গ্রামগঞ্জের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতারা একটি প্রবাদ প্রায়ই উচ্চারণ করেন—‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি (বীজ)’| প্রথম শুনলে এই কথাটি অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হতে পারে| কারণ, কোনো ফলের বীজ তার নিজের চেয়ে বড় হওয়া বাস্তবসম্মত নয়| কিন্তু লোকজ প্রবাদ কখনও সরল অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে গভীর জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা এবং সমাজ বাস্তবতার প্রতিফলন| এই প্রবাদটির মধ্যেও তেমনই এক অন্তর্নিহিত তাৎপর্য রয়েছে| এখানে বোঝানো হয়েছে— অনেক সময় ছোট, অবহেলিত বা অপ্রত্যাশিত উৎস থেকেও বড়, বিস্ময়কর ও মূল্যবান কিছু সৃষ্টি হতে পারে| অর্থাৎ, জন্মের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্ম ও যোগ্যতার মাধ্যমে মানুষ নিজের অবস্থানকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে|
এই সত্যটি বোঝাতে একটি সহজ কাহিনি উল্লেখ করা যায়| বহুদিন আগের কথা| এক গ্রামে রাম বিলাস দাস নামে এক দরিদ্র দিনমজুর বাস করতেন| জীবিকার তাগিদে তিনি রাস্তার পাশে বসে পুরনো স্যান্ডেল-জুতা মেরামত ও বুট পালিশ করতেন| সামান্য আয় দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত| দীর্ঘদিন পর তার ঘরে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়| সন্তানের নাম রাখা হয় খোকন দাস| অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী, তবুও সন্তানের লালন-পালনে তিনি কখনও অবহেলা করেননি|
খোকন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে| একসময় তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়| শুরুতে সহপাঠীদের উপহাস ও অবজ্ঞার শিকার হতে হলেও তার মেধা, অধ্যবসায় ও নম্র আচরণের কারণে সে দ্রুত সবার প্রিয় হয়ে ওঠে| তার ফলাফল সবসময় ভালো হতে থাকে| সন্তানের এই অগ্রগতি দেখে রাম বিলাস দাসের মনে এক নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়— তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, যে করেই হোক ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন|
প্রাথমিক শিক্ষা শেষে খোকনকে দূরের একটি হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়| দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না| অনেক সময় তাকে প্রয়োজনীয় বই-খাতা জোগাড় করতে কষ্ট করতে হয়েছে| তবুও সে থেমে থাকেনি| কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়| পরবর্তীতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায় এবং একসময় বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়|
আজ খোকন দাস সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি| মানুষ তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে| কিন্তু তার পিতা এখনও রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন| এই বৈপরীত্য অনেকের চোখে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে| কেউ কেউ বিদ্রূপ করে বলেন—‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’| আবার কেউ বলেন—‘গোবরে পদ্মফুল’| যদিও বাস্তবে গোবরে পদ্মফুল জন্মায় না, তবুও এই উপমার মাধ্যমে বোঝানো হয়— অপ্রত্যাশিত বা অবহেলিত স্থান থেকেও অনন্য সাফল্য জন্ম নিতে পারে|
এই কাহিনি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি সমাজের বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন| ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ও সফল মানুষই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন| তাদের জীবনের শুরু ছিল দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও সংগ্রামের মধ্যে, কিন্তু তারা সেই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে নিজেদের যোগ্যতায় শীর্ষে পৌঁছেছেন|
উদাহরণস্বরূপ, আব্রাহাম লিংকন দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন| তার শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে, কিন্তু তিনি আত্মশিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন| ড. বি. আর. আম্বেদকর চর্মকার পরিবারে জন্ম নিয়েও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ভারতের সংবিধানের প্রধান স্থপতি হন| তিনি সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন|
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও অভাবের মধ্যে বড় হয়েছেন| জীবিকার তাগিদে ছোটবেলায় বিভিন্ন কাজ করতে হলেও তিনি সাহিত্য ও সঙ্গীতে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন| একইভাবে এ. পি. জে. আব্দুল কালাম দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে সংবাদপত্র বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ জোগাতেন, অথচ পরবর্তীতে তিনি একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও ভারতের রাষ্ট্রপতি হন|
এছাড়াও বিশ্ব ইতিহাসে আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে—যারা বস্তি, গ্রাম বা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে রাষ্ট্রনায়ক, দার্শনিক, সাহিত্যিক বা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন| তাদের সবার জীবনে একটি বিষয় অভিন্ন—তারা নিজেদের জন্মপরিস্থিতিকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে মেনে নেননি| বরং কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্মাণ করেছেন|
সমাজে এখনও পেশাভিত্তিক ও শ্রেণীভিত্তিক ম্ববৈষম্য বিদ্যমান| অনেক সময় মানুষ জন্ম বা পারিবারিক অবস্থান দেখে অন্যকে মূল্যায়ন করে| কিন্তু এই ধরনের চিন্তাভাবনা সমাজের অগ্রগতির জন্য বাধা| একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার কর্ম, চরিত্র ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে| জন্মস্থান বা পারিবারিক পটভূমি নয়, বরং তার কাজই তাকে সম্মানিত করে|
‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’—এই প্রবাদের প্রকৃত অর্থ এখানেই নিহিত| এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ হওয়ার সম্ভাবনা সব মানুষের মধ্যেই রয়েছে| প্রয়োজন শুধু সুযোগ, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা|
অতএব, আমাদের সমাজে এমন পরিবেশ ˆতরি করা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়| দরিদ্র বা অবহেলিত পরিবারের সন্তানদের প্রতি অবজ্ঞা না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত| কারণ, আজ যে শিশু অবহেলিত, সঠিক সুযোগ পেলে সে-ই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে পারে|
জন্ম মানুষের হাতে নয়, কিন্তু কর্ম তার নিজের হাতে| তাই ‘জন্ম হোক যেথায়-সেথায়, কর্ম হোক ভালো’—এই আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে গেলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে| এই চেতনা আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেই ‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’ আর কেবল প্রবাদ থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে বাস্তব জীবনের এক অনুপ্রেরণার শক্তি|
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
গ্রামগঞ্জের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতারা একটি প্রবাদ প্রায়ই উচ্চারণ করেন—‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি (বীজ)’| প্রথম শুনলে এই কথাটি অনেকের কাছেই অবাস্তব মনে হতে পারে| কারণ, কোনো ফলের বীজ তার নিজের চেয়ে বড় হওয়া বাস্তবসম্মত নয়| কিন্তু লোকজ প্রবাদ কখনও সরল অর্থে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে গভীর জীবনবোধ, অভিজ্ঞতা এবং সমাজ বাস্তবতার প্রতিফলন| এই প্রবাদটির মধ্যেও তেমনই এক অন্তর্নিহিত তাৎপর্য রয়েছে| এখানে বোঝানো হয়েছে— অনেক সময় ছোট, অবহেলিত বা অপ্রত্যাশিত উৎস থেকেও বড়, বিস্ময়কর ও মূল্যবান কিছু সৃষ্টি হতে পারে| অর্থাৎ, জন্মের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্ম ও যোগ্যতার মাধ্যমে মানুষ নিজের অবস্থানকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে|
এই সত্যটি বোঝাতে একটি সহজ কাহিনি উল্লেখ করা যায়| বহুদিন আগের কথা| এক গ্রামে রাম বিলাস দাস নামে এক দরিদ্র দিনমজুর বাস করতেন| জীবিকার তাগিদে তিনি রাস্তার পাশে বসে পুরনো স্যান্ডেল-জুতা মেরামত ও বুট পালিশ করতেন| সামান্য আয় দিয়ে কোনোমতে সংসার চলত| দীর্ঘদিন পর তার ঘরে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়| সন্তানের নাম রাখা হয় খোকন দাস| অর্থকষ্ট ছিল নিত্যসঙ্গী, তবুও সন্তানের লালন-পালনে তিনি কখনও অবহেলা করেননি|
খোকন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে| একসময় তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়| শুরুতে সহপাঠীদের উপহাস ও অবজ্ঞার শিকার হতে হলেও তার মেধা, অধ্যবসায় ও নম্র আচরণের কারণে সে দ্রুত সবার প্রিয় হয়ে ওঠে| তার ফলাফল সবসময় ভালো হতে থাকে| সন্তানের এই অগ্রগতি দেখে রাম বিলাস দাসের মনে এক নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়— তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, যে করেই হোক ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন|
প্রাথমিক শিক্ষা শেষে খোকনকে দূরের একটি হাইস্কুলে ভর্তি করানো হয়| দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না| অনেক সময় তাকে প্রয়োজনীয় বই-খাতা জোগাড় করতে কষ্ট করতে হয়েছে| তবুও সে থেমে থাকেনি| কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়| পরবর্তীতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায় এবং একসময় বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়|
আজ খোকন দাস সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি| মানুষ তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে| কিন্তু তার পিতা এখনও রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন| এই বৈপরীত্য অনেকের চোখে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে| কেউ কেউ বিদ্রূপ করে বলেন—‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’| আবার কেউ বলেন—‘গোবরে পদ্মফুল’| যদিও বাস্তবে গোবরে পদ্মফুল জন্মায় না, তবুও এই উপমার মাধ্যমে বোঝানো হয়— অপ্রত্যাশিত বা অবহেলিত স্থান থেকেও অনন্য সাফল্য জন্ম নিতে পারে|
এই কাহিনি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি সমাজের বাস্তব চিত্রের প্রতিফলন| ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ও সফল মানুষই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন| তাদের জীবনের শুরু ছিল দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও সংগ্রামের মধ্যে, কিন্তু তারা সেই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে নিজেদের যোগ্যতায় শীর্ষে পৌঁছেছেন|
উদাহরণস্বরূপ, আব্রাহাম লিংকন দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন| তার শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে, কিন্তু তিনি আত্মশিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন| ড. বি. আর. আম্বেদকর চর্মকার পরিবারে জন্ম নিয়েও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ভারতের সংবিধানের প্রধান স্থপতি হন| তিনি সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন|
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও অভাবের মধ্যে বড় হয়েছেন| জীবিকার তাগিদে ছোটবেলায় বিভিন্ন কাজ করতে হলেও তিনি সাহিত্য ও সঙ্গীতে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন| একইভাবে এ. পি. জে. আব্দুল কালাম দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে সংবাদপত্র বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ জোগাতেন, অথচ পরবর্তীতে তিনি একজন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও ভারতের রাষ্ট্রপতি হন|
এছাড়াও বিশ্ব ইতিহাসে আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে—যারা বস্তি, গ্রাম বা নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে রাষ্ট্রনায়ক, দার্শনিক, সাহিত্যিক বা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন| তাদের সবার জীবনে একটি বিষয় অভিন্ন—তারা নিজেদের জন্মপরিস্থিতিকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে মেনে নেননি| বরং কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্মাণ করেছেন|
সমাজে এখনও পেশাভিত্তিক ও শ্রেণীভিত্তিক ম্ববৈষম্য বিদ্যমান| অনেক সময় মানুষ জন্ম বা পারিবারিক অবস্থান দেখে অন্যকে মূল্যায়ন করে| কিন্তু এই ধরনের চিন্তাভাবনা সমাজের অগ্রগতির জন্য বাধা| একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার কর্ম, চরিত্র ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে| জন্মস্থান বা পারিবারিক পটভূমি নয়, বরং তার কাজই তাকে সম্মানিত করে|
‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’—এই প্রবাদের প্রকৃত অর্থ এখানেই নিহিত| এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ হওয়ার সম্ভাবনা সব মানুষের মধ্যেই রয়েছে| প্রয়োজন শুধু সুযোগ, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা|
অতএব, আমাদের সমাজে এমন পরিবেশ ˆতরি করা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়| দরিদ্র বা অবহেলিত পরিবারের সন্তানদের প্রতি অবজ্ঞা না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত| কারণ, আজ যে শিশু অবহেলিত, সঠিক সুযোগ পেলে সে-ই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিতে পারে|
জন্ম মানুষের হাতে নয়, কিন্তু কর্ম তার নিজের হাতে| তাই ‘জন্ম হোক যেথায়-সেথায়, কর্ম হোক ভালো’—এই আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়ে গেলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে| এই চেতনা আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেই ‘বারো হাত বাঙি, তেরো হাত বিচি’ আর কেবল প্রবাদ থাকবে না; এটি হয়ে উঠবে বাস্তব জীবনের এক অনুপ্রেরণার শক্তি|
[লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট]

আপনার মতামত লিখুন