সংবাদ

হারিয়ে গেছে বাল্লা ট্রেন, পড়ে আছে শুধু স্মৃতি


প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রতিনিধি, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

হারিয়ে গেছে বাল্লা ট্রেন, পড়ে আছে শুধু স্মৃতি
ছবি : সংবাদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা রেলপথ একসময় ছিল এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি এখন কেবল স্মৃতি আর ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। চার দশকের বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি এখন বিলুপ্তির পথে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮-২৯ সালে চুনারুঘাট থেকে বাল্লা পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রুটে চুনারুঘাট জংশনসহ মোট আটটি স্টেশন ছিল—হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, বারকোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও সীমান্তবর্তী বাল্লা।

চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা রপ্তানি ও শ্রমিকদের রেশন, জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী ফেরত আনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগে এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সময় কয়লার ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয় এবং দিনে দুবার ট্রেনটি চলাচল করত।

তবে সময়ের ব্যবধানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় রেলপথটির অবনতি শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ট্রেনটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে চালু হলেও ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের অবকাঠামো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রেলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়ে গেছে। রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এমনকি কিছু রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধেও রেলের জায়গা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার এই রেলপথ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, ‘বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


হারিয়ে গেছে বাল্লা ট্রেন, পড়ে আছে শুধু স্মৃতি

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা রেলপথ একসময় ছিল এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি এখন কেবল স্মৃতি আর ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। চার দশকের বেশি সময় ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি এখন বিলুপ্তির পথে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে ১৯২৮-২৯ সালে চুনারুঘাট থেকে বাল্লা পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রুটে চুনারুঘাট জংশনসহ মোট আটটি স্টেশন ছিল—হবিগঞ্জ বাজার, হবিগঞ্জ কোর্ট, ধুলিয়াখাল, পাইকপাড়া, বারকোটা, সুতাং বাজার, চুনারুঘাট, আমুরোড, আসামপাড়া ও সীমান্তবর্তী বাল্লা।

চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের উৎপাদিত চা রপ্তানি ও শ্রমিকদের রেশন, জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী ফেরত আনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যোগাযোগে এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে সময় কয়লার ইঞ্জিনের পরিবর্তে ডিজেল ইঞ্জিন যুক্ত করা হয় এবং দিনে দুবার ট্রেনটি চলাচল করত।

তবে সময়ের ব্যবধানে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় রেলপথটির অবনতি শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে ট্রেনটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে কয়েক দফা সীমিত পরিসরে চালু হলেও ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চলার পর ২০০২-০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের অবকাঠামো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রেলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়ে গেছে। রেলের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এমনকি কিছু রেলকর্মচারীর বিরুদ্ধেও রেলের জায়গা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন সরকার এই রেলপথ পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, ‘বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত