সংবাদ

পিইবি-এমসিসিআই সংলাপ

বিদেশি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ


অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

বিদেশি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ তেমন বাড়ছে না বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় তলানিতে পড়ে আছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) যৌথ সংলাপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এমসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ। সংলাপের বিষয় ছিল, ‘বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন: কেন এটি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। বিশেষ করে জিডিপির তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগের হার অত্যন্ত কম যা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগের হার মাত্র ০.৩৩ শতাংশ। একই সময়ে ভারত এই ক্ষেত্রে ০.৭১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ১.৭৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ৪.২৩ শতাংশ অর্জন করেছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটির হার প্রায় ৯.২৮ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয়, বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

সংলাপে আরও বলা হয়, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ একসময় বাড়লেও তা স্থায়ী গতি পায়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা গেছে। পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতাই দেখা গেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা মূলত পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। নতুন বড় বিনিয়োগ আসার প্রবণতা নাই বললেই চলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং নীতিগত কড়াকড়ি বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর করার ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিনিয়োগের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে রয়েছে, যখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। ফলে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এখন সময়ের দাবি।’ 

মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সময়োপযোগী সংস্কার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।’

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনায় নানা জটিলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জিনিয়া হক উল্লেখ করেন, ‘বিনিয়োগকারীরা দ্রুততা, স্বচ্ছতা এবং নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা চান। ব্যক্তিনির্ভর নীতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠাননির্ভর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।’ 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানি বাজারে প্রবেশের নিশ্চয়তা না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন না। নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জ্বালানি সরবরাহ উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় ছাড়া এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ 

মার্গুব কবির অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান মার্গুব কবির বলেন, ‘পুরোনো ও জটিল প্রক্রিয়াগত আইন সংস্কার না করলে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ হবে না। এটা বিনিয়োগের পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।’ 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া উচ্চমূল্য সংযোজন শিল্পে এগোনো কঠিন।’ 

সংলাপে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘শুধু আলোচনা নয়, এসব সুপারিশকে বাস্তব নীতিতে রূপান্তর করা জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

নতুন সরকারকে সাতটি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা বাজারে স্থিতি আনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। 

একই সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কর আহরণ বাড়ানো, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। আর্থিক খাতে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে যা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে।

রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনা নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একক বা সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন খাতে প্রবেশের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, এমনটা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, সহজ ব্যবসা পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অন্যতম বড় অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে সুপারিশে। শিল্প উৎপাদন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে সুপারিশে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করা হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বিদেশি বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ তেমন বাড়ছে না বরং দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় তলানিতে পড়ে আছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) যৌথ সংলাপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এমসিসিআইয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর রিয়াজ। সংলাপের বিষয় ছিল, ‘বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন: কেন এটি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। বিশেষ করে জিডিপির তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগের হার অত্যন্ত কম যা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগের হার মাত্র ০.৩৩ শতাংশ। একই সময়ে ভারত এই ক্ষেত্রে ০.৭১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ১.৭৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ৪.২৩ শতাংশ অর্জন করেছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটির হার প্রায় ৯.২৮ শতাংশ। এতে স্পষ্ট হয়, বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

সংলাপে আরও বলা হয়, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ একসময় বাড়লেও তা স্থায়ী গতি পায়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা গেছে। পরবর্তী বছরগুলোতে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতাই দেখা গেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা মূলত পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। নতুন বড় বিনিয়োগ আসার প্রবণতা নাই বললেই চলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ এবং নীতিগত কড়াকড়ি বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিয়েছে। মুদ্রানীতি কঠোর করার ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিনিয়োগের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে রয়েছে, যখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন। ফলে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে এগিয়ে নিতে হলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এখন সময়ের দাবি।’ 

মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি গতিশীল করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সময়োপযোগী সংস্কার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।’

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনায় নানা জটিলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জিনিয়া হক উল্লেখ করেন, ‘বিনিয়োগকারীরা দ্রুততা, স্বচ্ছতা এবং নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা চান। ব্যক্তিনির্ভর নীতির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠাননির্ভর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।’ 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং নির্ভরযোগ্য রপ্তানি বাজারে প্রবেশের নিশ্চয়তা না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন না। নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জ্বালানি সরবরাহ উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় ছাড়া এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ 

মার্গুব কবির অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান মার্গুব কবির বলেন, ‘পুরোনো ও জটিল প্রক্রিয়াগত আইন সংস্কার না করলে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ হবে না। এটা বিনিয়োগের পরিবেশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।’ 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া উচ্চমূল্য সংযোজন শিল্পে এগোনো কঠিন।’ 

সংলাপে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘শুধু আলোচনা নয়, এসব সুপারিশকে বাস্তব নীতিতে রূপান্তর করা জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

নতুন সরকারকে সাতটি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রা বাজারে স্থিতি আনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। 

একই সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কর আহরণ বাড়ানো, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। আর্থিক খাতে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে যা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে।

রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনা নিয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একক বা সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন খাতে প্রবেশের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, এমনটা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, সহজ ব্যবসা পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অন্যতম বড় অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে সুপারিশে। শিল্প উৎপাদন এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে সুপারিশে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি তৈরি করা হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত