শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভ ও তীব্র অস্থিতিশীলতার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে। শিল্প খাতে অস্থিরতা ও সহিংস ঘটনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের দুই শেয়ারবাজার; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর কমার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকগুলো বড় ব্যবধানে নিচে নেমে আসে। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণও লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস পায়, যদিও পোশাক খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও সহিংস পরিস্থিতির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়। পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবসায়িক খরচের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন, যা বাজারে বড় ধসের সূচনা করে।
তবে এই মন্দাভাবের মধ্যেও বস্ত্র খাতের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। সোমবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। এর বিপরীতে বস্ত্র খাতের ২৭টি কোম্পানির দাম বাড়ে, ২০টির কমে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লভ্যাংশ প্রদানের ভিত্তিতে সূচকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো মানের ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ১৫৫টির। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি শ্রেণির ৩৩টি কোম্পানির দাম বাড়ে এবং ৩০টির দর কমে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৬টি কোম্পানির দর বাড়লেও ৬৩টির দাম কমেছে।
এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতের মাত্র একটির দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টি ফান্ড দর হারিয়েছে। সার্বিক দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩ ৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
পুঁজিবাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, "শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে। বর্তমান সরকারের আট মাসের মধ্যে এত বড় শ্রমিক আন্দোলন হবে, তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে শ্রমিকদের দাবিও অযৌক্তিক নয়। রাজধানী ঢাকায় এমন আন্দোলন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বেও পড়তে পারে।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "পুঁজিবাজারে চাপ তৈরির পেছনে শ্রমিক আন্দোলনের চেয়েও বড় কারণ হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যাংকে গিয়েও অনেকে প্রয়োজনমতো টাকা পাচ্ছেন না। এ কারণে মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখতে চাইছে। নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে কিছু বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। তারা হাতে নগদ টাকা রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।"
মূল্যসূচকের পাশাপাশি টাকার অংকেও ডিএসইর লেনদেন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬৪ কোটি ১ লাখ টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় শীর্ষে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল, যার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয় ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ছিল ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া এনভয় টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, সায়হাম টেক্সটাইল, এমএল ডাইং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয়।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৬টির দর বৃদ্ধি পেলেও ৮৭টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। ফলে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট হ্রাস পায়। এদিন সিএসইতে মোট ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়, যা আগের দিনের ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চেয়ে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা কম।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভ ও তীব্র অস্থিতিশীলতার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারগুলোতে। শিল্প খাতে অস্থিরতা ও সহিংস ঘটনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের দুই শেয়ারবাজার; ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর কমার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকগুলো বড় ব্যবধানে নিচে নেমে আসে। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণও লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস পায়, যদিও পোশাক খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও সহিংস পরিস্থিতির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়। পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবসায়িক খরচের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন, যা বাজারে বড় ধসের সূচনা করে।
তবে এই মন্দাভাবের মধ্যেও বস্ত্র খাতের সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। সোমবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠান এবং ৫১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে। এর বিপরীতে বস্ত্র খাতের ২৭টি কোম্পানির দাম বাড়ে, ২০টির কমে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লভ্যাংশ প্রদানের ভিত্তিতে সূচকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো মানের ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ১৫৫টির। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি শ্রেণির ৩৩টি কোম্পানির দাম বাড়ে এবং ৩০টির দর কমে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৬টি কোম্পানির দর বাড়লেও ৬৩টির দাম কমেছে।
এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতের মাত্র একটির দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টি ফান্ড দর হারিয়েছে। সার্বিক দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩ ৩৩ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪২ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
পুঁজিবাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, "শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে। বর্তমান সরকারের আট মাসের মধ্যে এত বড় শ্রমিক আন্দোলন হবে, তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে শ্রমিকদের দাবিও অযৌক্তিক নয়। রাজধানী ঢাকায় এমন আন্দোলন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বেও পড়তে পারে।"
তিনি আরও যুক্ত করেন, "পুঁজিবাজারে চাপ তৈরির পেছনে শ্রমিক আন্দোলনের চেয়েও বড় কারণ হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ব্যাংকে গিয়েও অনেকে প্রয়োজনমতো টাকা পাচ্ছেন না। এ কারণে মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখতে চাইছে। নগদ অর্থের চাহিদা মেটাতে অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে কিছু বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। তারা হাতে নগদ টাকা রেখে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব কারণেও বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।"
মূল্যসূচকের পাশাপাশি টাকার অংকেও ডিএসইর লেনদেন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬৪ কোটি ১ লাখ টাকা কম। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় শীর্ষে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল, যার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয় ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন ছিল ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এছাড়া এনভয় টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, সায়হাম টেক্সটাইল, এমএল ডাইং এবং প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয়।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭৬টির দর বৃদ্ধি পেলেও ৮৭টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে। ফলে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট হ্রাস পায়। এদিন সিএসইতে মোট ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়, যা আগের দিনের ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার চেয়ে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা কম।

আপনার মতামত লিখুন