রাজধানীসহ সারা দেশে যেকোনো জরুরি সংকট, আকস্মিক সন্ত্রাসী হামলা কিংবা নাশকতার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে ‘আছড়ে পড়বে’ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিশেষ প্রশিক্ষিত কমান্ডো টিম।
দেশের পাঁচ শতাধিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমনে উত্তরাস্থ সদর দপ্তরে ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) কৌশলগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। চার প্লাটুনে বিভক্ত ১০০ জনেরও বেশি কমান্ডো সদস্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষায়িত টিম, যারা সার্বক্ষণিক নজরদারির দায়িত্ব পালন করবেন।
এপিবিএন সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণের আগেই কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তরুণ সদস্যদের সমন্বয়ে দলটির পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জোরালো তৎপরতা চলছে। ইতিমধ্যেই খুলনা, চট্টগ্রাম এবং ১৩-এপিবিএন ব্যাটালিয়নে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এপিবিএনের প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এ ধরনের স্পেশাল টিম গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পুরো বাহিনীর সংকেত ও সংকট মোকাবেলার প্রস্তুতিকে দারুণভাবে জোরদার করবে।
কর্মসূচির সার্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ বলেন, “সংকটময় পরিস্থিতি কার্যকর ভাবে মোকাবেলায় একটি দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যে কোনো অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত।”
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
উত্তরায় বাহিনীটির সদর দপ্তরের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক ট্রেনিং সেন্টারে অত্যন্ত নিখুঁত চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমেরিকান এলিট বাহিনীর আদলে গড়ে তোলা এই শক্তিশালী টিমের ১০০ সদস্যকে প্রথম ধাপে মাঠের অভিযানে নামানোর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বাহিনীকে সর্বাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হচ্ছে।
এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসহ সব স্পর্শকাতর পয়েন্টে এপিবিএনের বিশেষ বাহিনী সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কাজ করা এসপিবিএন টিমকে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ে কঠোর কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শীর্ষ কর্মকর্তারা গতকাল রাতেই মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন।
সন্ত্রাসী আটক, জিম্মি উদ্ধার, বোমার উপস্থিতি নিষ্ক্রিয়করণ এবং অপহৃত ব্যক্তির মুক্তিপণ চাওয়া চক্র ভেঙে চূর্ণ করতে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ট্রেইনাররা প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
এপিবিএনের কয়েকজন ডিআইজি স্পষ্ট জানান, ৮ সপ্তাহের নিবিড় কমান্ডো প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং দেশের যেকোনো হামলা প্রতিরোধে তারা যা দরকার সবই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীসহ সারা দেশে যেকোনো জরুরি সংকট, আকস্মিক সন্ত্রাসী হামলা কিংবা নাশকতার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে ‘আছড়ে পড়বে’ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিশেষ প্রশিক্ষিত কমান্ডো টিম।
দেশের পাঁচ শতাধিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমনে উত্তরাস্থ সদর দপ্তরে ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) কৌশলগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। চার প্লাটুনে বিভক্ত ১০০ জনেরও বেশি কমান্ডো সদস্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষায়িত টিম, যারা সার্বক্ষণিক নজরদারির দায়িত্ব পালন করবেন।
এপিবিএন সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণের আগেই কমান্ডো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তরুণ সদস্যদের সমন্বয়ে দলটির পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জোরালো তৎপরতা চলছে। ইতিমধ্যেই খুলনা, চট্টগ্রাম এবং ১৩-এপিবিএন ব্যাটালিয়নে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এপিবিএনের প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এ ধরনের স্পেশাল টিম গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পুরো বাহিনীর সংকেত ও সংকট মোকাবেলার প্রস্তুতিকে দারুণভাবে জোরদার করবে।
কর্মসূচির সার্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে এপিবিএন প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ বলেন, “সংকটময় পরিস্থিতি কার্যকর ভাবে মোকাবেলায় একটি দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও যে কোনো অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত।”
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহানসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
উত্তরায় বাহিনীটির সদর দপ্তরের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক ট্রেনিং সেন্টারে অত্যন্ত নিখুঁত চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমেরিকান এলিট বাহিনীর আদলে গড়ে তোলা এই শক্তিশালী টিমের ১০০ সদস্যকে প্রথম ধাপে মাঠের অভিযানে নামানোর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই বাহিনীকে সর্বাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হচ্ছে।
এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাসহ সব স্পর্শকাতর পয়েন্টে এপিবিএনের বিশেষ বাহিনী সর্বাত্মক দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কাজ করা এসপিবিএন টিমকে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ে কঠোর কমান্ডো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শীর্ষ কর্মকর্তারা গতকাল রাতেই মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন।
সন্ত্রাসী আটক, জিম্মি উদ্ধার, বোমার উপস্থিতি নিষ্ক্রিয়করণ এবং অপহৃত ব্যক্তির মুক্তিপণ চাওয়া চক্র ভেঙে চূর্ণ করতে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক ট্রেইনাররা প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
এপিবিএনের কয়েকজন ডিআইজি স্পষ্ট জানান, ৮ সপ্তাহের নিবিড় কমান্ডো প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং দেশের যেকোনো হামলা প্রতিরোধে তারা যা দরকার সবই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবেন।

আপনার মতামত লিখুন