সংবাদ

নির্ধারিত দরে মিলছে না এলপিজি, চাই কঠোর নজরদারি


প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

নির্ধারিত দরে মিলছে না এলপিজি, চাই কঠোর নজরদারি

দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ের দাম ঠিক করে। চলতি মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দুই দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে খুচরা বাজারে তা ২২০০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এলপিজি প্রশ্নে দেশের বাস্তবতা হচ্ছে, এর সরবরাহ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। দেশে মোট এলপিজি চাহিদার ৯৯ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এই বাজারে প্রতিযোগিতা থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে ভোক্তার কাছে বিকল্প সীমিত। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

দাম নির্ধারণের পরও বাজারে তা কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কমিশন নির্দেশনা দিলেও বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে। 

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয়, বিমা খরচ সব মিলিয়ে এলপিজির আমদানি ব্যয় বেড়েছে। সৌদি সিপি ও ট্রেডিং প্রিমিয়ামের বৃদ্ধিও মূল্য সমন্বয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে ভোক্তাকে যদি নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় তাহলে তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। 

বিইআরসি বলেছে, কোনো পর্যায়ে নির্ধারিত দামের বেশি নেয়া যাবে না। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 

কেবল দাম নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আমলে নিয়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


নির্ধারিত দরে মিলছে না এলপিজি, চাই কঠোর নজরদারি

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ের দাম ঠিক করে। চলতি মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দুই দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে খুচরা বাজারে তা ২২০০-২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এলপিজি প্রশ্নে দেশের বাস্তবতা হচ্ছে, এর সরবরাহ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। দেশে মোট এলপিজি চাহিদার ৯৯ শতাংশের বেশি সরবরাহ করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। এই বাজারে প্রতিযোগিতা থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে ভোক্তার কাছে বিকল্প সীমিত। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

দাম নির্ধারণের পরও বাজারে তা কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কমিশন নির্দেশনা দিলেও বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক মূল্য সমন্বয়ের পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে। 

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যায় না। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয়, বিমা খরচ সব মিলিয়ে এলপিজির আমদানি ব্যয় বেড়েছে। সৌদি সিপি ও ট্রেডিং প্রিমিয়ামের বৃদ্ধিও মূল্য সমন্বয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে ভোক্তাকে যদি নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় তাহলে তাদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। 

বিইআরসি বলেছে, কোনো পর্যায়ে নির্ধারিত দামের বেশি নেয়া যাবে না। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 

কেবল দাম নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ আমলে নিয়ে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত