সংবাদ

ফরিদপুরে ভাগ্য ফিরছে ৪০ গ্রামবাসীর


নাজিম বকাউল, ফরিদপুর প্রতিনিধি
নাজিম বকাউল, ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

ফরিদপুরে ভাগ্য ফিরছে ৪০ গ্রামবাসীর
গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র বদলে গেছে। ছবি: প্রতিনিধি

ফরিদপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র বদলে দিতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সফল সমাপ্তি হতে চলেছে। জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া (আগলী) ইউনিয়নের পীরেরচর বাজার থেকে হরিহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩টি ব্রিজের নির্মাণকাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুর বিভাগের অধীনে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ায় ভাঙ্গা, মুকসুদপুর ও নগরকান্দা- এই ৩টি উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, আগে এই রাস্তাটি না থাকায় তাদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। নতুন এই সড়ক ও ব্রিজ চালু হলে ৩টি উপজেলার যাতায়াতের সময় নেমে আসবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা খুব দ্রুত ও নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারবে।

রোগীরা জরুরি প্রয়োজনে অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

যোগাযোগের এই আমূল পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লাভবান ও উচ্ছ্বসিত স্থানীয় কৃষকেরা। তারা জানান, অতীতে এই অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল (ধান, পেঁয়াজ, গম, পাট ইত্যাদি) ঘরে তোলা এবং বাজারে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এখন সড়কটি নির্মিত হওয়ায় তারা সরাসরি খেত থেকেই ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা ট্রাকে করে ফসল বাড়ি বা বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন। এতে পরিবহন খরচ যেমন কমছে, তেমনি বাঁচছে শ্রম ও সময়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে কাজ শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম যোগদানের পর কাজের গতি ফেরাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর তাগিদ ও নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করেন। তার নিবিড় তদারকির ফলেই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মালিক নাজমুল হাসান জানান, ‘প্রকল্পটির কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রাখা হয়েছে। আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় কাজের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তার সুনিপুণ তদারকিতে আগামী ২০শে জুনের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।’

সড়ক ও ব্রিজগুলোর কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী ২০ জুনের পর থেকেই এই সুফল ভোগ করতে শুরু করবেন এই অঞ্চলের লাখো মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


ফরিদপুরে ভাগ্য ফিরছে ৪০ গ্রামবাসীর

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র বদলে দিতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সফল সমাপ্তি হতে চলেছে। জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া (আগলী) ইউনিয়নের পীরেরচর বাজার থেকে হরিহাট বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩টি ব্রিজের নির্মাণকাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুর বিভাগের অধীনে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সড়কটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ায় ভাঙ্গা, মুকসুদপুর ও নগরকান্দা- এই ৩টি উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, আগে এই রাস্তাটি না থাকায় তাদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। নতুন এই সড়ক ও ব্রিজ চালু হলে ৩টি উপজেলার যাতায়াতের সময় নেমে আসবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা খুব দ্রুত ও নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারবে।

রোগীরা জরুরি প্রয়োজনে অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।

যোগাযোগের এই আমূল পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি লাভবান ও উচ্ছ্বসিত স্থানীয় কৃষকেরা। তারা জানান, অতীতে এই অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল (ধান, পেঁয়াজ, গম, পাট ইত্যাদি) ঘরে তোলা এবং বাজারে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এখন সড়কটি নির্মিত হওয়ায় তারা সরাসরি খেত থেকেই ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা ট্রাকে করে ফসল বাড়ি বা বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন। এতে পরিবহন খরচ যেমন কমছে, তেমনি বাঁচছে শ্রম ও সময়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে কাজ শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম যোগদানের পর কাজের গতি ফেরাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর তাগিদ ও নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করেন। তার নিবিড় তদারকির ফলেই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মালিক নাজমুল হাসান জানান, ‘প্রকল্পটির কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রাখা হয়েছে। আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় কাজের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। তার সুনিপুণ তদারকিতে আগামী ২০শে জুনের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।’

সড়ক ও ব্রিজগুলোর কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী ২০ জুনের পর থেকেই এই সুফল ভোগ করতে শুরু করবেন এই অঞ্চলের লাখো মানুষ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত