সংবাদ

শামীম ওসমান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নিহতের ভাইয়ের সাক্ষ্য


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

শামীম ওসমান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নিহতের ভাইয়ের সাক্ষ্য
শামীম ওসমান এবং তার ছেলে অয়ন ওসমান

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তার ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনার পর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা জানেন যে আজকে আমাদের আরও একটি মামলা ছিল, শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জের মামলা। সেখানে একজন শহীদের ভাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ অনেকের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি ছুড়ে তাদের হত্যা করার অভিযোগ করেছেন।”

হামলা ও হতাহতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সেখানে অনেক লোক হতাহত হয়েছে। ১৯ জুলাই তারা গুলি ছুড়েছে। ৫ আগস্টও তারা গুলি ছুড়েছে। দুইজনই উপস্থিত থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে সাক্ষী আজ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।”

জুলাই আন্দোলনে নিহতের বড় ভাই পরিচয় দেয়া মামলার প্রথম সাক্ষী মো. আবুল বাশার অনিক ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দিতে জানান, “২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জালকুড়ি-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আন্দোলন চলাকালে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। এতে আদিল ও আবুল হোসেন মিজি নামে দুজন নিহত হন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে তিনি ও তার ভাই চাষাড়া মোড়ের দিকে আন্দোলনে যোগ দিতে যান।”

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, “তখন ল্যাব এইড হাসপাতালের গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে অয়ন ওসমান, তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান, তার শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী, ফরহাদসহ আরও ১০০/২০০ জন অস্ত্রধারী আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি আমার ভাই স্বজনের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।”

জবানবন্দিতে অনিক আরও অভিযোগ করেন, “গুলিবিদ্ধ ভাইকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শামীম ওসমানের নির্দেশ থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেনি বা কোনো চিকিৎসা দেয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাজলা ফ্লাইওভার এলাকায়ও তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানো হয়।”

ঢাকা মেডিকেলে অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরলে স্বজন তার ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হাসিনার পতন হয়েছে কি না।” শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার খবর শুনে স্বজন মুচকি হাসি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। এরপর তিনি আর কোনো কথা বলেননি। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেলে তিনি মারা যান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় অস্ত্র হাতে ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়।

পরে ৪ মার্চ ট্রাইব্যুনাল পলাতক ১২ আসামিকে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। ৫ এপ্রিল মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ১৯ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়।

পরবর্তীতে ১৩ মে ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শামীম ওসমানের নাম উল্লেখসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেয় এবং ১০ জুন মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে।

তদন্তের স্বার্থে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমান ছাড়া মামলার বাকি নয় আসামির নাম প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


শামীম ওসমান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে নিহতের ভাইয়ের সাক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তার ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনার পর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা জানেন যে আজকে আমাদের আরও একটি মামলা ছিল, শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জের মামলা। সেখানে একজন শহীদের ভাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ অনেকের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি ছুড়ে তাদের হত্যা করার অভিযোগ করেছেন।”

হামলা ও হতাহতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সেখানে অনেক লোক হতাহত হয়েছে। ১৯ জুলাই তারা গুলি ছুড়েছে। ৫ আগস্টও তারা গুলি ছুড়েছে। দুইজনই উপস্থিত থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে সাক্ষী আজ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।”

জুলাই আন্দোলনে নিহতের বড় ভাই পরিচয় দেয়া মামলার প্রথম সাক্ষী মো. আবুল বাশার অনিক ট্রাইব্যুনালে তার জবানবন্দিতে জানান, “২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জালকুড়ি-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আন্দোলন চলাকালে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানসহ ১৫০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়। এতে আদিল ও আবুল হোসেন মিজি নামে দুজন নিহত হন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে তিনি ও তার ভাই চাষাড়া মোড়ের দিকে আন্দোলনে যোগ দিতে যান।”

জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, “তখন ল্যাব এইড হাসপাতালের গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে অয়ন ওসমান, তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান, তার শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী, ফরহাদসহ আরও ১০০/২০০ জন অস্ত্রধারী আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি আমার ভাই স্বজনের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ হয়।”

জবানবন্দিতে অনিক আরও অভিযোগ করেন, “গুলিবিদ্ধ ভাইকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শামীম ওসমানের নির্দেশ থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেনি বা কোনো চিকিৎসা দেয়নি। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাজলা ফ্লাইওভার এলাকায়ও তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি চালানো হয়।”

ঢাকা মেডিকেলে অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরলে স্বজন তার ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হাসিনার পতন হয়েছে কি না।” শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার খবর শুনে স্বজন মুচকি হাসি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। এরপর তিনি আর কোনো কথা বলেননি। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেলে তিনি মারা যান।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় অস্ত্র হাতে ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়।

পরে ৪ মার্চ ট্রাইব্যুনাল পলাতক ১২ আসামিকে হাজির হতে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। ৫ এপ্রিল মামলাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ১৯ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়।

পরবর্তীতে ১৩ মে ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শামীম ওসমানের নাম উল্লেখসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেয় এবং ১০ জুন মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে।

তদন্তের স্বার্থে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমান ছাড়া মামলার বাকি নয় আসামির নাম প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন। প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত