সংবাদ

ভেজা ধানে চারা গজাচ্ছে, কাঁদছে হাওরের কৃষক


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

ভেজা ধানে চারা গজাচ্ছে, কাঁদছে হাওরের কৃষক
স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজাচ্ছে। ছবি : সংবাদ

সুনামগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। রোদ না থাকায় খলায় স্তূপ করে রাখা ভেজা ধানে অঙ্কুর বা চারা গজিয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়া এই নষ্ট ধান নিয়ে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বজ্রপাত ও বন্যার শঙ্কা উপেক্ষা করে কৃষকেরা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কেটে খলায় এনে স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেসব ধান শুকানোর সুযোগ মিলছে না। দিনের পর দিন ভিজে অবস্থায় স্তূপ করে রাখায় ভেতরে তাপ সৃষ্টি হয়ে ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শনির হাওরপাড়ের কৃষক আলমগীর কবির বলেন, ‘খলায় রাখা প্রায় ৩০ মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি স্তূপেই চারা গজিয়েছে। অনেক ধান নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।’

তাহিরপুরের তরং গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, চড়া দামে শ্রমিক নিয়ে কষ্ট করে ধান ঘরে আনলেও এখন তা পচে যাচ্ছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খোরাক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, জেলায় এভাবে কয়েক লাখ মণ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ধান দীর্ঘ সময় স্তূপ করে রাখায় এমনটি হচ্ছে। বড় কোনো নিরাপদ স্থানে ধান ছড়িয়ে নিয়মিত নাড়াচাড়া করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ধান ঢেকে না রাখেন। জেলার ১০টি ড্রায়ার মেশিন দিয়ে ধান শুকানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অটো রাইস মিল মালিকেরা যাতে কাঁচা ধান কেনেন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ভেজা ধানে চারা গজাচ্ছে, কাঁদছে হাওরের কৃষক

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জে টানা ভারী বর্ষণে বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। রোদ না থাকায় খলায় স্তূপ করে রাখা ভেজা ধানে অঙ্কুর বা চারা গজিয়ে যাচ্ছে। খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়া এই নষ্ট ধান নিয়ে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বজ্রপাত ও বন্যার শঙ্কা উপেক্ষা করে কৃষকেরা বুক সমান পানিতে নেমে ধান কেটে খলায় এনে স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সেসব ধান শুকানোর সুযোগ মিলছে না। দিনের পর দিন ভিজে অবস্থায় স্তূপ করে রাখায় ভেতরে তাপ সৃষ্টি হয়ে ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শনির হাওরপাড়ের কৃষক আলমগীর কবির বলেন, ‘খলায় রাখা প্রায় ৩০ মণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিটি স্তূপেই চারা গজিয়েছে। অনেক ধান নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।’

তাহিরপুরের তরং গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, চড়া দামে শ্রমিক নিয়ে কষ্ট করে ধান ঘরে আনলেও এখন তা পচে যাচ্ছে। একইভাবে সুনামগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খোরাক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, জেলায় এভাবে কয়েক লাখ মণ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ধান দীর্ঘ সময় স্তূপ করে রাখায় এমনটি হচ্ছে। বড় কোনো নিরাপদ স্থানে ধান ছড়িয়ে নিয়মিত নাড়াচাড়া করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা ধান ঢেকে না রাখেন। জেলার ১০টি ড্রায়ার মেশিন দিয়ে ধান শুকানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অটো রাইস মিল মালিকেরা যাতে কাঁচা ধান কেনেন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করে দিতে ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত