সংবাদ

‘চুরি করতে আসিনি, ব্যবসা করতে এসেছি’: এনবিআরের বিরুদ্ধে বারভিডার ক্ষোভ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

‘চুরি করতে আসিনি, ব্যবসা করতে এসেছি’: এনবিআরের বিরুদ্ধে বারভিডার ক্ষোভ

  • ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানিতে ব্যবসা ছাড়ার উপক্রম
  • চট্টগ্রামে ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অডিটের নামে বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট সংক্রান্ত হয়রানির তীব্র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)

শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। এতে অনেক ব্যবসায়ী এখন ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসছি, চুরি করার জন্য আসিনি। আমাদের ভ্যাট আইন আছে, কিন্তু আইন কার্যকর না করে ভ্যাট অফিসাররা যে যেভাবে পারছেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মর্জি মতো আইন প্রয়োগ করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীরা সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে তারা সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চাই। দয়া করে এমন একটি ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা করুন যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ওপর বিশেষ বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ভ্যাট অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা যুক্তিসঙ্গত নয়। অডিট সাধারণত থেকে ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত, কিন্তু সেখানে প্রায় সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারির সময় যখন অফিস বন্ধ ছিল, সেই বছর আগের হিসাব এখন চাওয়া হচ্ছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।

সবশেষে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক আগামী বাজেটের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর শুল্ক কমানো এখন সময়ের দাবি।

তিনি মনে করেন, জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কর ছাড় দিলে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


‘চুরি করতে আসিনি, ব্যবসা করতে এসেছি’: এনবিআরের বিরুদ্ধে বারভিডার ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

  • ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানিতে ব্যবসা ছাড়ার উপক্রম
  • চট্টগ্রামে ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অডিটের নামে বৈষম্যের অভিযোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট সংক্রান্ত হয়রানির তীব্র অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)

শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। এতে অনেক ব্যবসায়ী এখন ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসছি, চুরি করার জন্য আসিনি। আমাদের ভ্যাট আইন আছে, কিন্তু আইন কার্যকর না করে ভ্যাট অফিসাররা যে যেভাবে পারছেন ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা নিজেদের মর্জি মতো আইন প্রয়োগ করছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ীরা সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও বর্তমানে তারা সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চাই। দয়া করে এমন একটি ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা করুন যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ওপর বিশেষ বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে ভ্যাট অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা যুক্তিসঙ্গত নয়। অডিট সাধারণত থেকে ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত, কিন্তু সেখানে প্রায় সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, করোনা মহামারির সময় যখন অফিস বন্ধ ছিল, সেই বছর আগের হিসাব এখন চাওয়া হচ্ছে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।

সবশেষে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক আগামী বাজেটের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর শুল্ক কমানো এখন সময়ের দাবি।

তিনি মনে করেন, জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কর ছাড় দিলে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। বিনিয়োগ কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামো প্রণয়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত