ইট-পাথর আর সিমেন্টের আধুনিক অট্টালিকার ভিড়ে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এখনো টিকে আছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর। স্থানীয়ভাবে ‘কোঠাঘর’ নামে পরিচিত এসব ঘর শুধু আভিজাত্যের প্রতীকই নয়, বরং তীব্র গরমে প্রশান্তি আর শীতের দিনে উষ্ণতা দেওয়ায় একে ‘প্রাকৃতিক এসি’ হিসেবেও অভিহিত করেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, মাটির ঘরেই মেলে প্রকৃত শান্তির পরশ।
বাঙালির চিরায়ত স্থাপত্যরীতির এই মাটির ঘরগুলোর দেয়াল আড়াই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত চওড়া হয়। কাদা-মাটির সঙ্গে ধানের তুষ, চুন ও কাঠের তক্তা মিশিয়ে অত্যন্ত মজবুত করে এসব ঘর তৈরি করা হতো। দেয়ালের গায়ে খোদাই করা কারুকাজ ও ছোট ছোট কুঠুরি ঘরগুলোকে করে তোলে অনন্য ও দৃষ্টিনন্দন।
সরেজমিনে পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মাটির ঘর দেখা গেছে। এ ছাড়া ডাঙ্গা, গজারিয়া ও চরসিন্দুর ইউনিয়নেও বেশ কিছু ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এসব ঘর। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঘরে টিনের ছাউনির বদলে এসেছে আধুনিক নকশা, আবার কেউ কেউ মাটির দেয়াল রেখে চারপাশে পাকা বারান্দা তৈরি করেছেন।
খাগৈর গ্রামের শিক্ষক নিরঞ্জন দাস বলেন, ‘মাটির ঘরে থেকে যে আরাম পাওয়া যায়, তা এখনকার ইটের দালানে পাওয়া অসম্ভব। আমরা মাটির মানুষ, তাই মাটির ঘরেই সবচেয়ে বেশি শান্তি পাই।’
একই সুর শোনা গেল কুড়াইতলীর সমাজসেবক অপু সেনের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘মাটির ঘর হলো পরিবেশবান্ধব এবং প্রকৃতিনির্ভর। প্রচণ্ড গরমেও এখানে ফ্যান ছাড়াই থাকা যায়।’
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, একসময় এলাকায় যার বাড়িতে মাটির কোঠাঘর থাকত, তাকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিত্তবান মনে করা হতো। বর্তমানে প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় গ্রামে গ্রামে পাকা দালান গড়ে ওঠায় এই মাটির ঘরগুলো ধীরে ধীরে কমে আসছে।
সানের বাড়ির বাসিন্দা সুজন দত্ত মনে করেন, আগামী প্রজন্মের কাছে মাটির ঘর হয়তো রূপকথার মতো মনে হবে। তাই গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে এই পরিবেশবান্ধব ঘরগুলোকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন