সংবাদ

হাম ও ডেঙ্গু: শিশুমৃত্যু সাড়ে ১২শ, আক্রান্ত আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

হাম ও ডেঙ্গু: শিশুমৃত্যু সাড়ে ১২শ, আক্রান্ত আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২৫৭ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ ৯৬ জন।

অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশজুড়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮শ ৯৯ জনে পৌঁছেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত শুধু সন্দেহজনক হামে ১১৫২ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। এ ছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৯২ জন সন্দেহজনক এবং ৫৬ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্তসহ মোট ১৫৪৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর অঞ্চলেও হামের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ ব্যাধি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস হামের প্রধান মৌসুম হওয়ায় তখন এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে সরকার শহর থেকে শুরু করে দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চলেও সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত সাত মাসে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। তাই ইপিআই কার্যক্রমে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা ও সংকটগুলো দ্রুত দূর করে জনবল বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সাপোর্টসহ সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু পরিস্থিতিও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৭০ জন রোগী। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি ও কন্ট্রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. ইসমত আরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৩২ হাজার ৪৪৯ জন ছাড়পত্র নিলেও এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারা হাসপাতালে না গিয়ে বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের সঠিক পরিসংখ্যান যুক্ত হলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীরা অনেক সময় জ্বর কমে গেলে নিজেদের সুস্থ মনে করে ভুল করেন এবং দেরিতে হাসপাতালে যান। অথচ এই ক্রিটিক্যাল ফেজেই শুরু হয় আসল প্রাণঘাতী জটিলতা। জ্বর কমে যাওয়ার পর শরীর থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়া, রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া, শক সিন্ড্রোম, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল হাসপাতাল নয়, ডেঙ্গু দমনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।

বাড়ির ছাদ, গাড়ি পার্কিং, ভবনের বেসমেন্ট, বারান্দা, ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের ট্রে, প্লাস্টিকের ড্রাম বা পরিত্যক্ত টায়ারে ৩ দিনের বেশি সময় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তন ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হওয়ায় ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


হাম ও ডেঙ্গু: শিশুমৃত্যু সাড়ে ১২শ, আক্রান্ত আড়াই লাখ ছাড়িয়েছে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১২৫৭ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ ৯৬ জন।

অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশজুড়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮শ ৯৯ জনে পৌঁছেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত শুধু সন্দেহজনক হামে ১১৫২ শিশু এবং নিশ্চিত হামে ১০৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। এ ছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৯২ জন সন্দেহজনক এবং ৫৬ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্তসহ মোট ১৫৪৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা ও রংপুর অঞ্চলেও হামের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণ ব্যাধি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস হামের প্রধান মৌসুম হওয়ায় তখন এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে সরকার শহর থেকে শুরু করে দুর্গম প্রান্তিক অঞ্চলেও সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত সাত মাসে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, হামের প্রাদুর্ভাব এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। তাই ইপিআই কার্যক্রমে চিহ্নিত সীমাবদ্ধতা ও সংকটগুলো দ্রুত দূর করে জনবল বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সাপোর্টসহ সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গু পরিস্থিতিও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৭০ জন রোগী। মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি ও কন্ট্রোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. ইসমত আরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১৩২ হাজার ৪৪৯ জন ছাড়পত্র নিলেও এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ১৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারা হাসপাতালে না গিয়ে বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের সঠিক পরিসংখ্যান যুক্ত হলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীরা অনেক সময় জ্বর কমে গেলে নিজেদের সুস্থ মনে করে ভুল করেন এবং দেরিতে হাসপাতালে যান। অথচ এই ক্রিটিক্যাল ফেজেই শুরু হয় আসল প্রাণঘাতী জটিলতা। জ্বর কমে যাওয়ার পর শরীর থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়া, রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া, শক সিন্ড্রোম, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল হাসপাতাল নয়, ডেঙ্গু দমনের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।

বাড়ির ছাদ, গাড়ি পার্কিং, ভবনের বেসমেন্ট, বারান্দা, ফুলের টব, এসি বা ফ্রিজের ট্রে, প্লাস্টিকের ড্রাম বা পরিত্যক্ত টায়ারে ৩ দিনের বেশি সময় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। জলবায়ু পরিবর্তন ও থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হওয়ায় ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত