সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বাংলা নববর্ষ দেশে দেশে


রাশেদ আহমেদ
রাশেদ আহমেদ
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ এএম

বাংলা নববর্ষ দেশে দেশে

বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্য ছাড়াও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে ও আমেজে পালনা করা হয় বঙ্গাব্দের নববর্ষ। এই নববর্ষ বাংলা নববর্ষের কাছাকাছি বা একই দিনে পালন হয়ে থাকে।

বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ যা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে বাংলাদেশে ১৪ই এপ্রিলে পালন করা হয়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও দিনটি বিশেষ উৎসবের।

কেবল বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে ১৪ই এপ্রিলে নতুন বর্ষবরণের উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্য ছাড়াও মিয়ানমার নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, এবং লাওস অন্যতম।

এক সময় বঙ্গাব্দের নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হতো। এখন যেমন বাংলা নতুন বছরের শুরুর দিনটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় তেমনটি ছিল না। ইতিহাসবিদদের হিসেব অনুযায়ী ১৫৫৬ সাল থেকে বাংলা সন প্রবর্তন হয়েছে।

মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তার সভার জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লা শিরাজীর সহযোগিতায় 'তারিখ-এ-এলাহি' নামে নতুন একটি বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন। কারণ সে সময় নতুন ফসল ঘরে উঠতো।

তবে বাংলা সন শূন্য থেকে শুরু হয়নি। যে বছর বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়, সে বছর হিজরি সন ছিল ৯২৩ হিজরি। সে অনুযায়ী সম্রাটের নির্দেশে প্রবর্তনের বছরই ৯২৩ বছর বয়স নিয়েই যাত্রা শুরু হয় বাংলা সনের।

মিয়ানমারের নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে থিংইয়ান বলা হয়। বার্মিজ ভাষায় এর অর্থ পরিবর্তন বা এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর। এ দিনটিতে হয় থিংইয়ান উৎসব, যেখানে পানি উৎসব হয় বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায়।

নতুন বছরের প্রথম দিনটি সাধারণত মধ্য-এপ্রিলে হয়ে থাকে, তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট দিনে তা পালন হবে তা হিসেব করা হয় মিয়ানমারের সৌর এবং চন্দ্র পঞ্জিকার গণনা মিলিয়ে।

থাইল্যান্ডের নতুন বছরের শুরুর দিনটি সংক্রান উৎসব নামে পরিচিত। সংক্রান শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ সংক্রান্তি থেকে এসেছে। থাইল্যান্ডে মূলত এটি এপ্রিলের ১৩ তারিখে শুরু হয়। ২০১৮ সালে থাই সরকার উৎসবের দৈর্ঘ্য ১২ই এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা করে। থাই এবং মালয়েশিয়ান সিয়ামিজ গোত্রের মানুষেরাই মূলত ধর্মীয় রীতি মেনে এ উৎসব পালন করেন, কিন্তু উদযাপন হয় দেশজুড়ে।

শ্রীলংকার নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে আলুথ আবুরুদ্ধাও বলা হয়। মূলত সিনহালিজদের উৎসব হলেও দেশটির সকল মানুষ উদযাপনে সামিল হন। শ্রীলংকার এই নববর্ষ ইংরেজি ১৪ই এপ্রিল পালন করা হয়। চলে এক সপ্তাহ ধরে।

এ উৎসবটিও সৌর পঞ্জিকা অনুসারে পালন করা হয়, কিন্তু ঠিক কোন দিনে পালন করা হবে দিনটি, সেটি নির্ধারণ করা হয় নতুন চাঁদের হিসেবে। বর্ষবরণে গরুর দৌড়ের মত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা হয় সেখানে।

কম্বোডিয়াতে ১৪ই এপ্রিল নববর্ষ পালন করা হয়। দেশটিতে দিনটিকে বলা হয় চউল সানাম থামাই, এর মানে নতুন বছরে প্রবেশ করা।

উৎসবের শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে সকাল বেলায় ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে। এরপর প্যাগোডা বা বৌদ্ধমন্দির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে নতুন বছরের স্বাগত জানাতে শুরু করেন অধিবাসীরা।

১৪ই এপ্রিল নেপালের আনুষ্ঠানিক বর্ষ পঞ্জিকা বিক্রম সাম্বাতের প্রথম দিন। সৌর পঞ্জিকার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কোন দিনে পালন হবে উৎসব, তবে সাধারণত ১৪ই এপ্রিলেই হয় উৎসবটি। 

লাওসেও সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখের প্রথম দিনটি পালন করা হয়। স্থানীয়ভাবে এর নাম সংক্রান বা পি-মেই, যার মানে নতুন সংক্রান্তি বা নতুন বছর। দেশটিতে তিন দিন ধরে চলে উৎসব আনুষ্ঠানিকতা।

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করা হয়। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মনিপুর, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন নামে পালন হয় বছরের প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিন। পাঞ্জাবে বৈশাখী, কেরালায় ভিষু, আসামে বিহু, তামিল নাডুতে পুথান্দু, উড়িষ্যায় পান সংক্রান্তি, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায় পহেলা বৈশাখ নামে এই উৎসব হয়ে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


বাংলা নববর্ষ দেশে দেশে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্য ছাড়াও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে ও আমেজে পালনা করা হয় বঙ্গাব্দের নববর্ষ। এই নববর্ষ বাংলা নববর্ষের কাছাকাছি বা একই দিনে পালন হয়ে থাকে।

বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ যা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে বাংলাদেশে ১৪ই এপ্রিলে পালন করা হয়। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও দিনটি বিশেষ উৎসবের।

কেবল বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে ১৪ই এপ্রিলে নতুন বর্ষবরণের উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্য ছাড়াও মিয়ানমার নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া, এবং লাওস অন্যতম।

এক সময় বঙ্গাব্দের নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হতো। এখন যেমন বাংলা নতুন বছরের শুরুর দিনটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় তেমনটি ছিল না। ইতিহাসবিদদের হিসেব অনুযায়ী ১৫৫৬ সাল থেকে বাংলা সন প্রবর্তন হয়েছে।

মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তার সভার জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লা শিরাজীর সহযোগিতায় 'তারিখ-এ-এলাহি' নামে নতুন একটি বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন। কারণ সে সময় নতুন ফসল ঘরে উঠতো।

তবে বাংলা সন শূন্য থেকে শুরু হয়নি। যে বছর বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়, সে বছর হিজরি সন ছিল ৯২৩ হিজরি। সে অনুযায়ী সম্রাটের নির্দেশে প্রবর্তনের বছরই ৯২৩ বছর বয়স নিয়েই যাত্রা শুরু হয় বাংলা সনের।

মিয়ানমারের নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে থিংইয়ান বলা হয়। বার্মিজ ভাষায় এর অর্থ পরিবর্তন বা এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর। এ দিনটিতে হয় থিংইয়ান উৎসব, যেখানে পানি উৎসব হয় বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায়।

নতুন বছরের প্রথম দিনটি সাধারণত মধ্য-এপ্রিলে হয়ে থাকে, তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট দিনে তা পালন হবে তা হিসেব করা হয় মিয়ানমারের সৌর এবং চন্দ্র পঞ্জিকার গণনা মিলিয়ে।

থাইল্যান্ডের নতুন বছরের শুরুর দিনটি সংক্রান উৎসব নামে পরিচিত। সংক্রান শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ সংক্রান্তি থেকে এসেছে। থাইল্যান্ডে মূলত এটি এপ্রিলের ১৩ তারিখে শুরু হয়। ২০১৮ সালে থাই সরকার উৎসবের দৈর্ঘ্য ১২ই এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষণা করে। থাই এবং মালয়েশিয়ান সিয়ামিজ গোত্রের মানুষেরাই মূলত ধর্মীয় রীতি মেনে এ উৎসব পালন করেন, কিন্তু উদযাপন হয় দেশজুড়ে।


শ্রীলংকার নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে আলুথ আবুরুদ্ধাও বলা হয়। মূলত সিনহালিজদের উৎসব হলেও দেশটির সকল মানুষ উদযাপনে সামিল হন। শ্রীলংকার এই নববর্ষ ইংরেজি ১৪ই এপ্রিল পালন করা হয়। চলে এক সপ্তাহ ধরে।

এ উৎসবটিও সৌর পঞ্জিকা অনুসারে পালন করা হয়, কিন্তু ঠিক কোন দিনে পালন করা হবে দিনটি, সেটি নির্ধারণ করা হয় নতুন চাঁদের হিসেবে। বর্ষবরণে গরুর দৌড়ের মত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা হয় সেখানে।

কম্বোডিয়াতে ১৪ই এপ্রিল নববর্ষ পালন করা হয়। দেশটিতে দিনটিকে বলা হয় চউল সানাম থামাই, এর মানে নতুন বছরে প্রবেশ করা।

উৎসবের শুরু হয় বৌদ্ধ মন্দিরে সকাল বেলায় ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে। এরপর প্যাগোডা বা বৌদ্ধমন্দির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে নতুন বছরের স্বাগত জানাতে শুরু করেন অধিবাসীরা।

১৪ই এপ্রিল নেপালের আনুষ্ঠানিক বর্ষ পঞ্জিকা বিক্রম সাম্বাতের প্রথম দিন। সৌর পঞ্জিকার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কোন দিনে পালন হবে উৎসব, তবে সাধারণত ১৪ই এপ্রিলেই হয় উৎসবটি। 

লাওসেও সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখের প্রথম দিনটি পালন করা হয়। স্থানীয়ভাবে এর নাম সংক্রান বা পি-মেই, যার মানে নতুন সংক্রান্তি বা নতুন বছর। দেশটিতে তিন দিন ধরে চলে উৎসব আনুষ্ঠানিকতা।

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করা হয়। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মনিপুর, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন নামে পালন হয় বছরের প্রথম মাস বৈশাখের প্রথম দিন। পাঞ্জাবে বৈশাখী, কেরালায় ভিষু, আসামে বিহু, তামিল নাডুতে পুথান্দু, উড়িষ্যায় পান সংক্রান্তি, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায় পহেলা বৈশাখ নামে এই উৎসব হয়ে থাকে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত