সংবাদ

বাফুফের সংবর্ধনা ও বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

বাফুফের সংবর্ধনা ও বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন

  • অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ই-টায়ারে রানার্সআপ বাংলাদেশ

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ই-টায়ারে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিশাল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দুর্দান্ত লড়াই করে এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। কিশোর ফুটবলারদের এই অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এক জমকালো সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সফল অভিযান শেষে বুধবার সকালেই কিশোর ফুটবল দলের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এদিকে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থান ১৩০তম হওয়া সত্ত্বেও বাফুফের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে দলটিকে ফিফা বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের রানার্সআপ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো মূল প্রতিযোগিতায় নয়, বরং ই-টায়ারের রানার্সআপ হিসেবে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতাকে মূলত ছয়টি ভিন্ন টায়ারে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত অর্জন মূলত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী পর্যায়ের লড়াই থেকেই এসেছে।

ফিফা আয়োজিত এই প্রথম বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের তরুণ দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলগুলোকে মোট ৩০টি গ্রুপে ভাগ করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ ‘জি’ গ্রুপে থেকে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।

এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল শক্তিশালী ওয়েলস, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজির মতো দেশগুলো। গ্রুপ পর্বের শেষ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সব দলকে ছয়টি আলাদা টায়ারে বিভক্ত করে নকআউট পর্বের খেলা শুরু করা হয়। ছয় দলের গ্রুপে পঞ্চম স্থান অর্জন করার সুবাদে বাংলাদেশ সরাসরি ‘ই’ টায়ারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

ই-টায়ারের নকআউট পর্বে পা রেখে কিশোররা দুর্দান্ত ছন্দে খেলতে শুরু করে। রাউন্ড অব ৩২-এ সিশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে। এরপর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরকেও টাইব্রেকারে পরাজিত করে কিশোররা তাদের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টিনিগ্রোকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ সরাসরি ই-টায়ারের ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয়।

তবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে শক্তিশালী সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। অন্যদিকে প্রতিযোগিতার মূল বা প্রধান টায়ারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে শক্তিশালী স্পেন। ফাইনালে তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

এছাড়া এই টুর্নামেন্টে গ্রিস তৃতীয় এবং প্যারাগুয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সামগ্রিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ভুটান, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশ সন্তোষজনক অবস্থান ও সাফল্য অর্জন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বাফুফের সংবর্ধনা ও বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

  • অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ই-টায়ারে রানার্সআপ বাংলাদেশ

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ই-টায়ারে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বিশাল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দুর্দান্ত লড়াই করে এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। কিশোর ফুটবলারদের এই অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এক জমকালো সংবর্ধনার আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সফল অভিযান শেষে বুধবার সকালেই কিশোর ফুটবল দলের দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এদিকে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থান ১৩০তম হওয়া সত্ত্বেও বাফুফের পক্ষ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে দলটিকে ফিফা বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের রানার্সআপ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানামুখী আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী দলগুলো মূল প্রতিযোগিতায় নয়, বরং ই-টায়ারের রানার্সআপ হিসেবে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতাকে মূলত ছয়টি ভিন্ন টায়ারে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত অর্জন মূলত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী পর্যায়ের লড়াই থেকেই এসেছে।

ফিফা আয়োজিত এই প্রথম বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের তরুণ দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলগুলোকে মোট ৩০টি গ্রুপে ভাগ করে লিগ পদ্ধতিতে খেলা পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ ‘জি’ গ্রুপে থেকে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল।

এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল শক্তিশালী ওয়েলস, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজির মতো দেশগুলো। গ্রুপ পর্বের শেষ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সব দলকে ছয়টি আলাদা টায়ারে বিভক্ত করে নকআউট পর্বের খেলা শুরু করা হয়। ছয় দলের গ্রুপে পঞ্চম স্থান অর্জন করার সুবাদে বাংলাদেশ সরাসরি ‘ই’ টায়ারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

ই-টায়ারের নকআউট পর্বে পা রেখে কিশোররা দুর্দান্ত ছন্দে খেলতে শুরু করে। রাউন্ড অব ৩২-এ সিশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে। এরপর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরকেও টাইব্রেকারে পরাজিত করে কিশোররা তাদের অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টিনিগ্রোকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ সরাসরি ই-টায়ারের ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয়।

তবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে শক্তিশালী সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। অন্যদিকে প্রতিযোগিতার মূল বা প্রধান টায়ারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে শক্তিশালী স্পেন। ফাইনালে তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

এছাড়া এই টুর্নামেন্টে গ্রিস তৃতীয় এবং প্যারাগুয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সামগ্রিক তুলনামূলক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ভুটান, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশ সন্তোষজনক অবস্থান ও সাফল্য অর্জন করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত