সংবাদ

জলবায়ু অভিবাসীদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

জলবায়ু অভিবাসীদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসা মানুষের সমস্যাকে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, একে জননীতির (পাবলিক পলিসি) অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট’ (আরএমএমআরইউ) আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সংক্রান্ত অভিবাসীদের অভিযোজনগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন সমাধান’ শীর্ষক এই কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, “বিজ্ঞান এখনও পৃথিবীর বাইরে মানুষের বাসযোগ্য কোনো গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই আমাদের এই গ্রহকে রক্ষা করতে হবে এবং বাসযোগ্য রাখতে হবে।” তিনি অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে অভিবাসনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরএমএমআরইউ-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, “মাইগ্রেশন মানেই শুধু ঢাকা নয়। যদি বিভাগীয় শহর বা জেলা পর্যায়ে শিল্প-কারখানা ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং রিজনাল গ্রোথ সেন্টার তৈরি করা যায়, তবে মানুষ নিজের এলাকাতেই আয় বাড়াতে পারবে।” তিনি আরও জানান, মানুষ কেবল অর্থনৈতিক কারণে নয়, অনেক সময় রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতেও শহরমুখী হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অভিবাসন ও সুরক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা-তানিতা গ্রেমিঙ্গার এবং দূতাবাসের আঞ্চলিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার আলোচনায় অংশ নেন।

কর্মশালায় যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে:

  • অভিবাসীদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন নিশ্চিত করা।
  • স্থানীয় সরকারের ভূমিকা জোরদার করা।
  • বিভাগীয় শহরগুলোতে শিল্পায়ন বৃদ্ধি করে ঢাকার ওপর চাপ কমানো।

আরএমএমআরইউ-এর সদস্য অধ্যাপক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বিশিষ্ট স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞবৃন্দ।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জলবায়ু অভিবাসীদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরে আসা মানুষের সমস্যাকে কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, একে জননীতির (পাবলিক পলিসি) অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট’ (আরএমএমআরইউ) আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সংক্রান্ত অভিবাসীদের অভিযোজনগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন সমাধান’ শীর্ষক এই কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, “বিজ্ঞান এখনও পৃথিবীর বাইরে মানুষের বাসযোগ্য কোনো গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি। তাই আমাদের এই গ্রহকে রক্ষা করতে হবে এবং বাসযোগ্য রাখতে হবে।” তিনি অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে অভিবাসনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরএমএমআরইউ-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, “মাইগ্রেশন মানেই শুধু ঢাকা নয়। যদি বিভাগীয় শহর বা জেলা পর্যায়ে শিল্প-কারখানা ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং রিজনাল গ্রোথ সেন্টার তৈরি করা যায়, তবে মানুষ নিজের এলাকাতেই আয় বাড়াতে পারবে।” তিনি আরও জানান, মানুষ কেবল অর্থনৈতিক কারণে নয়, অনেক সময় রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচতেও শহরমুখী হয়।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অভিবাসন ও সুরক্ষা বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা-তানিতা গ্রেমিঙ্গার এবং দূতাবাসের আঞ্চলিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দার আলোচনায় অংশ নেন।

কর্মশালায় যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুতির মানবিক মূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে:

  • অভিবাসীদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন নিশ্চিত করা।
  • স্থানীয় সরকারের ভূমিকা জোরদার করা।
  • বিভাগীয় শহরগুলোতে শিল্পায়ন বৃদ্ধি করে ঢাকার ওপর চাপ কমানো।

আরএমএমআরইউ-এর সদস্য অধ্যাপক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বিশিষ্ট স্থপতি ইকবাল হাবিবসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞবৃন্দ।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত