জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন অংশের ৪০ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন কৃষক ও ক্ষেতমজুররা। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতারা।
এর আগে নগরীর গুপ্তপাড়া এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে কয়েক শ নারী-পুরুষ কৃষক ও ক্ষেতমজুর অংশ নেন।
সংগঠনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, সংগঠক ফুলবাবু ও আবদুল আউয়াল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কৃষি খাতের প্রধান সমস্যা হলো উপকরণ ও ফসলের বাজার পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। মজুতদার ও সিন্ডিকেট চক্রের কারণে কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। গত কয়েক বছর ধরে আলু, ধান ও পেঁয়াজ উৎপাদন করে লোকসান গুনছেন চাষিরা। সরকার ধান ও চাল কেনার ঘোষণা দিলেও এর সুফল পাচ্ছেন কেবল মিলমালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে সাধারণ কৃষকরা সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারছেন না।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে সরকার ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে কৃষক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ৭০০-৮০০ টাকায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গ্রামগঞ্জে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টন ধান কেনার দাবি জানান তাঁরা।
ক্ষেতমজুরদের সংকটের কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, বছরে ৯ মাস কাজ না থাকায় ক্ষেতমজুরদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। তাঁদের জন্য দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে ১২০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করা জরুরি। এ ছাড়া প্রবীণ মজুরদের জন্য ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা ও সুলভ মূল্যে রেশনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতারা রংপুর জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপিটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
আপনার মতামত লিখুন