চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই সুনামগঞ্জের কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মৌসুমের আগেই হাওরের বীজতলার জমানো পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তারা সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। কোথাও কোথাও বীজতলার জমিতে সবুজ ঘাস গজিয়ে ওঠায় সেখানে এখন গবাদিপশু চরানো হচ্ছে। একদিকে আগাম বীজতলা করলে ক্ষতির শঙ্কা, অন্যদিকে যথাসময়ে বীজতলা তৈরির উপায় না থাকায় উভয় সংকটে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ দিক থেকে হাওরে পানি নামতে শুরু করে এবং সাধারণত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তারা বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু এবার অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই অনেক হাওরের বীজতলা সম্পূর্ণ শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং এর বিপরীতে ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার কালাশ্রীপুর গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী জানান, তাদের হাওরের বীজতলা ২০ থেকে ২৫ দিন আগেই শুকিয়ে গেছে। এখন সেখানে গরু-ছাগল ঘাস খাচ্ছে। একই উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের কৃষক জুনায়েদ আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, আগাম বীজতলা তৈরি করলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে বীজতলা করতে গেলে পানির কোনো নামগন্ধ নেই। অথচ কৃষি বিভাগ থেকে তারা কোনো কার্যকর পরামর্শ বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহসভাপতি শাহ কামাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবেই প্রকৃতিতে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে দ্রুত উপযুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দাবি করেন, পানি কিছুটা আগে নামলেও এতে চাষাবাদ ও বীজতলায় বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে সোমবার তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও রিপা মনি দেবী স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বড় বড় হাওরের বর্তমান শুকনা অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে হাওরে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই সুনামগঞ্জের কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মৌসুমের আগেই হাওরের বীজতলার জমানো পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তারা সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। কোথাও কোথাও বীজতলার জমিতে সবুজ ঘাস গজিয়ে ওঠায় সেখানে এখন গবাদিপশু চরানো হচ্ছে। একদিকে আগাম বীজতলা করলে ক্ষতির শঙ্কা, অন্যদিকে যথাসময়ে বীজতলা তৈরির উপায় না থাকায় উভয় সংকটে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ দিক থেকে হাওরে পানি নামতে শুরু করে এবং সাধারণত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তারা বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু এবার অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই অনেক হাওরের বীজতলা সম্পূর্ণ শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং এর বিপরীতে ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলার কালাশ্রীপুর গ্রামের কৃষক মো. আকবর আলী জানান, তাদের হাওরের বীজতলা ২০ থেকে ২৫ দিন আগেই শুকিয়ে গেছে। এখন সেখানে গরু-ছাগল ঘাস খাচ্ছে। একই উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের কৃষক জুনায়েদ আহমদ আক্ষেপ করে বলেন, আগাম বীজতলা তৈরি করলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার নির্দিষ্ট সময়ে বীজতলা করতে গেলে পানির কোনো নামগন্ধ নেই। অথচ কৃষি বিভাগ থেকে তারা কোনো কার্যকর পরামর্শ বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহসভাপতি শাহ কামাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবেই প্রকৃতিতে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে দ্রুত উপযুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দাবি করেন, পানি কিছুটা আগে নামলেও এতে চাষাবাদ ও বীজতলায় বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে সোমবার তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও রিপা মনি দেবী স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বড় বড় হাওরের বর্তমান শুকনা অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে হাওরে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাসহ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন