সংবাদ

লিমন-বৃষ্টি হত্যায় আলোচিত হিশাম আসলে কে?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

লিমন-বৃষ্টি হত্যায় আলোচিত হিশাম আসলে কে?
হিশাম আবুগারবিয়েহ, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন হিশাম আবুগারবিয়েহ। বর্তমানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল তার প্রি-ট্রায়াল শুনানি হবে। বৃষ্টির মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার না হলেও এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে হিশামকে নিয়ে। তার অতীত কী, কেন এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল চরিত্র হয়ে উঠলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হিশামের বর্তমান বয়স ২৬ বা ২৭ বছর। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত ছিলেন। ইউএসএফের এক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক করার জন্য পড়াশোনা করছিলেন।

হিশাম ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে লিমনের সঙ্গে থাকতেন। কত দিন ধরে তারা একসঙ্গে থাকছিলেন অথবা একে অপরের মধ্যে কতদিন ধরে চেনা-জানা তা একদম স্পষ্ট নয়।

তবে হিশামের অতীত ঘেঁটে অপরাধের ইতিহাস পাওয়া যায়। পুলিশি রেকর্ড বলছে, এটি হিশামের প্রথম অপরাধ নয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে চুরি ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া একই বছরে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার দুটি মামলা করেন এক আত্মীয়।

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে হিশামের পারিবারিক বাড়িতে পারিবারিক বিবাদের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়। গোয়েন্দারা তার পরিবারকে নিরাপদে বাড়ি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু হিশাম বের হতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে আসে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাকে বাড়ি থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। দুই হাত উপরে তুলে, খালি গায়ে, কোমরে শুধু একটি টাওয়েল পেঁচিয়ে বাইরে আসেন হিশাম। সেটাই ছিল তার গ্রেপ্তারের দৃশ্য।

কেন সন্দেহে হিশাম: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হিশামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ লোপাট ও বেআইনিভাবে মৃতদেহ রাখা বা সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পরিকল্পিত হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ যোগ করা হয়।

শেরিফ দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যা ধারণা করাচ্ছে- বৃষ্টিও হত্যার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

হিশাম ও লিমন একসঙ্গে ভাড়া করতেন। তারা কত দিন ধরে একসঙ্গে থাকতেন, তা জানা যায়নি। তবে সূত্র বলছে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। সম্প্রতি সেই টানাপড়েন চরমে পৌঁছায়।

তবে হিশাম ও বৃষ্টির মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, তাও জানা যায়নি। গণমাধ্যমে লিমন ও বৃষ্টিকে ‘বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও পরিবার ও পরিচিতজন বলছেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তারা।

হঠাৎ নীরব হিশাম: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর তিনি বেশ খোলামেলা কথা বলছিলেন। আগের দিনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই তিনি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর এই নীরবতা আরও গভীর করেছে সন্দেহ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


লিমন-বৃষ্টি হত্যায় আলোচিত হিশাম আসলে কে?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন হিশাম আবুগারবিয়েহ। বর্তমানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল তার প্রি-ট্রায়াল শুনানি হবে। বৃষ্টির মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার না হলেও এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে হিশামকে নিয়ে। তার অতীত কী, কেন এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল চরিত্র হয়ে উঠলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেকে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হিশামের বর্তমান বয়স ২৬ বা ২৭ বছর। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত ছিলেন। ইউএসএফের এক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক করার জন্য পড়াশোনা করছিলেন।

হিশাম ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে লিমনের সঙ্গে থাকতেন। কত দিন ধরে তারা একসঙ্গে থাকছিলেন অথবা একে অপরের মধ্যে কতদিন ধরে চেনা-জানা তা একদম স্পষ্ট নয়।

তবে হিশামের অতীত ঘেঁটে অপরাধের ইতিহাস পাওয়া যায়। পুলিশি রেকর্ড বলছে, এটি হিশামের প্রথম অপরাধ নয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে চুরি ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া একই বছরে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার দুটি মামলা করেন এক আত্মীয়।

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে হিশামের পারিবারিক বাড়িতে পারিবারিক বিবাদের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়। গোয়েন্দারা তার পরিবারকে নিরাপদে বাড়ি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু হিশাম বের হতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে আসে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তাকে বাড়ি থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। দুই হাত উপরে তুলে, খালি গায়ে, কোমরে শুধু একটি টাওয়েল পেঁচিয়ে বাইরে আসেন হিশাম। সেটাই ছিল তার গ্রেপ্তারের দৃশ্য।

কেন সন্দেহে হিশাম: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হিশামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ লোপাট ও বেআইনিভাবে মৃতদেহ রাখা বা সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ পরিকল্পিত হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ যোগ করা হয়।

শেরিফ দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যা ধারণা করাচ্ছে- বৃষ্টিও হত্যার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

হিশাম ও লিমন একসঙ্গে ভাড়া করতেন। তারা কত দিন ধরে একসঙ্গে থাকতেন, তা জানা যায়নি। তবে সূত্র বলছে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। সম্প্রতি সেই টানাপড়েন চরমে পৌঁছায়।

তবে হিশাম ও বৃষ্টির মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা, তাও জানা যায়নি। গণমাধ্যমে লিমন ও বৃষ্টিকে ‘বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও পরিবার ও পরিচিতজন বলছেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তারা।

হঠাৎ নীরব হিশাম: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর তিনি বেশ খোলামেলা কথা বলছিলেন। আগের দিনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই তিনি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর এই নীরবতা আরও গভীর করেছে সন্দেহ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত