সংবাদ

মাজারের কুমির অবিলম্বে ফেরানোর দাবি কর্তৃপক্ষের


প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

মাজারের কুমির অবিলম্বে ফেরানোর দাবি কর্তৃপক্ষের
বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজার দীঘি থেকে কুমিরটি ধরে নিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ। ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারের দীঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি অবশেষে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। গত সোমবার রাতে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের একটি দল কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার কয়রার বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে মাজারের দীঘিতে ফাতেমা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর পরিপ্রক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সভায় কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আজ বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দীঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মিললে খাবারের প্রলোভন দিয়ে সেটিকে কিনারায় আনা হয়। পরে রশি দিয়ে মুখ বেঁধে গাড়িতে তুলে সেটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘জননিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি সভার মাধ্যমে কুমিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগ সেটিকে উদ্ধার করে খুলনার কয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে গেছে।’

এদিকে মাজারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আমরা ব্যথিত এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু সাড়ে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য এভাবে হুট করে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা অবিলম্বে কুমিরটি দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।’

মাজারে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নিরাপত্তার স্বার্থে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকের মতে, কুমির ছাড়া মাজারের ঐতিহ্য ম্লান হয়ে যাবে। মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে আটজন প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


মাজারের কুমির অবিলম্বে ফেরানোর দাবি কর্তৃপক্ষের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারের দীঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি অবশেষে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। গত সোমবার রাতে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের একটি দল কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার কয়রার বন্যপ্রাণী কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে মাজারের দীঘিতে ফাতেমা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর পরিপ্রক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সভায় কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আজ বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দীঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির দেখা মিললে খাবারের প্রলোভন দিয়ে সেটিকে কিনারায় আনা হয়। পরে রশি দিয়ে মুখ বেঁধে গাড়িতে তুলে সেটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, ‘জননিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি সভার মাধ্যমে কুমিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বন বিভাগ সেটিকে উদ্ধার করে খুলনার কয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে গেছে।’

এদিকে মাজারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ। মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আমরা ব্যথিত এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম। কিন্তু সাড়ে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য এভাবে হুট করে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা অবিলম্বে কুমিরটি দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।’

মাজারে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নিরাপত্তার স্বার্থে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও অনেকের মতে, কুমির ছাড়া মাজারের ঐতিহ্য ম্লান হয়ে যাবে। মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে আটজন প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত