সংবাদ

হলুদের সাপ্লিমেন্টে যকৃতের ঝুঁকি কতটা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

হলুদের সাপ্লিমেন্টে যকৃতের ঝুঁকি কতটা

রান্নায় ব্যবহৃত হলুদ সাধারণত নিরাপদ। তবে একই হলুদ থেকে তৈরি ঘনীভূত কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস, কোলেস্টেসিস ও গুরুতর যকৃতের সমস্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

যকৃতের যত্নে হলুদের উপকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলুদ এবং ক্যাপসুল বা নির্যাসে থাকা ঘনীভূত কারকিউমিনের মাত্রা এক নয়।

সাপ্লিমেন্ট থেকে যকৃতের ক্ষতির নজির

হলুদ ও কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত যকৃতের ক্ষতির কয়েক ডজন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করার পর সুস্থ হয়েছেন। তবে কিছু ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এমনকি যকৃত বিকল হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি নেটওয়ার্কের (ডিআইএলআইএন) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যকৃতের ক্ষতির ২ হাজার ৩৯২টি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ১০টি ঘটনার সঙ্গে হলুদ সাপ্লিমেন্টের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের আগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গড়ে ৮৬ দিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের একটি কারণ হলো, উচ্চমাত্রার কারকিউমিন। এর শোষণ বাড়াতে কিছু সাপ্লিমেন্টে পাইপেরিন বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। এতে শরীরে কারকিউমিনের মাত্রা বেড়ে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার কিছু পণ্যে আর্সেনিক ও সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও যকৃতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হলুদ ও কারকিউমিন এক নয়

হলুদ হলো Curcuma longa উদ্ভিদের শিকড় থেকে পাওয়া মসলা। অন্যদিকে কারকিউমিন হলো হলুদের অন্যতম সক্রিয় উপাদান। হলুদের শিকড়ে কারকিউমিনের পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশ। ফলে রান্নায় ব্যবহৃত হলুদের তুলনায় কারকিউমিন সাপ্লিমেন্টে এই উপাদানের ঘনত্ব অনেক বেশি হতে পারে।

বাজারে হলুদ ও কারকিউমিন ক্যাপসুল, গুঁড়া, চা এবং তরল নির্যাস হিসেবে পাওয়া যায়। কিছু প্রস্তুতকারক শোষণ বাড়ানোর জন্য এসব পণ্যে পাইপেরিনও যুক্ত করেন। তাই শুধু পণ্যের নাম দেখে এর উপাদান বা কার্যকারিতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

যকৃতের জন্য হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা

ঝুঁকির পাশাপাশি হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এর প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যকৃতের বিভিন্ন রোগের সঙ্গে এসব বিষয় সম্পর্কিত, যার মধ্যে ফ্যাটি লিভারও রয়েছে।

কারকিউমিন প্রদাহের কিছু নির্দেশকের মাত্রা কমাতে এবং যকৃতের এনজাইমের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় যকৃতের ফাইব্রোসিস কমানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনরুদ্ধারে এর সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার বিশ্লেষণে কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর যকৃতের এনজাইমের মাত্রা ও যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ক্ষেত্রে উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোট কোলেস্টেরল ও বডি মাস ইনডেক্সেও (বিএমআই) পরিবর্তন দেখা গেছে।

তবে এসব গবেষণার ফলাফলকে যকৃতের রোগের চিকিৎসা হিসেবে হলুদ বা কারকিউমিন ব্যবহারের নিশ্চয়তা মনে করা যাবে না।

কতটুকু গ্রহণ নিরাপদ?

হলুদ সাপ্লিমেন্টের নিরাপদ মাত্রা নির্ভর করে এর উপাদান, ঘনত্ব ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর। গবেষণায় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ২ হাজার মিলিগ্রাম হলুদ গ্রহণকে সাধারণত নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিদিন ৮ গ্রামের বেশি কারকিউমিন গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের কম কারকিউমিন গ্রহণেও যকৃতের এনজাইমের মাত্রায় উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ধরনের ফলাফল দেখে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করা উচিত নয়।

রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু সাপ্লিমেন্টে সক্রিয় উপাদান ঘনীভূত থাকায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যকৃতের ক্ষতি হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

হলুদ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন:

  • পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
  • বমিভাব ও ক্ষুধামন্দা
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
  • ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া

বিশেষ করে নতুন কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরুর পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।

কারা হলুদ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকবেন?

সবার শরীরে হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্টের প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কিছু ক্ষেত্রে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

হেপাটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধার মতো যকৃতের সমস্যা থাকলে এসব সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলতে হবে।

HLA-B*35:01-এর মতো জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

গর্ভবতী নারী, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারী এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা উচিত।

যকৃতের ক্ষতি করতে পারে এমন ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার অ্যাসিটামিনোফেনও রয়েছে।

এ ছাড়া হলুদ বা কারকিউমিনের সঙ্গে কিছু ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এতে শরীরে ওষুধের কার্যকর মাত্রা বেড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।

মসলা হিসেবে হলুদ আর সাপ্লিমেন্ট এক নয়

খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার এবং ঘনীভূত কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়। রান্নার হলুদ সাধারণত নিরাপদ হলেও বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্টে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই যকৃতের সুস্থতার আশায় নিজে থেকে এসব পণ্য গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


হলুদের সাপ্লিমেন্টে যকৃতের ঝুঁকি কতটা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রান্নায় ব্যবহৃত হলুদ সাধারণত নিরাপদ। তবে একই হলুদ থেকে তৈরি ঘনীভূত কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস, কোলেস্টেসিস ও গুরুতর যকৃতের সমস্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

যকৃতের যত্নে হলুদের উপকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলুদ এবং ক্যাপসুল বা নির্যাসে থাকা ঘনীভূত কারকিউমিনের মাত্রা এক নয়।

সাপ্লিমেন্ট থেকে যকৃতের ক্ষতির নজির

হলুদ ও কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত যকৃতের ক্ষতির কয়েক ডজন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ সাপ্লিমেন্ট বন্ধ করার পর সুস্থ হয়েছেন। তবে কিছু ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এমনকি যকৃত বিকল হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি নেটওয়ার্কের (ডিআইএলআইএন) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যকৃতের ক্ষতির ২ হাজার ৩৯২টি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ১০টি ঘটনার সঙ্গে হলুদ সাপ্লিমেন্টের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে লক্ষণ প্রকাশের আগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গড়ে ৮৬ দিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের একটি কারণ হলো, উচ্চমাত্রার কারকিউমিন। এর শোষণ বাড়াতে কিছু সাপ্লিমেন্টে পাইপেরিন বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। এতে শরীরে কারকিউমিনের মাত্রা বেড়ে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার কিছু পণ্যে আর্সেনিক ও সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতিও যকৃতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

হলুদ ও কারকিউমিন এক নয়

হলুদ হলো Curcuma longa উদ্ভিদের শিকড় থেকে পাওয়া মসলা। অন্যদিকে কারকিউমিন হলো হলুদের অন্যতম সক্রিয় উপাদান। হলুদের শিকড়ে কারকিউমিনের পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশ। ফলে রান্নায় ব্যবহৃত হলুদের তুলনায় কারকিউমিন সাপ্লিমেন্টে এই উপাদানের ঘনত্ব অনেক বেশি হতে পারে।

বাজারে হলুদ ও কারকিউমিন ক্যাপসুল, গুঁড়া, চা এবং তরল নির্যাস হিসেবে পাওয়া যায়। কিছু প্রস্তুতকারক শোষণ বাড়ানোর জন্য এসব পণ্যে পাইপেরিনও যুক্ত করেন। তাই শুধু পণ্যের নাম দেখে এর উপাদান বা কার্যকারিতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

যকৃতের জন্য হলুদের সম্ভাব্য উপকারিতা

ঝুঁকির পাশাপাশি হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিনের কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এর প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। যকৃতের বিভিন্ন রোগের সঙ্গে এসব বিষয় সম্পর্কিত, যার মধ্যে ফ্যাটি লিভারও রয়েছে।

কারকিউমিন প্রদাহের কিছু নির্দেশকের মাত্রা কমাতে এবং যকৃতের এনজাইমের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় যকৃতের ফাইব্রোসিস কমানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনরুদ্ধারে এর সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার বিশ্লেষণে কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর যকৃতের এনজাইমের মাত্রা ও যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ক্ষেত্রে উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোট কোলেস্টেরল ও বডি মাস ইনডেক্সেও (বিএমআই) পরিবর্তন দেখা গেছে।

তবে এসব গবেষণার ফলাফলকে যকৃতের রোগের চিকিৎসা হিসেবে হলুদ বা কারকিউমিন ব্যবহারের নিশ্চয়তা মনে করা যাবে না।

কতটুকু গ্রহণ নিরাপদ?

হলুদ সাপ্লিমেন্টের নিরাপদ মাত্রা নির্ভর করে এর উপাদান, ঘনত্ব ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর। গবেষণায় প্রতিদিন ৫০০ থেকে ২ হাজার মিলিগ্রাম হলুদ গ্রহণকে সাধারণত নিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিদিন ৮ গ্রামের বেশি কারকিউমিন গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের কম কারকিউমিন গ্রহণেও যকৃতের এনজাইমের মাত্রায় উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ধরনের ফলাফল দেখে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করা উচিত নয়।

রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু সাপ্লিমেন্টে সক্রিয় উপাদান ঘনীভূত থাকায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যকৃতের ক্ষতি হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

হলুদ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন:

  • পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
  • বমিভাব ও ক্ষুধামন্দা
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা
  • প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
  • ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া

বিশেষ করে নতুন কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরুর পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।

কারা হলুদ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকবেন?

সবার শরীরে হলুদ বা কারকিউমিন সাপ্লিমেন্টের প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না। কিছু ক্ষেত্রে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

হেপাটাইটিস বা পিত্তনালিতে বাধার মতো যকৃতের সমস্যা থাকলে এসব সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলতে হবে।

HLA-B*35:01-এর মতো জিনগত বৈশিষ্ট্য থাকলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

গর্ভবতী নারী, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারী এবং গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা উচিত।

যকৃতের ক্ষতি করতে পারে এমন ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার অ্যাসিটামিনোফেনও রয়েছে।

এ ছাড়া হলুদ বা কারকিউমিনের সঙ্গে কিছু ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এতে শরীরে ওষুধের কার্যকর মাত্রা বেড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।

মসলা হিসেবে হলুদ আর সাপ্লিমেন্ট এক নয়

খাবারে স্বাভাবিক পরিমাণে হলুদ ব্যবহার এবং ঘনীভূত কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকে একইভাবে দেখা ঠিক নয়। রান্নার হলুদ সাধারণত নিরাপদ হলেও বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্টে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই যকৃতের সুস্থতার আশায় নিজে থেকে এসব পণ্য গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত