প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছিল। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার সব কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করে পরিবার কল্যাণকেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন নামে এসব কেন্দ্র চালু করে সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
নামের পরিবর্তন বা নতুন পরিচয় দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। দেশের বিভিন্ন এলাকার বাস্তবতা বলছে, বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোই নানা সমস্যায় জর্জরিত। টাঙ্গাইলের সখিপুরের লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক সাত বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিজের বেতনের টাকা দিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেবা চালাচ্ছেন। ভবনটি নষ্ট হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক প্রসবসেবাও বন্ধ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। একটি ক্লিনিক প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জেও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব চিত্র দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে।
সরকার নতুন নামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইলে আগে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধ ক্লিনিকগুলো চালু করতে হবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবার কল্যাণকেন্দ্র হলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সেবার পরিধি ও মানেরও পরিবর্তন ঘটতে হবে। মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, সেখান থেকে পাওয়া চিকিৎসাসেবা। তাই নাম বদলের উদ্যোগ যেন বিদ্যমান সংকট আড়াল করার উপলক্ষ না হয়।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছিল। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা, বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসাসেবার ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার সব কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করে পরিবার কল্যাণকেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন নামে এসব কেন্দ্র চালু করে সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
নামের পরিবর্তন বা নতুন পরিচয় দেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা। দেশের বিভিন্ন এলাকার বাস্তবতা বলছে, বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোই নানা সমস্যায় জর্জরিত। টাঙ্গাইলের সখিপুরের লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক সাত বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিজের বেতনের টাকা দিয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেবা চালাচ্ছেন। ভবনটি নষ্ট হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক প্রসবসেবাও বন্ধ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একাধিক কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। একটি ক্লিনিক প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জেও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব চিত্র দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে।
সরকার নতুন নামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইলে আগে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধ ক্লিনিকগুলো চালু করতে হবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবার কল্যাণকেন্দ্র হলে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সেবার পরিধি ও মানেরও পরিবর্তন ঘটতে হবে। মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, সেখান থেকে পাওয়া চিকিৎসাসেবা। তাই নাম বদলের উদ্যোগ যেন বিদ্যমান সংকট আড়াল করার উপলক্ষ না হয়।

আপনার মতামত লিখুন