মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। ইতিহাসের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে এই দিনটি। ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে একটি শ্রমিক সমাবেশে সংঘটিত রক্তাক্ত ঘটনাবলি এর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। পুলিশ সেদিন গুলি চালিয়ে ৫ শ্রমিককে হত্যা করে। সেদিন শ্রমিকরা শুধু ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতেই সমাবেশ আহ্বান করেননি, তার আগের দিন অর্থাৎ ৩ মে ধর্মঘটী শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়ে পুলিশ এক শ্রমিককে হত্যা করেছিল, সেই শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ জানাতেও শ্রমিকরা এসেছিলেন ওই সমাবেশে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ১ মে পালন করা শুরু হয় ১৮৯০ সাল থেকে। কালক্রমে শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃতি পায়। আইএলও সনদের শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সেটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণ, পরিবহন, কৃষি প্রতিটি খাতে তাদের অবদান রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কি ঠিকমতো পাচ্ছেন শ্রমিকরা। শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ কি হয়? মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের প্রায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা গেছে? শ্রমিকদের আয় এবং জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এটা একটা দুশ্চিন্তার বিষয়।
মে দিবসের তাৎপর্য হলো শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক থাকাও জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও তাদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা দরকার। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হলে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে অনেক খাতের শ্রমিকদেরকে আজও আন্দোলন করতে দেখা যায়। কাজেই মে দিবসকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর মূল চেতনা বাস্তবায়ন করা দরকার। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও অন্যতম শর্ত।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। ইতিহাসের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে এই দিনটি। ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে একটি শ্রমিক সমাবেশে সংঘটিত রক্তাক্ত ঘটনাবলি এর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। পুলিশ সেদিন গুলি চালিয়ে ৫ শ্রমিককে হত্যা করে। সেদিন শ্রমিকরা শুধু ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতেই সমাবেশ আহ্বান করেননি, তার আগের দিন অর্থাৎ ৩ মে ধর্মঘটী শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়ে পুলিশ এক শ্রমিককে হত্যা করেছিল, সেই শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ জানাতেও শ্রমিকরা এসেছিলেন ওই সমাবেশে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ১ মে পালন করা শুরু হয় ১৮৯০ সাল থেকে। কালক্রমে শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃতি পায়। আইএলও সনদের শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন সেটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে নির্মাণ, পরিবহন, কৃষি প্রতিটি খাতে তাদের অবদান রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কি ঠিকমতো পাচ্ছেন শ্রমিকরা। শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ কি হয়? মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের প্রায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত করা গেছে? শ্রমিকদের আয় এবং জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এটা একটা দুশ্চিন্তার বিষয়।
মে দিবসের তাৎপর্য হলো শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক থাকাও জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও তাদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা দরকার। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হলে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে অনেক খাতের শ্রমিকদেরকে আজও আন্দোলন করতে দেখা যায়। কাজেই মে দিবসকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর মূল চেতনা বাস্তবায়ন করা দরকার। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও অন্যতম শর্ত।

আপনার মতামত লিখুন