন এবং তার প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেই বা কী থাকে, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই।
শাহরুখ খানের ফিট থাকার এই রহস্য খুব বেশি জটিল কোনো ডায়েট বা ব্যয়বহুল কোনো ফিটনেস পরিকল্পনা নয়। বরং তার নিয়মিত শরীরচর্চা, পরিমিত খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই তার সুঠাম দেহের মূল ভিত্তি। অনেক তারকা যেখানে বিভিন্ন কঠোর ডায়েট চার্ট কঠোরভাবে মেনে চলেন, সেখানে শাহরুখের দৈনন্দিন খাবারের তালিকা বেশ সাধারণ ও সহজলভ্য।
এ প্রসঙ্গে এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অভিনেতা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি সাধারণত দিনে মাত্র দুই বেলা ভারী খাবার খেয়ে থাকেন। মূলত দুপুর ও রাতের বেলাতেই তিনি খাবার গ্রহণ করেন এবং এর মাঝের সময়ে অন্য কিছু খাওয়ার অভ্যাস তার নেই বললেই চলে।
তার এই স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের তালিকায় নিয়মিতভাবে স্প্রাউটস বা অঙ্কুরিত বীজ, গ্রিলড চিকেন, ব্রকলি এবং অল্প পরিমাণে ডাল থাকে। দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে এই খাবারগুলোই তার নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় অবিকৃত রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহরুখ জানান যে, তিনি কোনো বিশেষ বা কষ্টসাধ্য ডায়েট অনুসরণ করেন না, বরং স্বাভাবিক ও হালকা খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি তার পছন্দের সব খাবার থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রাখেন।
সুস্বাদু বিরিয়ানি, গরম রুটি, পরোটা, খাঁটি ঘি কিংবা মিষ্টি লাচ্ছির মতো খাবারও তিনি বেশ আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করেন। অর্থাৎ প্রতিদিনের খাবারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখলেও মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের লোভনীয় খাবার খেতে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন না।
অন্যদিকে শাহরুখ খানের অদ্ভুত ঘুমের সময়সূচি অনেকের কাছেই বেশ অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। সাধারণত তিনি প্রতিদিন ভোর ৫টার দিকে ঘুমাতে যান। এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি মজার ছলে একবার বলেছিলেন, হলিউড তারকা মার্ক ওয়াহলবার্গ যখন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠেন, ঠিক সেই সময়ে তিনি ঘুমাতে যান। তবে এত দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার পরও তিনি তার নিয়মিত শরীরচর্চার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেন না। শুটিংয়ের দীর্ঘ কাজ শেষে অনেক সময় গভীর রাতে অর্থাৎ প্রায় রাত ২টার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। এরপর ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই তিনি নিয়মিত নিয়ম মেনে ব্যায়াম সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ কাজের প্রচণ্ড চাপ কিংবা রাতের গভীর সময়; কোনো কিছুই তার শরীরচর্চার অভ্যাসে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তিনি নিয়মিত অনুশীলন এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
পরিশেষে বলা যায়, শাহরুখ খানের এই ফিটনেস রুটিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার চরম ধারাবাহিকতা। তার খাবারের তালিকা যেমন খুব বেশি জটিল নয়, ঠিক তেমনি শরীরচর্চার জন্যও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেন না। বরং কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুকৌশলে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একষট্টি বছর বয়সেও তার এই চমৎকার শারীরিক গঠন এবং অসামান্য কর্মক্ষমতা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্তদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তার এই ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস কিংবা রাতের ব্যায়ামের রুটিন সবার শরীরের জন্য সমান উপযোগী নাও হতে পারে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই খাবার ও ব্যায়ামের পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।
শাহরুখ খানের বর্ণাঢ্য জীবনযাপন থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে শুধু কঠোর ডায়েট নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে ভালো অভ্যাসগুলো ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন