কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ প্যারাবন পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জ্বলতে থাকা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা কোনো ভূমিকা নিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, আগুন দেওয়ার পর এলাকায় সশস্ত্র পাহারা বসিয়েছে দুর্বৃত্তরা, যাতে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত কেরোসিন ঢেলে বিস্তীর্ণ প্যারাবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসেও বনের ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। শনিবার (৬ জুন) দুপুর পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত। বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরির উদ্দেশ্যে সরকারি এই বনভূমি দখল করা হচ্ছে।
উপকূলীয় বন বিভাগের গোরকঘাটা রেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, এই রেঞ্জের আওতায় ৪২ হাজার ২৯৪ একর প্যারাবন রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকে কয়েক লাখ গাছ কেটে প্রায় আট হাজার একর বনভূমি দখল করে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মার্চ ও এপ্রিলে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছিল। ৫ হাজার একর বন উজাড় ও প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মহেশখালী থানায় একটি মামলাও হয়। ওই মামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাসহ ৩০ জন প্রভাবশালীকে আসামি করা হয়েছিল।
তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসনের অভিযান ও মামলা অনেক ক্ষেত্রে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে কাজ করে। মূল হোতারা আড়ালে থেকে যাওয়ায় সাধারণ শ্রমিকেরা হয়রানির শিকার হন এবং বন ধ্বংস থামে না।
গোরকঘাটা বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মানোয়ার হোসেন বলেন, আগুনের বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, ‘প্যারাবন নিধনকারীদের বিরুদ্ধে এর আগেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আগুন দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন