গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব অবকাঠামো মানুষের যাতায়াত সহজ করে, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনে। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব, বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা কিংবা সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় অনেক সময় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোও মানুষের কাজে আসে না। কোথাও সেতু আছে তো সংযোগ সড়ক নেই। আবার কোথাও কোথাও পাকা সড়ক আছে, কিন্তু মাঝখানে সেতু না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
নীলফামারীর ডিমলায় প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট এর উদাহরণ। নির্মাণের পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি চালু করা যায়নি। ফলে চার ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের পরেশ সাধুর দহের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলেও সেতু না থাকায় সড়কটি কার্যত অচল। তিন ইউনিয়নের মানুষকে জেলা সদরে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রকল্প গ্রহণের সময়ই সেতু, কালভার্ট ও সংযোগ সড়কের কাজ সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। স্থানীয় বিরোধ থাকলে আগেই তা মীমাংসার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যবহার উপযোগিতা নিশ্চিত না করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।
রাষ্ট্রের টাকা খরচ হয় জনগণের কল্যাণে। তাই প্রতিটি প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাতেহবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করা যথেষ্ট নয়। সেটি কার্যকরভাবে চালু করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব অবকাঠামো মানুষের যাতায়াত সহজ করে, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনে। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব, বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা কিংবা সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় অনেক সময় সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোও মানুষের কাজে আসে না। কোথাও সেতু আছে তো সংযোগ সড়ক নেই। আবার কোথাও কোথাও পাকা সড়ক আছে, কিন্তু মাঝখানে সেতু না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
নীলফামারীর ডিমলায় প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বক্স কালভার্ট এর উদাহরণ। নির্মাণের পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি চালু করা যায়নি। ফলে চার ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের পরেশ সাধুর দহের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সেখানে দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলেও সেতু না থাকায় সড়কটি কার্যত অচল। তিন ইউনিয়নের মানুষকে জেলা সদরে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রকল্প গ্রহণের সময়ই সেতু, কালভার্ট ও সংযোগ সড়কের কাজ সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। স্থানীয় বিরোধ থাকলে আগেই তা মীমাংসার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যবহার উপযোগিতা নিশ্চিত না করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।
রাষ্ট্রের টাকা খরচ হয় জনগণের কল্যাণে। তাই প্রতিটি প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাতেহবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করা যথেষ্ট নয়। সেটি কার্যকরভাবে চালু করাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন