হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ও বিকেলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় তিনজন এবং হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
সুনামগঞ্জে আজ নিহত ব্যক্তিরা হলেন—সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জমির উদ্দিন (৪০), একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জমির হোসেন (৪২) এবং জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের আবু সায়েম (২৩)। অন্যদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে মকছুদ আলী (৪০) নামে এক কৃষক মারা গেছেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পর জমির উদ্দিন দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের জমির হোসেন নদীর ঘাটে নিজের দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের শিকার হন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ধ্যায় হাওরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান আবু সায়েম। এ ছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। সুনামগঞ্জে গত ১৫ দিনে এ নিয়ে বজ্রপাতে মোট আটজনের মৃত্যু হলো। এর আগে গত ১১ এপ্রিল জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন।
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিকেল তিনটার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে নিজের জমিতে ধান কাটছিলেন মকছুদ আলী। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ার সময় কৃষকদের খোলা মাঠে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন