সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আদি যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ শেষ হতে না হতেই ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাসও পার না হতেই বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নদীর তীরের বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাউবোর ২ নম্বর বাঁশবাড়িয়া সেকশনের অধীনে আদি যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার দীর্ঘ এই কাজটিকে ৬টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আলিপুরের আবদুস সালাম ২৫ লাখ এবং আবু জাহিদ পলাশ ১৫ লাখ টাকার কার্যাদেশ পেয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের অনেক জায়গায় পাইলিং সরে গেছে এবং মাটি ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শিডিউল অনুযায়ী ১৩ সেন্টিমিটার ব্যাসের শক্ত খুঁটি এবং ৮ সেন্টিমিটারের বাঁশ ব্যবহারের কথা থাকলেও অত্যন্ত নিম্নমানের ও চিকন সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে খুঁটি দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো ফাঁকা রেখে কাজ শেষ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণ চলাকালে পাউবোর কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদারকি করতে দেখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ওপর তদারকির দায়িত্ব দিয়ে পাউবো কর্মকর্তারা দায় সেরেছেন।
নদীর তীরের প্রবীণ বাসিন্দা আফসার আলী ও মতিয়ার রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা জীবন নদী ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছি। ভেবেছিলাম শক্ত বাঁধ হবে, শান্তিতে ঘুমাতে পারব। কিন্তু এখানে ‘সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল’ অবস্থা হয়েছে। জনগণের রক্ত জল করা ৪০ লাখ টাকা এভাবে জলে গেল। কমিশন আর ঘুষের কারণে নড়বড়ে কাজ করে আমাদের বিপদে ফেলা হয়েছে।’
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার আবদুস সালাম ও জাহিদুর রহমান পলাশ দাবি করেন, তারা নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন। তবে ধসে পড়ার কারণ সম্পর্কে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রমিত হোসেন বলেন, ‘বাঁধের যেসব জায়গায় ধস নেমেছে, সেখানে পুনরায় মেরামত করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারদের বলা হবে।’
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, ‘এটি জরুরি আপদকালীন কাজ ছিল। প্রকল্পের ত্রুটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও বড় ধরনের ধস নামলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন