সংবাদ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি: জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে


প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি: জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায়। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমদানি কার্যক্রমে বড় ধরনের পতনের তথ্য না থাকলেও এমন ঘাটতি দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দর ব্যবস্থাপনা ও শুল্ক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো উদ্বেগজনক। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আনা, উচ্চ শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের নামে দেখানো, পণ্যের মূল্য কম দেখানো এবং ঘুষের বিনিময়ে শুল্কায়ন কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের মতে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব অনিয়মকে টিকিয়ে রেখেছে। এর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

বন্দরে অনিয়মের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে। ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত পণ্য ধরা পড়া, উচ্চমূল্যের চালান নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে শুল্ক পরিশোধের তথ্য না পাওয়ার ঘটনা নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। 

বেনাপোল বন্দরে বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রতিদিন প্রবেশ ও বহির্গমন করে। তাই এখানে শুল্ক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি দুর্বল হলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তার প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর শুল্কায়ন, স্ক্যানারসহ বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। সন্দেহজনক চালানগুলোর নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি: জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পায়। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আমদানি কার্যক্রমে বড় ধরনের পতনের তথ্য না থাকলেও এমন ঘাটতি দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দর ব্যবস্থাপনা ও শুল্ক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যে অভিযোগগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো উদ্বেগজনক। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আনা, উচ্চ শুল্কের পণ্যকে কম শুল্কের নামে দেখানো, পণ্যের মূল্য কম দেখানো এবং ঘুষের বিনিময়ে শুল্কায়ন কমিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের মতে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব অনিয়মকে টিকিয়ে রেখেছে। এর ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

বন্দরে অনিয়মের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে। ঘোষণার বাইরে অতিরিক্ত পণ্য ধরা পড়া, উচ্চমূল্যের চালান নিরাপত্তা স্তর পেরিয়ে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ঘোষিত পণ্যের বিপরীতে শুল্ক পরিশোধের তথ্য না পাওয়ার ঘটনা নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে। 

বেনাপোল বন্দরে বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রতিদিন প্রবেশ ও বহির্গমন করে। তাই এখানে শুল্ক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি দুর্বল হলে জাতীয় রাজস্বের ওপর তার প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর শুল্কায়ন, স্ক্যানারসহ বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। সন্দেহজনক চালানগুলোর নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া দরকার। 



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত