সংবাদ

মার্কিন অবরোধে সংকটে ইরান: ‘কয়েক দিনেই পূর্ণ হবে খারগ দ্বীপের তেল সংরক্ষণাগার’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

মার্কিন অবরোধে সংকটে ইরান: ‘কয়েক দিনেই পূর্ণ হবে খারগ দ্বীপের তেল সংরক্ষণাগার’

ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখবে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশিটির ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপের স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে ইরানের দুর্বল তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বেসেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য সীমিত করার মূল লক্ষ্য হলো দেশটির আয়ের প্রধান উৎসে সরাসরি আঘাত করা। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তর ও দেশে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মাত্র পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপটি ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কেন্দ্র। উপকূল থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপটি থেকে ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয়। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই তেল খাত থেকে। অবরোধের কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকলে এবং সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে গেলে তেল উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান নাতাশা ক্যানেভা জানান, ইরানের ওপর এই অবরোধ আলোচনায় চাপ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশটির অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে হলে এই অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সমুদ্রে ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যার একটি বড় অংশই বিভিন্ন গন্তব্যের পথে রয়েছে। এই মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধের চূড়ান্ত প্রভাব বোঝা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


মার্কিন অবরোধে সংকটে ইরান: ‘কয়েক দিনেই পূর্ণ হবে খারগ দ্বীপের তেল সংরক্ষণাগার’

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন স্কট বেসেন্ট। একই সঙ্গে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখবে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশিটির ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির কেন্দ্র খারগ দ্বীপের স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগারগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে ইরানের দুর্বল তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে।

বেসেন্ট আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য সীমিত করার মূল লক্ষ্য হলো দেশটির আয়ের প্রধান উৎসে সরাসরি আঘাত করা। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তর ও দেশে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মাত্র পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপটি ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কেন্দ্র। উপকূল থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপটি থেকে ইরানের মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয়। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই তেল খাত থেকে। অবরোধের কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকলে এবং সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে গেলে তেল উৎপাদন বন্ধ করা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।

জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান নাতাশা ক্যানেভা জানান, ইরানের ওপর এই অবরোধ আলোচনায় চাপ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশটির অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে হলে এই অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সমুদ্রে ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে, যার একটি বড় অংশই বিভিন্ন গন্তব্যের পথে রয়েছে। এই মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধের চূড়ান্ত প্রভাব বোঝা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত