সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা: স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা, ইভিএম নিরাপত্তায় প্রশ্ন


প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা: স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা, ইভিএম নিরাপত্তায় প্রশ্ন
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনায় স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা।

ভোটপর্ব শেষ দুদিন আগেই। এখন গোনার অপেক্ষা। সেটা ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গে উত্তাপ, উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে স্ট্রং রুম ও ইভিএম নিরাপত্তা। ভোট গোনা হবে ৪ মে। সেদিনই জানা যাবে ফল।

কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় স্ট্রং রুম ঘিরে অভিযোগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রং রুমে রাখা হয়ে দুই পর্বে হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের ভোটের যন্ত্র — ইভিএম, যেখানে আছে ভোটারদের রায়।

কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে, যেখানে উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানেই শনিবার সকালে ঘটে যায় বিতর্কিত ঘটনা। শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজাকে পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও স্ট্রং রুম চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়, এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কলকাতা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থী বা তাদের এজেন্টরা স্ট্রং রুমের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু সেই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি ও অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে।

আর, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে থাকা স্ট্রং রুম নিয়েও বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিসিটিভি মনিটর বন্ধ ছিল। এই স্ট্রং রুমেই বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর ও দেগঙ্গা- চারটি কেন্দ্রের ইভিএম রাখা রয়েছে। 

তৃণমূল প্রার্থীদের দাবি, নজরদারির এই ফাঁকফোকর অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্ট্রং রুমের ভেতরের সিসিটিভি সচল ছিল- কেবল বাইরের মনিটরে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। তবুও বিরোধীদের দাবি, সেই সময়ের সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে, না হলে সন্দেহ থেকেই যাবে।

এই আবহে বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে- তাদের প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুমে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা এবং উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

শুধু কলকাতা বা বারাসত নয়, রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে খবর। কোথাও সিসিটিভি কাজ না করা, কোথাও প্রবেশাধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি - সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

বর্তমানে প্রতিটি স্ট্রং রুমেই কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টার নজরদারিতে রাখা হয়েছে ইভিএম। তবুও রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্তই রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের পরেও ‘যুদ্ধ’ থামেনি- তা এখন স্থানান্তরিত হয়েছে স্ট্রং রুমের দরজার সামনে। গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে চাপ, নজরদারি এবং রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা: স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা, ইভিএম নিরাপত্তায় প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

ভোটপর্ব শেষ দুদিন আগেই। এখন গোনার অপেক্ষা। সেটা ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গে উত্তাপ, উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এবার কেন্দ্রবিন্দুতে স্ট্রং রুম ও ইভিএম নিরাপত্তা। ভোট গোনা হবে ৪ মে। সেদিনই জানা যাবে ফল।

কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় স্ট্রং রুম ঘিরে অভিযোগ, উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রং রুমে রাখা হয়ে দুই পর্বে হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের ভোটের যন্ত্র — ইভিএম, যেখানে আছে ভোটারদের রায়।

কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে, যেখানে উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানেই শনিবার সকালে ঘটে যায় বিতর্কিত ঘটনা। শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজাকে পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও স্ট্রং রুম চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’ ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়, এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কলকাতা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থী বা তাদের এজেন্টরা স্ট্রং রুমের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যেতে পারেন। কিন্তু সেই নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি ও অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে।

আর, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজে থাকা স্ট্রং রুম নিয়েও বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিসিটিভি মনিটর বন্ধ ছিল। এই স্ট্রং রুমেই বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর ও দেগঙ্গা- চারটি কেন্দ্রের ইভিএম রাখা রয়েছে। 

তৃণমূল প্রার্থীদের দাবি, নজরদারির এই ফাঁকফোকর অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।

যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্ট্রং রুমের ভেতরের সিসিটিভি সচল ছিল- কেবল বাইরের মনিটরে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। তবুও বিরোধীদের দাবি, সেই সময়ের সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে, না হলে সন্দেহ থেকেই যাবে।

এই আবহে বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে- তাদের প্রতিনিধিদের স্ট্রং রুমে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা এবং উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

শুধু কলকাতা বা বারাসত নয়, রাজ্যের আরও কয়েকটি জায়গা থেকেও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে খবর। কোথাও সিসিটিভি কাজ না করা, কোথাও প্রবেশাধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি - সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।

বর্তমানে প্রতিটি স্ট্রং রুমেই কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টার নজরদারিতে রাখা হয়েছে ইভিএম। তবুও রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্তই রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের পরেও ‘যুদ্ধ’ থামেনি- তা এখন স্থানান্তরিত হয়েছে স্ট্রং রুমের দরজার সামনে। গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে চাপ, নজরদারি এবং রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত