গাজীপুরে স্কুলরুমে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. আনোয়ার হোসেন (২৫) নামের এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন (টাইম পিটিশন) করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (খানবাড়ী) এলাকার ‘আদর্শ শিশু কানন’ স্কুলে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। দণ্ডিত শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার করিম খানের ছেলে এবং তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে যথারীতি শিশুটি স্কুলে যায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্কুলে পৌঁছানোর পর বেলা ১১টার দিকে সে কান্নাকাটি করতে করতে বাসায় ফেরে। এ সময় তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে মাকে জানায়। পরে মা আদর করে কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, স্কুলের অন্য শিক্ষকেরা কক্ষ থেকে চলে যাওয়ার পর শিক্ষক আনোয়ার তাকে অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট সেলিনা বেগম এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মহিউদ্দিন খান।
রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘বাবা-মায়ের পর যেসব শিক্ষকের কাছে শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই শিক্ষকের দ্বারাই শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়া একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক অধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর হলেও এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে স্কুলরুমে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. আনোয়ার হোসেন (২৫) নামের এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন (টাইম পিটিশন) করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট গাজীপুর মহানগরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (খানবাড়ী) এলাকার ‘আদর্শ শিশু কানন’ স্কুলে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। দণ্ডিত শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার করিম খানের ছেলে এবং তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে যথারীতি শিশুটি স্কুলে যায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে স্কুলে পৌঁছানোর পর বেলা ১১টার দিকে সে কান্নাকাটি করতে করতে বাসায় ফেরে। এ সময় তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে মাকে জানায়। পরে মা আদর করে কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, স্কুলের অন্য শিক্ষকেরা কক্ষ থেকে চলে যাওয়ার পর শিক্ষক আনোয়ার তাকে অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট সেলিনা বেগম এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মহিউদ্দিন খান।
রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘বাবা-মায়ের পর যেসব শিক্ষকের কাছে শিশুরা সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেই শিক্ষকের দ্বারাই শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়া একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক অধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর হলেও এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন