রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যার রায় দিয়েছে আদালত। মামলার দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় দেয়া হলো। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
দেশের ইতিহাসে এত দ্রুত আর কোনো মামলার রায় হয়েছে বলে আমাদের অন্তত জানা নেই। আমরা এই রায়কে সতর্কতার সঙ্গে সাধুবাদ জানাতে চাইব। বিচারে কালক্ষেপণ কাম্য নয়। বিচার দ্রুত হওয়া ভালো। তবে দ্রুত বিচারে কারও আইনি অধিকার যেন ক্ষতুœ না হয়, কোনো কারণে ন্যায়বিচার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। উল্লিখিত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ের আইনজীবী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভিকটিমের অভিভাবকও রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এটুকু আশ্বস্ত হওয়ার মতো।
এই মামলায় এত দ্রুত বিচার হতে পারলো কীভাবে সেটা একটা প্রশ্ন। পল্লবীর ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। ঘটনার বিচারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
রাষ্ট্র যদি তৎপর হয়, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ যদি যার যার কাজটা ঠিক ঠিক করে তাহলে বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। এই ঘটনা আবার আমাদেরকে এই প্রশ্নের মুখেও দাঁড় করিয়ে দেয় যে, তাহলে কি দ্রুত বিচার পেতে হলে ঘটনাকে ভাইরাল হতে হবে? কোন অপরাধ ঘটার পর দেশে ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ সৃষ্টি হলেই কি কেবল প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত চার মাসে কমপক্ষে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ১৭ শিশু। এসব মামলার কতটির দ্রুত বিচার হয়েছে? বা কোনো ঘটনার বিচারের পর কতটির রায় কার্যকর হয়েছে?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৯৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৫টি। উল্লিখিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ হাজার ৩১টি শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ৩১০টি শিশু।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারের সময়সীমা স্পষ্টভাবে বলা আছে। অভিযোগ হচ্ছে, সেই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পল্লবীর ঘটনায় রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে। এটা ইতিবাচক। এর সঙ্গে আমরা যোগ করতে চাই, কেবল এই একটি মামলায় নয়, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সব মামলার বিচার যথাসময়ে হওয়া ও তার রায় কার্যকর করা জরুরি। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন বিচার পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে পল্লবীর মামলার দ্রুত বিচার একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হয়েই থাকবে, দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে না।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু ধর্ষণের পর হত্যার রায় দিয়েছে আদালত। মামলার দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় দেয়া হলো। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
দেশের ইতিহাসে এত দ্রুত আর কোনো মামলার রায় হয়েছে বলে আমাদের অন্তত জানা নেই। আমরা এই রায়কে সতর্কতার সঙ্গে সাধুবাদ জানাতে চাইব। বিচারে কালক্ষেপণ কাম্য নয়। বিচার দ্রুত হওয়া ভালো। তবে দ্রুত বিচারে কারও আইনি অধিকার যেন ক্ষতুœ না হয়, কোনো কারণে ন্যায়বিচার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। উল্লিখিত মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ের আইনজীবী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভিকটিমের অভিভাবকও রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এটুকু আশ্বস্ত হওয়ার মতো।
এই মামলায় এত দ্রুত বিচার হতে পারলো কীভাবে সেটা একটা প্রশ্ন। পল্লবীর ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। ঘটনার বিচারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অঙ্গীকার করা হয়েছিল।
রাষ্ট্র যদি তৎপর হয়, সংশ্লিষ্ট সবপক্ষ যদি যার যার কাজটা ঠিক ঠিক করে তাহলে বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। এই ঘটনা আবার আমাদেরকে এই প্রশ্নের মুখেও দাঁড় করিয়ে দেয় যে, তাহলে কি দ্রুত বিচার পেতে হলে ঘটনাকে ভাইরাল হতে হবে? কোন অপরাধ ঘটার পর দেশে ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ সৃষ্টি হলেই কি কেবল প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত চার মাসে কমপক্ষে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ১৭ শিশু। এসব মামলার কতটির দ্রুত বিচার হয়েছে? বা কোনো ঘটনার বিচারের পর কতটির রায় কার্যকর হয়েছে?
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১১ হাজার ৯৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৫টি। উল্লিখিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ হাজার ৩১টি শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ৩১০টি শিশু।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিচারের সময়সীমা স্পষ্টভাবে বলা আছে। অভিযোগ হচ্ছে, সেই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, পল্লবীর ঘটনায় রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে। এটা ইতিবাচক। এর সঙ্গে আমরা যোগ করতে চাই, কেবল এই একটি মামলায় নয়, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সব মামলার বিচার যথাসময়ে হওয়া ও তার রায় কার্যকর করা জরুরি। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন বিচার পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে পল্লবীর মামলার দ্রুত বিচার একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হয়েই থাকবে, দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে না।

আপনার মতামত লিখুন