মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মা ও ১৫ মাস বয়সী শিশুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মামলার প্রধান আসামি মো. ইউসূফ মোল্লা (৪২) এবং তার সহযোগী মো. সুমন হোসেন (২৩)। দুজনের বাড়িই দৌলতপুর থানার বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায়। নিহত আমেনা খাতুন (৩২) ইউসূফের আপন ভাবি এবং শিশু আসলাম হোসেন আসাদ তার ভাতিজা।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল ঈদুল আজহার চার-পাঁচ দিন আগে সাভারে আসামির বোনের বাসায়। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনজন-নিহতের দেবর ইউসূফ, ভাগনে সুমন এবং ভাগনে সবুজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার তিন-চার দিন আগে ইউসূফ এলাকায় আসেন।
গত ৩০ মে রাতে দৌলতপুরের বাচামারা কাচারীপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আমেনা খাতুন ও তার শিশুসন্তান আসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। একই সময় আমেনার স্বামী ও ইউসূফের বড় ভাই আবদুস সালাম মোল্লাকে (৪৮) হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ ঘটনায় ৩১ মে দৌলতপুর থানায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযানে নামে ডিবি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি ইউসূফ ও তার সহযোগী সুমনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা দুটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইউসূফ পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। ঘটনায় জড়িত অপর আসামি সবুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
আপনার মতামত লিখুন