রান্নার মসলা হিসেবে হলুদের পরিচিতি থাকলেও রূপচর্চায়ও এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের। ত্বকের পাশাপাশি চুল ও মাথার ত্বকের যত্নেও অনেকে হলুদ ব্যবহার করেন। খুশকি, চুলের শুষ্কতা কিংবা মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমানোর আশায় তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের প্যাক ও তেল।
হলুদে থাকা কারকিউমিনের প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে হলুদ ব্যবহার করলেই খুশকি, সংক্রমণ বা চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে কিংবা নতুন চুল গজাবে - এমন নিশ্চয়তা নেই। তবু ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
অলিভ অয়েল ও টকদইয়ের সঙ্গে হেয়ার প্যাক
চুলের শুষ্কতা কমাতে অলিভ অয়েলের সঙ্গে হলুদ ও টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়।
ব্যবহারের নিয়ম: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
খুশকির যত্নে হলুদ-পানি
এক কাপ ঈষদুষ্ণ পানিতে এক চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধোয়ার পর মিশ্রণটি ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে ঢালুন। ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
তবে খুশকি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু এই ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
নারিকেল বা অলিভ অয়েলে হলুদ মিশিয়ে নিন
ব্যবহারের নিয়ম: তেলের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে হালকা গরম করুন। এরপর ঠান্ডা করে চুল ও মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করুন। অন্তত এক ঘণ্টা রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য হলুদ
হাতের তালুতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে তাতে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মেশানো যায়। এরপর মিশ্রণটি মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে সংবেদনশীল মাথার ত্বকে এ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো। শ্যাম্পুর সঙ্গে হলুদ মেশালে খুশকি বা চুলের রুক্ষতা কমবেই, এমন প্রমাণ নেই।
পেঁয়াজের রস, মধু ও হলুদের প্যাক
ব্যবহারের নিয়ম: সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
পেঁয়াজের রসে সালফার থাকলেও এই প্যাক চুল পড়া বন্ধ করবে বা চুলের গোড়া মজবুত করবে - এমন নিশ্চয়তা নেই। পেঁয়াজের রস কারও কারও মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
চুলে হলুদ ব্যবহারের আগে সতর্কতা
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও হলুদ সবার ত্বকে সহনীয় নাও হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
চুল সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন যত্নও জরুরি
শুধু হেয়ার প্যাক বা তেল ব্যবহার করলেই চুলের সব সমস্যা দূর হয় না। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত পরিচর্যাও গুরুত্বপূর্ণ।
চুল অতিরিক্ত পড়লে, মাথার ত্বকে প্রদাহ দেখা দিলে কিংবা দীর্ঘদিন খুশকির সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
রান্নার মসলা হিসেবে হলুদের পরিচিতি থাকলেও রূপচর্চায়ও এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের। ত্বকের পাশাপাশি চুল ও মাথার ত্বকের যত্নেও অনেকে হলুদ ব্যবহার করেন। খুশকি, চুলের শুষ্কতা কিংবা মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমানোর আশায় তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের প্যাক ও তেল।
হলুদে থাকা কারকিউমিনের প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে হলুদ ব্যবহার করলেই খুশকি, সংক্রমণ বা চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে কিংবা নতুন চুল গজাবে - এমন নিশ্চয়তা নেই। তবু ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
অলিভ অয়েল ও টকদইয়ের সঙ্গে হেয়ার প্যাক
চুলের শুষ্কতা কমাতে অলিভ অয়েলের সঙ্গে হলুদ ও টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়।
ব্যবহারের নিয়ম: সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
খুশকির যত্নে হলুদ-পানি
এক কাপ ঈষদুষ্ণ পানিতে এক চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধোয়ার পর মিশ্রণটি ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে ঢালুন। ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
তবে খুশকি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু এই ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
নারিকেল বা অলিভ অয়েলে হলুদ মিশিয়ে নিন
ব্যবহারের নিয়ম: তেলের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে হালকা গরম করুন। এরপর ঠান্ডা করে চুল ও মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করুন। অন্তত এক ঘণ্টা রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য হলুদ
হাতের তালুতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে তাতে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মেশানো যায়। এরপর মিশ্রণটি মাথার ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
তবে সংবেদনশীল মাথার ত্বকে এ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো। শ্যাম্পুর সঙ্গে হলুদ মেশালে খুশকি বা চুলের রুক্ষতা কমবেই, এমন প্রমাণ নেই।
পেঁয়াজের রস, মধু ও হলুদের প্যাক
ব্যবহারের নিয়ম: সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
পেঁয়াজের রসে সালফার থাকলেও এই প্যাক চুল পড়া বন্ধ করবে বা চুলের গোড়া মজবুত করবে - এমন নিশ্চয়তা নেই। পেঁয়াজের রস কারও কারও মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
চুলে হলুদ ব্যবহারের আগে সতর্কতা
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও হলুদ সবার ত্বকে সহনীয় নাও হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
চুল সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন যত্নও জরুরি
শুধু হেয়ার প্যাক বা তেল ব্যবহার করলেই চুলের সব সমস্যা দূর হয় না। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত পরিচর্যাও গুরুত্বপূর্ণ।
চুল অতিরিক্ত পড়লে, মাথার ত্বকে প্রদাহ দেখা দিলে কিংবা দীর্ঘদিন খুশকির সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন