বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। তবে এই প্রতীকটির আদি উৎস ছিল মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপ। ১৯৭৮ সালে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাসানী ন্যাপের এই প্রতীকটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দেন প্রখ্যাত রাজনীতিক মশিয়ূর রহমান যাদুমিয়া।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের
আগে নীলফামারীর ডোমারে এক নির্বাচনী জনসভায় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে হাজির হন যাদুমিয়া।
সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ হারেনি, বরং তাকে হারানো হয়েছিল।
সেদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাসানী ন্যাপের সেই প্রিয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ প্রেসিডেন্ট
জিয়ার হাতে তুলে দিয়ে তাকে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন জানান।
মশিয়ূর রহমান যাদুমিয়া ছিলেন ভাসানী ন্যাপের চেয়ারম্যান।
১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী
ফ্রন্ট গঠিত হলে জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান এবং যাদুমিয়া ভাইস চেয়ারম্যান হন। জিয়াউর
রহমান তাকে নিজের ‘পলিটিক্যাল গাইড’ বা রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে মান্য করতেন। যাদুমিয়ার
হাত ধরেই তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা ও রাজনীতিকরা বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক
নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় জয় পান জিয়াউর রহমান। তিনি প্রবীণ জননেতা জেনারেল এম
এ জি ওসমানীকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ
নির্বাচনে যাদুমিয়া নিজে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রথম
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সেই ঐতিহাসিক জনসভা শেষে
জিয়াউর রহমান ডোমার কলেজে গিয়ে কোদাল হাতে ‘খাল খনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সে
সময় তিনি বলেছিলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতিতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প
নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের শেষদিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা
ভাসানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সে সময় প্রবীণ
এই জননেতা ধানের শীষের ছড়া দিয়ে জিয়াকে বরণ করে নিয়েছিলেন, যা ছিল এক সুদূরপ্রসারী
রাজনৈতিক ইঙ্গিত। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ যাদুমিয়ার আকস্মিক মৃত্যু না হলে তিনি
দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতেন বলে তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা ছিল।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ধানের শীষ’ প্রতীক। তবে এই প্রতীকটির আদি উৎস ছিল মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপ। ১৯৭৮ সালে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাসানী ন্যাপের এই প্রতীকটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দেন প্রখ্যাত রাজনীতিক মশিয়ূর রহমান যাদুমিয়া।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের
আগে নীলফামারীর ডোমারে এক নির্বাচনী জনসভায় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে হাজির হন যাদুমিয়া।
সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ হারেনি, বরং তাকে হারানো হয়েছিল।
সেদিন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাসানী ন্যাপের সেই প্রিয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ প্রেসিডেন্ট
জিয়ার হাতে তুলে দিয়ে তাকে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন জানান।
মশিয়ূর রহমান যাদুমিয়া ছিলেন ভাসানী ন্যাপের চেয়ারম্যান।
১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি দলের হাল ধরেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী
ফ্রন্ট গঠিত হলে জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান এবং যাদুমিয়া ভাইস চেয়ারম্যান হন। জিয়াউর
রহমান তাকে নিজের ‘পলিটিক্যাল গাইড’ বা রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে মান্য করতেন। যাদুমিয়ার
হাত ধরেই তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা ও রাজনীতিকরা বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৭৮ সালের ৩ জুনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক
নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় জয় পান জিয়াউর রহমান। তিনি প্রবীণ জননেতা জেনারেল এম
এ জি ওসমানীকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ
নির্বাচনে যাদুমিয়া নিজে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রথম
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সেই ঐতিহাসিক জনসভা শেষে
জিয়াউর রহমান ডোমার কলেজে গিয়ে কোদাল হাতে ‘খাল খনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। সে
সময় তিনি বলেছিলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের উন্নয়নের রাজনীতিতে ধানের শীষের কোনো বিকল্প
নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের শেষদিকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা
ভাসানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সে সময় প্রবীণ
এই জননেতা ধানের শীষের ছড়া দিয়ে জিয়াকে বরণ করে নিয়েছিলেন, যা ছিল এক সুদূরপ্রসারী
রাজনৈতিক ইঙ্গিত। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ যাদুমিয়ার আকস্মিক মৃত্যু না হলে তিনি
দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হতেন বলে তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা ছিল।

আপনার মতামত লিখুন