শীতের প্রস্তুতিতে লেপ-কম্বল বের করার পাশাপাশি বিছানার ম্যাট্রেস বা জাজিমের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সারা বছর ব্যবহারের কারণে এর ভেতরে জমতে পারে ধুলাবালি, ঘাম, মৃত কোষ, খাবারের কণা ও ধুলোর মাইট। বাইরে থেকে পরিষ্কার মনে হলেও এসব উপাদান থেকে তৈরি হতে পারে দুর্গন্ধ ও অস্বস্তি।
তাই শীতের আরামদায়ক ঘুমের জন্য আগে থেকেই বিছানার এই অংশগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। ঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করেই ম্যাট্রেসের ওপরের ময়লা ও দুর্গন্ধ কমানো সম্ভব।
পরিষ্কারের শুরুতে যা করবেন
প্রথমে ম্যাট্রেস থেকে চাদর, বালিশের কভার ও আলাদা কভার খুলে ফেলুন। সেগুলো আলাদাভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।
এরপর ম্যাট্রেসের ওপরের অংশ, নিচের দিক, কোণা ও সেলাইয়ের জায়গা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। এসব স্থানে ধুলা ও ছোট ছোট ময়লা বেশি জমে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার না থাকলে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ধুলা সরিয়ে নিতে পারেন। তবে জোরে ঝাড়াঝাড়ি করা ঠিক নয়। এতে ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দুর্গন্ধ কমাতে ব্যবহার করুন বেকিং সোডা
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ঘাম ও স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে ম্যাট্রেসে গন্ধ তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে বেকিং সোডা কাজে লাগতে পারে।
ম্যাট্রেসের ওপর অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা ছড়িয়ে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে গুঁড়াগুলো ভালোভাবে সরিয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা দুর্গন্ধ শোষণে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যবহারের আগে ম্যাট্রেসের উপাদানের সঙ্গে এটি মানানসই কি না, তা ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।
দাগ তুলতে পানি ব্যবহারে সতর্কতা
চা, কফি বা খাবার পড়ে দাগ তৈরি হলে দেরি না করে পরিষ্কার করা ভালো। এ জন্য সামান্য পানি ও মৃদু সাবান মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন। পরিষ্কার কাপড় ওই দ্রবণে হালকা ভিজিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে চেপে মুছুন।
দাগ তুলতে ঘষাঘষি করবেন না। এতে দাগ ছড়িয়ে যেতে পারে। মুছে নেওয়ার পর শুকনো কাপড় দিয়ে বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নিন।
ম্যাট্রেসে সরাসরি পানি ঢালা বা অতিরিক্ত ভেজানো থেকে বিরত থাকুন। ভেতরে পানি আটকে থাকলে ছত্রাক ও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
রোদ ও বাতাসে শুকিয়ে নিন
পরিষ্কারের পর ম্যাট্রেসের আর্দ্রতা দূর করা জরুরি। সম্ভব হলে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় কিছুক্ষণ রাখুন। রোদে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কারণ সব ধরনের ফোম বা ম্যাট্রেস দীর্ঘ সময় সরাসরি কড়া রোদে রাখা উপযুক্ত নয়।
ব্যবহারের আগে ম্যাট্রেসের প্রতিটি অংশ সম্পূর্ণ শুকিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
জাজিম পরিষ্কারে আলাদা যত্ন
জাজিমের ভেতরে তুলা বা অন্য কোনো ভরাট উপাদান থাকলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ভেতরের অংশ শুকাতে অনেক সময় লাগতে পারে। প্রথমে নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলা সরিয়ে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে বাইরের অংশ মুছুন।
জাজিমের কভার খোলা গেলে সেটি আলাদা করে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন।
শীতজুড়ে বিছানা পরিচ্ছন্ন রাখবেন যেভাবে
একবার পরিষ্কার করলেই সারা শীত বিছানা পরিচ্ছন্ন থাকবে না। নিয়মিত কিছু অভ্যাস বজায় রাখলে ম্যাট্রেস ও জাজিমে ময়লা জমার প্রবণতা কমানো যায়।
ম্যাট্রেসে ছত্রাক দেখা দিলে বা দুর্গন্ধ দূর না হলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার পরিষেবার সাহায্য নিন।
শীতের আরামদায়ক ঘুমের জন্য লেপ-কম্বলের পাশাপাশি বিছানার পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ম্যাট্রেস ও জাজিম পরিষ্কারে কিছুটা সময় দিন।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
শীতের প্রস্তুতিতে লেপ-কম্বল বের করার পাশাপাশি বিছানার ম্যাট্রেস বা জাজিমের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সারা বছর ব্যবহারের কারণে এর ভেতরে জমতে পারে ধুলাবালি, ঘাম, মৃত কোষ, খাবারের কণা ও ধুলোর মাইট। বাইরে থেকে পরিষ্কার মনে হলেও এসব উপাদান থেকে তৈরি হতে পারে দুর্গন্ধ ও অস্বস্তি।
তাই শীতের আরামদায়ক ঘুমের জন্য আগে থেকেই বিছানার এই অংশগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। ঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করেই ম্যাট্রেসের ওপরের ময়লা ও দুর্গন্ধ কমানো সম্ভব।
পরিষ্কারের শুরুতে যা করবেন
প্রথমে ম্যাট্রেস থেকে চাদর, বালিশের কভার ও আলাদা কভার খুলে ফেলুন। সেগুলো আলাদাভাবে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন।
এরপর ম্যাট্রেসের ওপরের অংশ, নিচের দিক, কোণা ও সেলাইয়ের জায়গা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। এসব স্থানে ধুলা ও ছোট ছোট ময়লা বেশি জমে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার না থাকলে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ধুলা সরিয়ে নিতে পারেন। তবে জোরে ঝাড়াঝাড়ি করা ঠিক নয়। এতে ধুলা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দুর্গন্ধ কমাতে ব্যবহার করুন বেকিং সোডা
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ঘাম ও স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে ম্যাট্রেসে গন্ধ তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে বেকিং সোডা কাজে লাগতে পারে।
ম্যাট্রেসের ওপর অল্প পরিমাণ বেকিং সোডা ছড়িয়ে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে গুঁড়াগুলো ভালোভাবে সরিয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা দুর্গন্ধ শোষণে সাহায্য করতে পারে। তবে ব্যবহারের আগে ম্যাট্রেসের উপাদানের সঙ্গে এটি মানানসই কি না, তা ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।
দাগ তুলতে পানি ব্যবহারে সতর্কতা
চা, কফি বা খাবার পড়ে দাগ তৈরি হলে দেরি না করে পরিষ্কার করা ভালো। এ জন্য সামান্য পানি ও মৃদু সাবান মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করুন। পরিষ্কার কাপড় ওই দ্রবণে হালকা ভিজিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে চেপে মুছুন।
দাগ তুলতে ঘষাঘষি করবেন না। এতে দাগ ছড়িয়ে যেতে পারে। মুছে নেওয়ার পর শুকনো কাপড় দিয়ে বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নিন।
ম্যাট্রেসে সরাসরি পানি ঢালা বা অতিরিক্ত ভেজানো থেকে বিরত থাকুন। ভেতরে পানি আটকে থাকলে ছত্রাক ও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
রোদ ও বাতাসে শুকিয়ে নিন
পরিষ্কারের পর ম্যাট্রেসের আর্দ্রতা দূর করা জরুরি। সম্ভব হলে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় কিছুক্ষণ রাখুন। রোদে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কারণ সব ধরনের ফোম বা ম্যাট্রেস দীর্ঘ সময় সরাসরি কড়া রোদে রাখা উপযুক্ত নয়।
ব্যবহারের আগে ম্যাট্রেসের প্রতিটি অংশ সম্পূর্ণ শুকিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
জাজিম পরিষ্কারে আলাদা যত্ন
জাজিমের ভেতরে তুলা বা অন্য কোনো ভরাট উপাদান থাকলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ভেতরের অংশ শুকাতে অনেক সময় লাগতে পারে। প্রথমে নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলা সরিয়ে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে বাইরের অংশ মুছুন।
জাজিমের কভার খোলা গেলে সেটি আলাদা করে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন।
শীতজুড়ে বিছানা পরিচ্ছন্ন রাখবেন যেভাবে
একবার পরিষ্কার করলেই সারা শীত বিছানা পরিচ্ছন্ন থাকবে না। নিয়মিত কিছু অভ্যাস বজায় রাখলে ম্যাট্রেস ও জাজিমে ময়লা জমার প্রবণতা কমানো যায়।
ম্যাট্রেসে ছত্রাক দেখা দিলে বা দুর্গন্ধ দূর না হলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার পরিষেবার সাহায্য নিন।
শীতের আরামদায়ক ঘুমের জন্য লেপ-কম্বলের পাশাপাশি বিছানার পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ম্যাট্রেস ও জাজিম পরিষ্কারে কিছুটা সময় দিন।

আপনার মতামত লিখুন