পৃথিবীর উষ্ণতম শহরগুলোর একটি জ্যাকোবাবাদ। এখানে তাপমাত্রা ছাড়ায় ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড আর্দ্রতা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখানকার ‘ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা’ মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাহলে কীভাবে বাঁচেন এখানকার মানুষ?
তাপমাত্রা যখন ৫২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, বাতাসে যখন এত আর্দ্রতা যে ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে শরীর ঠাণ্ডা করতে পারে না- সেখানে জীবন কেমন হয়? পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোবাবাদের বাসিন্দারা প্রতিদিন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেন। কখনো ভেজা কাপড়ে, কখনো ছাদে শুয়ে, কখনো এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি কিংবা এক টুকরো তরমুজের আশায়।
জ্যাকোবাবাদে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। অনেক সময় ৫২ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু শুধু তাপমাত্রাই নয়- এখানে আর্দ্রতাও অনেক বেশি।
বিজ্ঞানীরা ‘ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা’ দিয়ে বোঝেন তাপ ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহে জ্যাকোবাবাদে ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীদের মতে, ৩৫ ডিগ্রির উপরে ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা মানুষের বাঁচার জন্য মারাত্মক। জ্যাকোবাবাদ সেই সীমার কাছাকাছি চলে গেছে।জ্যাকোবাবাদের মানুষ প্রাচীন কৌশল মাথায় রেখে ঘর বানান। বাড়ির দেয়ালগুলো হয় মোটা। জানালাগুলো ছোট। বাইরের তাপ যেন ভেতরে না ঢোকে- সেটাই মূল পরিকল্পনা। অনেক বাড়িতেই থাকে ছায়াযুক্ত উঠান। দিনের বেলা সেই উঠান বসার জায়গা হলেও, চরম দুপুরে মানুষ সেখানেও যায় না।
যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঘরে বসান এয়ার কুলার বা ফ্যান। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট। গরমের সময়টাতেই লোডশেডিং বেশি হয়। তাই যারাই পারেন, ছাদে বসিয়ে দেন সোলার প্যানেল। সেটি একটু হলেও বিদ্যুৎ সংকট কমায়।
জ্যাকোবাবাদের মানুষের দিনের রুটিনটা অন্য রকম। ভোরবেলা- যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয়- তখন বাইরে বের হন অনেকে। বাগানে বসেন, আড্ডা দেন। গাছের নিচে চারপায়ে বসে গান গাওয়ার রেওয়াজ আছে।
দশটা বাজার পরেই অবস্থা বদলে যায়। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ। মানুষ ঘরে ঢুকে পড়েন। যারা ঘরের বাইরে কাজ করেন- দিনমজুর, ইটভাটার শ্রমিক, রিকশাচালক- তাদের জন্য এ সময় সবচেয়ে কঠিন।
বিকেল গড়াতে শুরু করলেই আবার বের হন মানুষ। আর রাত তো তাদের জন্য ভয়ঙ্কর। ঘরের ভেতর তাপ জমে থাকায় অনেকেই ছাদে গিয়ে শুতে পছন্দ করেন। গরমে কী খান সেখানকার বাসিন্দারা? তরমুজ খেয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার চেষ্টা থাকে। শসা ও জলের পরিমাণ বেশি এমন ফল-সবজির চাহিদা বাড়ে।রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে বরফ বিক্রেতারা। বড় বড় বরফের চাঁই ছুরি দিয়ে কেটে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। যাদের ঘরে ফ্রিজ নেই, তারা এই বরফ কিনে ঘরে নিয়ে পানিতে মিশিয়ে ঠাণ্ডা পানি পান করেন।
জ্যাকোবাবাদে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা তাপপ্রবাহের সময় পানি বিতরণ ক্যাম্প চালায়। সেখানে পথচারী ও শ্রমিকরা বিনা পয়সায় ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারেন।
জ্যাকোবাবাদের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো ইটভাটায় কাজ করা। সেখানে রোদে পোড়া মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইট সাজাতে হয়। তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়ালেও এই কাজ বন্ধ হয় না। কারণ এই শ্রমিকদের দিন আনে দিন খায়। তাদের অধিকাংশেরই সঞ্চয় নেই। তাই সূর্য যতই ঝলসাক, তাদের নামতে হয় কাজে।
গরমের সময় স্কুলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবু অনেক স্কুলেই কিছু ক্লাস হয়। কিন্তু উপস্থিতি থাকে খুবই কম। শিশুরা গরমে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই ইউনিসেফ গরমের সময় শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।জ্যাকোবাবাদের প্রশাসন তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ‘কুলিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। সেখানে এসে মানুষ কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে পারে।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার জায়গাটিও জোরদার করা হয়েছে। ইউএসএআইডির সহায়তায় জ্যাকোবাবাদ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জেআইএমএস) নির্মিত হয়েছে। এখানে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গরমের সময় হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক রোগীর ভিড় বাড়ে। জ্বর, ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন-এসব নিয়ে আসেন রোগীরা। হাসপাতালগুলোকে ইমার্জেন্সি সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়।
জ্যাকোবাবাদের মানুষের বাঁচার আরেকটি চাবিকাঠি হলো তাদের সামাজিক বন্ধন। প্রতিবেশীরা একে অপরকে সহায়তা করে। কারও ফ্যান নষ্ট হলে পাশের ঘর থেকে ভাগ করে দেওয়া হয়। গরমে কোনো শিশু বা বয়স্ক অসুস্থ হলে পাড়ার লোকজন মিলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
গরমের সময় ঘরের বাইরে বের হওয়া কষ্টকর। তাই মানুষ ঘরেই বিনোদনের ব্যবস্থা করে। লুডো খেলা অনেকের কাছে সময় কাটানোর ভালো উপায়। সন্ধ্যা নামলে আবার গল্পগুজব জমে ওঠে। বাড়ির ছাদে, দোকানের বারান্দায়, গাছতলায়- সব জায়গাতেই আড্ডা বসে। গান গাওয়ারও রেওয়াজ আছে। এই আড্ডাগুলো শুধু বিনোদন নয়, এটি মানসিকভাবে গরম মোকাবিলারও একটি কৌশল।জ্যাকোবাবাদের ভবিষৎ নিয়ে উদ্বেগ আছে। গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি আরও ২ ডিগ্রি বেড়ে যায়, তাহলে এই অঞ্চল অনাবাসযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।বিজ্ঞানীদের মতে, এ অঞ্চলটি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ হটস্পট’। এখানে ইতিমধ্যেই ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে। আর তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
জ্যাকোবাবাদের মানুষ প্রতিদিন যুদ্ধ করেন। কখনো বরফের টুকরো, কখনো ছাদের বাতাস, কখনো এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি- এসব ছোট ছোট উপায়ে তারা টিকে থাকেন। সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থার পানি ক্যাম্প, আর সবচেয়ে বড় কথা- পাড়া-প্রতিবেশীর পারস্পরিক সহায়তায় তারা বাঁচেন।তবে শুধু ‘বাঁচা’ যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আগামী দিনে এই শহর আর কতদিন টিকবে? আর কতদিন মানুষ এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে? জলবায়ু পরিবর্তন থামানো সম্ভব না হলে, জ্যাকোবাবাদের ভবিষৎ অন্ধকার।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
পৃথিবীর উষ্ণতম শহরগুলোর একটি জ্যাকোবাবাদ। এখানে তাপমাত্রা ছাড়ায় ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড আর্দ্রতা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখানকার ‘ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা’ মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাহলে কীভাবে বাঁচেন এখানকার মানুষ?
তাপমাত্রা যখন ৫২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, বাতাসে যখন এত আর্দ্রতা যে ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে শরীর ঠাণ্ডা করতে পারে না- সেখানে জীবন কেমন হয়? পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জ্যাকোবাবাদের বাসিন্দারা প্রতিদিন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেন। কখনো ভেজা কাপড়ে, কখনো ছাদে শুয়ে, কখনো এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি কিংবা এক টুকরো তরমুজের আশায়।
জ্যাকোবাবাদে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। অনেক সময় ৫২ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। কিন্তু শুধু তাপমাত্রাই নয়- এখানে আর্দ্রতাও অনেক বেশি।
বিজ্ঞানীরা ‘ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা’ দিয়ে বোঝেন তাপ ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব। ২০২২ সালের তাপপ্রবাহে জ্যাকোবাবাদে ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীদের মতে, ৩৫ ডিগ্রির উপরে ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা মানুষের বাঁচার জন্য মারাত্মক। জ্যাকোবাবাদ সেই সীমার কাছাকাছি চলে গেছে।জ্যাকোবাবাদের মানুষ প্রাচীন কৌশল মাথায় রেখে ঘর বানান। বাড়ির দেয়ালগুলো হয় মোটা। জানালাগুলো ছোট। বাইরের তাপ যেন ভেতরে না ঢোকে- সেটাই মূল পরিকল্পনা। অনেক বাড়িতেই থাকে ছায়াযুক্ত উঠান। দিনের বেলা সেই উঠান বসার জায়গা হলেও, চরম দুপুরে মানুষ সেখানেও যায় না।
যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ঘরে বসান এয়ার কুলার বা ফ্যান। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট। গরমের সময়টাতেই লোডশেডিং বেশি হয়। তাই যারাই পারেন, ছাদে বসিয়ে দেন সোলার প্যানেল। সেটি একটু হলেও বিদ্যুৎ সংকট কমায়।
জ্যাকোবাবাদের মানুষের দিনের রুটিনটা অন্য রকম। ভোরবেলা- যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয়- তখন বাইরে বের হন অনেকে। বাগানে বসেন, আড্ডা দেন। গাছের নিচে চারপায়ে বসে গান গাওয়ার রেওয়াজ আছে।
দশটা বাজার পরেই অবস্থা বদলে যায়। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ। মানুষ ঘরে ঢুকে পড়েন। যারা ঘরের বাইরে কাজ করেন- দিনমজুর, ইটভাটার শ্রমিক, রিকশাচালক- তাদের জন্য এ সময় সবচেয়ে কঠিন।
বিকেল গড়াতে শুরু করলেই আবার বের হন মানুষ। আর রাত তো তাদের জন্য ভয়ঙ্কর। ঘরের ভেতর তাপ জমে থাকায় অনেকেই ছাদে গিয়ে শুতে পছন্দ করেন। গরমে কী খান সেখানকার বাসিন্দারা? তরমুজ খেয়ে ঠাণ্ডা হওয়ার চেষ্টা থাকে। শসা ও জলের পরিমাণ বেশি এমন ফল-সবজির চাহিদা বাড়ে।রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে বরফ বিক্রেতারা। বড় বড় বরফের চাঁই ছুরি দিয়ে কেটে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। যাদের ঘরে ফ্রিজ নেই, তারা এই বরফ কিনে ঘরে নিয়ে পানিতে মিশিয়ে ঠাণ্ডা পানি পান করেন।
জ্যাকোবাবাদে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা তাপপ্রবাহের সময় পানি বিতরণ ক্যাম্প চালায়। সেখানে পথচারী ও শ্রমিকরা বিনা পয়সায় ঠাণ্ডা পানি পান করতে পারেন।
জ্যাকোবাবাদের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো ইটভাটায় কাজ করা। সেখানে রোদে পোড়া মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইট সাজাতে হয়। তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়ালেও এই কাজ বন্ধ হয় না। কারণ এই শ্রমিকদের দিন আনে দিন খায়। তাদের অধিকাংশেরই সঞ্চয় নেই। তাই সূর্য যতই ঝলসাক, তাদের নামতে হয় কাজে।
গরমের সময় স্কুলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। তবু অনেক স্কুলেই কিছু ক্লাস হয়। কিন্তু উপস্থিতি থাকে খুবই কম। শিশুরা গরমে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই ইউনিসেফ গরমের সময় শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।জ্যাকোবাবাদের প্রশাসন তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ‘কুলিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। সেখানে এসে মানুষ কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নিতে পারে।
এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার জায়গাটিও জোরদার করা হয়েছে। ইউএসএআইডির সহায়তায় জ্যাকোবাবাদ ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (জেআইএমএস) নির্মিত হয়েছে। এখানে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গরমের সময় হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক রোগীর ভিড় বাড়ে। জ্বর, ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন-এসব নিয়ে আসেন রোগীরা। হাসপাতালগুলোকে ইমার্জেন্সি সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়।
জ্যাকোবাবাদের মানুষের বাঁচার আরেকটি চাবিকাঠি হলো তাদের সামাজিক বন্ধন। প্রতিবেশীরা একে অপরকে সহায়তা করে। কারও ফ্যান নষ্ট হলে পাশের ঘর থেকে ভাগ করে দেওয়া হয়। গরমে কোনো শিশু বা বয়স্ক অসুস্থ হলে পাড়ার লোকজন মিলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
গরমের সময় ঘরের বাইরে বের হওয়া কষ্টকর। তাই মানুষ ঘরেই বিনোদনের ব্যবস্থা করে। লুডো খেলা অনেকের কাছে সময় কাটানোর ভালো উপায়। সন্ধ্যা নামলে আবার গল্পগুজব জমে ওঠে। বাড়ির ছাদে, দোকানের বারান্দায়, গাছতলায়- সব জায়গাতেই আড্ডা বসে। গান গাওয়ারও রেওয়াজ আছে। এই আড্ডাগুলো শুধু বিনোদন নয়, এটি মানসিকভাবে গরম মোকাবিলারও একটি কৌশল।জ্যাকোবাবাদের ভবিষৎ নিয়ে উদ্বেগ আছে। গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা যদি আরও ২ ডিগ্রি বেড়ে যায়, তাহলে এই অঞ্চল অনাবাসযোগ্য হয়ে পড়তে পারে।বিজ্ঞানীদের মতে, এ অঞ্চলটি ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ হটস্পট’। এখানে ইতিমধ্যেই ভেজা বাল্ব তাপমাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে। আর তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
জ্যাকোবাবাদের মানুষ প্রতিদিন যুদ্ধ করেন। কখনো বরফের টুকরো, কখনো ছাদের বাতাস, কখনো এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি- এসব ছোট ছোট উপায়ে তারা টিকে থাকেন। সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থার পানি ক্যাম্প, আর সবচেয়ে বড় কথা- পাড়া-প্রতিবেশীর পারস্পরিক সহায়তায় তারা বাঁচেন।তবে শুধু ‘বাঁচা’ যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন থেকেই যায়- আগামী দিনে এই শহর আর কতদিন টিকবে? আর কতদিন মানুষ এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে? জলবায়ু পরিবর্তন থামানো সম্ভব না হলে, জ্যাকোবাবাদের ভবিষৎ অন্ধকার।

আপনার মতামত লিখুন