সংবাদ

আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের
অধ্যাপক আবুল বারকাত

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আবুল বারকাতের কাস্টোডি (আটক রাখা) কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হয়ে থাকলে তাকে এই আদেশের কপি পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে (এট ওয়ান্স) মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) আবুল বারকাতের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাতের দায়ের করা এক হেবিয়াস কর্পাস (বন্দী প্রদর্শন) রিট পিটিশনের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। এর আগে মঙ্গলবার অরনি বারাকাত এই হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জেষ্ঠ্য আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাদের সাথে ছিলেন আইনজীবী প্রান্ত বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস, যাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) এই হেবিয়াস কর্পাস রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছিল। আজ (বুধবার) শুনানি শেষে আদালত রুলসহ এই তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দেন।

হাইকোর্টের জারিকৃত রুলে, ‘আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কেন আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে না-যাতে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারে যে তাকে আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ছাড়া বা বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি-তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।’

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ‘আবুল বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়ন করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ এ নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।’

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পিটিশনারের খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের (স্পেশাল মেসেঞ্জার) মাধ্যমে এই আদেশ ও রুলের কপি প্রতিপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আদেশ দিয়েছে।

এদিকে, গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার এই অর্থনীতিবিদ আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পান। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। তবে জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। ঐদিনই ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি বিস্ফোরক আইনের পুরোনো মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান তার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। 

আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

অধ্যাপক আবুল বারকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। গত বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে কারাগারে বন্দী অধ্যাপক আবুল বারকাত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


আবুল বারকাতকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক আবুল বারকাতের কাস্টোডি (আটক রাখা) কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অন্য কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো না হয়ে থাকলে তাকে এই আদেশের কপি পাওয়ার সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে (এট ওয়ান্স) মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) আবুল বারকাতের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাতের দায়ের করা এক হেবিয়াস কর্পাস (বন্দী প্রদর্শন) রিট পিটিশনের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। এর আগে মঙ্গলবার অরনি বারাকাত এই হেবিয়াস কর্পাস রিট দায়ের করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জেষ্ঠ্য আইনজীবী সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাদের সাথে ছিলেন আইনজীবী প্রান্ত বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস, যাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মোমতাজ ও মো. জাসিদুল ইসলাম (জনি)।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) এই হেবিয়াস কর্পাস রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছিল। আজ (বুধবার) শুনানি শেষে আদালত রুলসহ এই তাৎক্ষণিক মুক্তির আদেশ দেন।

হাইকোর্টের জারিকৃত রুলে, ‘আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কেন আদালতের সামনে উপস্থিত করা হবে না-যাতে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারে যে তাকে আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ছাড়া বা বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি-তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।’

রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ‘আবুল বারকাতকে হয়রানি, অপদস্থ ও নিপীড়ন করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৫ এ নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।’

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পিটিশনারের খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের (স্পেশাল মেসেঞ্জার) মাধ্যমে এই আদেশ ও রুলের কপি প্রতিপক্ষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আদেশ দিয়েছে।

এদিকে, গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার এই অর্থনীতিবিদ আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পান। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। তবে জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। ঐদিনই ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি বিস্ফোরক আইনের পুরোনো মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানান তার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। 

আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। 

অধ্যাপক আবুল বারকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। গত বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে কারাগারে বন্দী অধ্যাপক আবুল বারকাত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত